পিবিআই) এর হেডকোয়ার্টার্সে সংবাদ সম্মেলন
ধানমন্ডিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর হেডকোয়ার্টার্সে সংবাদ সম্মেলন

নুসরাত হত্যায় ১৩ জন জড়িত : পিবিআই

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে অগ্নিসংযোগ করে হত্যার ঘটনার সঙ্গে ১৩ জনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআই জানিয়েছে নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় বিভিন্ন জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামীদেরকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে।

আজ শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর হেডকোয়ার্টার্সে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।

ব্রিফিং এ পিবিআইয়ের ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বিপিএম,পিপিএম জানান, সোনাগাজী মডেল থানায় রুজুকৃত মামলার তদন্তভার ৯ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে পিবিআই এর উপর অর্পিত হলে নুসরাত জাহান রাফির গায়ে অগ্নিসংযোগ করে হত্যার ঘটনার সঙ্গে ১৩ জনের সংশ্লিষ্টতা পায় পিবিআই। এর মধ্যে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্যান্যদেরকে গ্রেফতার করার জন্য অভিযান চলমান রয়েছে। পিবিআই এর ৬ টি ইউনিট এই অভিযান পরিচালনা করছে ।

তিনি আরও জানান, নুসরাতের গায়ে সরাসরি আগুন দেয় বোরকা পরিহিত যে ৪ জন তার মধ্যে এক নারীসহ দুই জনকে চিহ্নিত করা গেছে। বোরকা পরিহিত ৪ জনের মধ্যে ছেলে ও মেয়ে উভয়েই ছিল। আগুন দিয়ে মাদ্রাসার মূল গেট দিয়েই পালিয়ে যায় তারা।

উল্লেখ্য, নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিল। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা এর আগে তাকে যৌন নিপীড়ন করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যায় নুসরাত। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। তাকে মামলা তুলে নেওয়ার কথা বলে ভয় দেখানো হয়। পরে সেখানে বোরকা পরিহিত ৪ জন নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে তার স্বজনরা প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

সোমবার (৮ এপ্রিল) দগ্ধ মাদ্রাসা ছাত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে ঢামেকের ডাক্তাররা জানান, নাজুক শারীরিক অবস্থার কারণে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া সম্ভব নয়। ১০ এপ্রিল ২০১৯ বুধবার রাতে অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যায়।