Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:১৯ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি

“নিয়ন্ত্রিত বিচার ব্যবস্থায় ‘ন্যায়বিচার’ পাওয়া অসম্ভব”

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, নিয়ন্ত্রিত বিচার ব্যবস্থায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ কারো ন্যায় বিচার পাওয়া সম্ভব নয়। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আজ এ কথা বলেন তারা।

তারা বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা এবং তারেক রহমানসহ অন্য কারো ন্যায় বিচার পাওয়া সম্ভব নয়। তারেক রহমানের মামলায় খালাস দেওয়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার দেশ ত্যাগ এবং তার বিরুদ্ধে দুদককে লেলিয়ে দেওয়ায় উচ্চ আদালত থেকে নিম্ন আদালত পর্যন্ত আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন- সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাবির আইন বিভাগের অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান।

আ স ম আব্দুর রব বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিতাড়ন জাতিকে একটি সংকটে ফেলেছে। যে দেশে প্রধান বিচারপতি বিচার পায় না, সে দেশে খালেদা-তারেক আমরা কেউ বিচার পাবে না। তিনটি স্তম্ভের একটি প্রশাসন, যেটা এখন পুলিশ নিয়ন্ত্রিত এবং রাষ্ট্রটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বাকি দুটি স্তম্ভ (বিচার ও আইন) অসহায় হয়ে পড়েছে।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকলে তিন বারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে আজ জেলে যেতে হতো না। তারেক রহমানের ওপর এই ধরনের নির্যাতন হতো না। আমাদের লড়াই করতে হবে বিচার বিভাগের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণের জন্য।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতি চার বিচারপতিকে ডেকে নিয়ে গেলেন, তাদেরকে শিখিয়ে দিলেন। তারা এসে রাষ্ট্রপতির কথা মতো বললেন, তোমার সঙ্গে (সুরেন্দ্র কুমার সিনহা) আমরা বিচারে বসবো না। অভিযোগের মামলা দায়েরের আগেই অভিযোগের বিচার হয়ে গেলো। সাবেক প্রধান বিচারপতিকে বের করে দেওয়া হয়েছে, আইনজীবীদের অনৈক্যের কারণে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

গণতান্ত্রিক আইনজীবী ফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশে নিয়ন্ত্রিত বিচার ব্যবস্থা চলছে। ১৬ কোটি মানুষ আজ অবরুদ্ধ। দেশের মানুষ আজ কারাগারে। একদিনের জন্য একটা ভোটের মহড়া হয়। এই সরকার ২০০৮ সালে নির্বাচিত হয়েছিল। এখন এই সরকার একটি অনির্বাচিত ও অবৈধ সরকার।

বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ বলেন, উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে তারেক রহমানের বাক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশে এখন কোনও ন্যায়বিচারের পরিবেশ নেই। বিচারকরাই যেখানে আতঙ্কিত, সেখানে খালেদা-তারেক বা বিরোধী দলের কারও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নেই।