শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:২৯ ঢাকা, রবিবার  ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংক

‘নির্মল প্রবৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিতে হবে’ – বিশ্বব্যাংক

‘দ্রুত ও অপিরকল্পিত নগরায়নের ফলে ঢাকা ও অন্য শহরগুলো মারাত্মক বাতাস ও পানি দূষণের শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে হলে পরিবেশ দূষণ বিশেষ করে নগরাঞ্চলের এ দূষণ অবশ্যই কার্যকর ও টেকসইভাবে বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’

আজ রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বিশ্ব ব্যাংকের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের পরিবেশগত সমীক্ষা’র প্রাথমিক খসড়া প্রতিবেদনের ওপর আলোচনাকালে একথা বলা হয়। সমীক্ষাটি আগামী বছরের প্রথম দিকে প্রকাশিত হবে।

খড়সা আলোচনার এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও বন সচিব ইশতিয়াক আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রাইসুল আলম মন্ডল, বাংলাদেশে বিশ্ব ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর জাহিদ হুসাইন, বিশ্ব ব্যাংকের এনভায়রনমেন্টের গ্লোবাল প্রাকটিস-এর প্রাকটিস ম্যানেজার কেসিনিয়া এলভোভসকি বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।

সমীক্ষার প্রাথমিক খসড়ায় বলা হয়, বাংলাদেশে বায়ু দূষণের ফলে প্রতি বছর মোট ডিডিপির এক শতাংশ হ্রাস পাচ্ছে। নন-কমপ্লায়ান্ট শিল্প ও অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও অঝুঁকিপূর্ণ উপকরণের ফলে নগরের বাতাস এবং ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানি দূষণ হচ্ছে। এক টন সূতায় রং ও ফিনিশিং করতে ২০০ মেট্রিক টন দুষিত পানি নদী বা খালে গিয়ে পড়ে। যা রাজধানীর আশপাশের এলাকার দরিদ্র মানুষের মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশে বিশ্ব ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর জাহিদ হুসাইন বলেন, ‘যখন প্রবৃদ্ধি পরিবেশের ক্ষতি করে অর্জিত হয়, তখন তা টেকসই হয় না। বাংলাদেশের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে হলে পরিবেশ দূষণের ইস্যুটি উপেক্ষা করা যাবে না। পরিবেশ দূষণ রোধে এখনই কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করতে হবে।’

সমীক্ষায় বলা হয়, দ্রুত নগরায়নের প্রেক্ষাপটে নগরায়ন ও শিল্পায়নকে পরিবেশগতভাবে টেকসই উপায়ে পরিচালিত করতে হবে।

অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে অবাধ দূষণ ছোট-বড় দুই ধরণের শহরকেই প্রভাবিত করছে উল্লেখ করে সমীক্ষায় বলা হয় ঢাকায় ছয় লাখ বাসিন্দা সীসা দূষণের শিকার হচ্ছে, যার ফলে বিশেষ করে শিশুদের আইকিউ নষ্ট হতে পারে এবং তাদের মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
সমীক্ষায় বৃষ্টির মৌসুমে নগরগুলোর জলাবদ্ধতা সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, এজন্য সরকারকে নগর পরিকল্পনায় জলমহাল অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘পরিসংখ্যান অনুযায়ী পরিবেশ দুষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের জিডিপির ৪ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্নীতির কারণে ক্ষতি হচ্ছে জিডিপির ৩ শতাংশ। সব মিলিয়ে বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ৭ শতাংশ। তাই এটা অবশ্যই উদ্বেগের।’

মন্ত্রী বলেন, দেশের মাথাপিছু আয় বাড়ছে, রেমিট্যান্স বাড়ছে, পরিবারিক কাঠামোগত পরিবর্তন হচ্ছে, কিন্তু আমাদের নদী ও খালগুলো দূষিত হয়ে পড়ছে।

তবে নতুন প্রজন্মই দেশ গড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নরসিংদীর রাস্তার দুইধারে প্রচুর শিল্প কারখানা তৈরি হয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগই পরিবেশবান্ধব। এর মূল কারণ হলো এখানের বেশিরভাগ উদ্যোক্তাই তরুণ, শিক্ষিত এবং তারা বিদেশে ভ্রমণ করেন। এটি আশাব্যঞ্জক।