ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১০:২০ ঢাকা, রবিবার  ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

আসাদুজ্জামান খান কামাল
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফাইল ফটো

‘নিহত বন্দুকধারীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে’- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলায় নিহত বন্দুকধারীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে বলা যাবে, আসলে তারা কারা?

রোববার বিকালে ইউনাইটেড হাসপাতালে আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বিভিন্ন গণমাধ্যম দাবি করছে হামলায় জড়িতরা আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত, আসলে তারা করা- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই সমস্ত ছেলেগুলো যারা নিহত হয়েছে এবং যারা জঙ্গি হিসেবে শনাক্ত হচ্ছে, এদের বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে, তদন্ত শেষ হলে বলতে পারবো, তারা কারা?’

তিনি বলেন, ‘অভিযানে নিহতরা সবাই বাংলাদেশী। তাদের কেউ বিদেশী নয়, কিংবা বিদেশীদের সঙ্গে কোনো কানেকশন (সম্পর্ক) আছে বলে মনে হয় না। এদেশের লোকজনের পরামর্শেই তারা কাজ করছে।’

এ সময় আসাদুজ্জামান খান জানান, এখনও ২২ জন আহত পুলিশ অফিসার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঢাকা মেডিকেলেও তিন পুলিশ অফিসার চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়াও অনেকে আহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পুলিশ সদস্যরা পুরো ঘটনাস্থলটিকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছিল যাতে কেউ পালাতে না পারে। ওই সময় তাদের ওপর হামলা হয়েছে। এত হতাহতের পরও তারা স্থান ত্যাগ করেনি। আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, পুলিশ সদস্যরা দেশ মাতৃকার জন্য বীরত্বের সঙ্গে এই হামলা মোকাবেলা করেছেন।’

হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর শেফ সাইফুল চৌকিদারকে নিহত জঙ্গিদের তালিকায় দেখানোর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসময় তার সঙ্গে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এরা (বন্দুকধারী) নিজ বাড়ি থেকে পালিয়ে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তদন্ত চলছে, তদন্ত হতে দেন। এরপর বলা যাবে আসলে তারা কারা!’

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশান ২ নম্বরের হলি আর্টিজেন রেস্তোরাঁয় একদল অস্ত্রধারী ঢুকে বিদেশীসহ বেশ কয়েকজনকে জিম্মি করে। শনিবার সকালে কমান্ডো অভিযান চালিয়ে ১৩ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

এ সময় সেখান থেকে ২০টি মৃতদেহ বের করা হয় যাদেরকে রাতেই গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে আইএসপিআর জানিয়েছে। নিহতদের ১৭ জন বিদেশী এবং তিনজন বাংলাদেশী।

এছাড়া হামলার শুরুতে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা-ডিবি এবং পুলিশের দুই কর্মকর্তা নিহত হন। কমান্ডো অভিযানে ছয় বন্দুকধারী নিহত হয় আর এক বন্দুকধারীকে আটক করা হয়।