ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:৪৮ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

‘নিশা দেশাই-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক’

যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরো বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে সন্ত্রাস দমন এবং উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারি পররাষ্ট্র সচিব নিশা দেশাই বিসওয়াল আজ এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাস এবং উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের লড়াইয়ে বিশেষজ্ঞ এবং কারিগরি সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছি।’

নিশা দেশাই আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন।

বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহকারি পররাষ্ট্র সচিব বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গুপ্ত হত্যার ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেন।

বাংলাদেশে হত্যাকান্ডের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিসওয়াল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ সন্ত্রাস এবং উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তথ্য আদান প্রদান করতে পারে।

সন্ত্রাস ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ত্যাগ এবং অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) নিজেও সন্ত্রাসের শিকার, তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকেই ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের বিয়োগান্তক ঘটনায় হত্যাকান্ডের শিকার হতে হয়।’

এসিস্টেন্ট সেক্রেটারি অব স্টেট দিসওয়াল কমিউনিটি পুলিশকে শক্তিশালি করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সদসদের জন্য বাংলাদেশ সরকার গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালে অভিবাসী বিষয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাথে কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের জন্য আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের ’জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনব্যক্ত করে বলেন, তাঁর সরকার সবসময়ই সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে উচ্চকন্ঠ।

তিনি বলেন,‘অপরাধী-অপরাধীই,সন্ত্রাসী-সন্ত্রাসীই-তাদের কোন ধর্ম নেই।’দেশে বিএনপি-জামাতের ৫ বছরের দুঃশাসনে দেশে সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদের উত্থান হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটই এই সন্ত্রাসী জঙ্গিগোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়।

তাদের পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই আইন প্রয়োগকারি সংস্থা তাদের (জঙ্গি ও সন্ত্রাসিদের) সুরক্ষা প্রদান করে।

এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা আরো বলেন, অতীতে বাংলাদেশের মাটিকেও অন্য দেশে সন্ত্রাসি তৎপরতার জন্য ব্যবহার করা হয়। কিন্তু, আমরা ক্ষমতায় আসার পরই তা বন্ধ করতে সমর্থ হই।

সাম্প্রতিক হত্যাকান্ড বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে ইউএসএআইডি স্টাফ জুলহাস মান্নান, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরহিত এবং গীর্জার পাদ্রি-এরা সকলেই ‘সফট টার্গেট।’

এসব অমানবিক হত্যাকান্ডগুলো ‘ঠান্ডা মাথার খুন’ এসব হত্যাকান্ড ঘটানোই হয়েছে বিষয়টিকে আরো উস্কে দেয়ার জন্য।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সহকারি পররাষ্ট্র বিষয়ক সচিবকে সন্ত্রাস বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহেরও অনুরোধ জানান।

শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসীদের ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলা এবং তাঁর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি ২০০১ সালের নির্বাচনের পরে বিএনপি-জামায়াত সরকারের দমন-পীড়ন এবং সংখ্যালঘু নির্বাচনের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।

তিনি বিএনপি-জামায়াতের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন প্রতিহতের নামে সীমাহীন সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য এবং আন্দোলনের নামে গত বছরের ৩ মাসের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কথাও উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমানই এদেশে হত্যা,ক্যু এবং ষড়যন্ত্রের রাজনীতির সূচনা করেন। শুধু তাই নয়, তিনি সংসদে দায়মুক্তি আইন পাশ করে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দায়মুক্তি প্রদান করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যার যে যড়যন্ত্র করা হয়েছিলো তা ব্যহত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য নিশা দেসাই বিসওয়ালের মাধ্যমে দেশটির সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম,প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম এবং ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া ব্লুম বার্নিকাট এ সময় উপস্থিত ছিলেন।