শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১:৫৪ ঢাকা, শনিবার  ১৫ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

নেতা কর্তৃক নিজকে ধর্ষণের দৃশ্য ভিডিও করলেন ছাত্রী

এক নেতার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করেছেন এক কলেজছাত্রী নিজেই। চাকরির টোপ দিয়ে ওই কলেজ ছাত্রীকে দিনের পর দিন সহবাসে বাধ্য করার অভিযোগ করেছেন তিনি।
ছাত্রীটির দাবি, পুলিশে অভিযোগ জানানোর কথা বলায় রীতিমতো হুমকি দিয়ে তার মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করেন শহীদুল। ওই ছাত্রী তখন মরিয়া হয়ে লোকলজ্জা উপেক্ষা করে ওই নেতার সঙ্গে তার সহবাসের ছবি ও কথোপকথন মোবাইল ফোনে ‘ভিডিও রেকর্ড’ করেন। এটা দেখেই পুলিশ শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা হলদিবাড়ি ব্লকের প্রাক্তন সম্পাদক শহীদুল আলম প্রধান ওরফে কমলকে শহীদুলকে গ্রেপ্তার করেছে।

তবে তার পর থেকে শহীদুলের উপর থেকে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ওই ছাত্রী। শুক্রবার ওই ছাত্রী বলেন, ‘আমাকে হুমকি আগেও অনেকবার দেওয়া হয়েছে। তাতে যদি ভয় পেতাম, তা হলে ঝুকি নিয়ে ভিডিও তুলতে পারতাম না।’ ওই ছাত্রীর শুভাকাঙ্খীদের দাবি, শহীদুলকে বাঁচাতে তৃণমূলের কিছু নেতা সক্রিয়।

ছাত্রীটি জানান, বাড়ির সকলের ভয়ের কথা পুলিশকে জানিয়েছি। কোচবিহারের পুলিশ সুপার রাজেশ যাদব জানান, অভিযুক্ত এখনও জেলে রয়েছেনন তিনি বলেন, ছাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সব রকম পদক্ষেপ করছে। তৃণমূলের হলদিবাড়ির ব্লক সভাপতি গোপাল রায়ের দাবি, শহীদুলকে ২০১১ সালেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু সে তুফানগঞ্জের বিধায়ক অর্ঘ্য রায়প্রধানের ছায়াসঙ্গী হয়ে দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ভিড়ত।

এলাকার দলের অন্য নেতারাও জানিয়েছেন, শহীদুল এলাকায় দাপটের সঙ্গেই তৃণমূল করতেন। ছাত্রীটি যে কলেজে পড়তেন, তার পরিচালন সমিতির সদস্যও ছিলেন শহীদুল। গোপালবাবু জানান, অর্ঘ্যবাবুর সঙ্গী হওয়াতেই শহীদুল কলেজের কমিটিতেও ঢোকে। শহীদুলের সঙ্গে সখ্য অস্বীকার করেননি অর্ঘ্যবাবুও। তিনি অবশ্য দাবি করেন, শহীদুল গ্রেপ্তারের দু’দিন আগে সমিতি থেকে ইস্তফা দিয়েছে। এখন আইন আইনের পথে চলবে। তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ জানান, ওই ছাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে বলা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত বছরখানেক আগে। ছাত্রীটি তখন এলাকার ওই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া। তিনি জানান, সে সময় কলেজে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হলে তাকে আবেদন করার পরামর্শ দেন পূর্বপরিচিত শহীদুলই। ছাত্রীটির অভিযোগ, এর পর থেকেই চাকরির টোপ দিয়ে বারবার মদ খাইয়ে তার সঙ্গে সহবাস করেন শহীদুল। কিন্তু কলেজে ওই পদে অন্য একজনকে নিযুক্ত করা হবে জানতে পেরে ছাত্রীটি থানায় অভিযোগ জানাবেন বলে ঠিক করেন। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া মামলা করার সাহস পুলিশের নেই বলে হুমকি দেন শহীদুল। তার পরেই জমানো টাকা দিয়ে একটি থ্রি জি মোবাইল কেনেন ওই ছাত্রী। গত ২৪ সেপ্টেম্বর শহীদুল তাকে ফের ডেকে পাঠালে তিনি মোবাইল ক্যামেরায় ঘটনা রেকর্ড করে নেন। ওই ছাত্রীর দাবি, ১৭ অক্টোবর থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ তা নিতে ইতস্তত করে। তিনি বলেন, তখন আমি আইসির ঘরে ঢুকে মোবাইলের ভিডিও চালিয়ে দেখালে তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান। পরে শহীদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

Like & share করে অন্যকে দেখার সুযোগ দিন