Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৩:৩৪ ঢাকা, রবিবার  ১৮ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

নির্বাচন ভাল হয়েছে,সিইসি-ব্যাপক অনিয়ম-সহিংসতায় নিহত:১০-বিজয় আ.লীগের

নির্বাচন ভালো হয়েছে : সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেছেন, প্রথম ধাপের তুলনায় দ্বিতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ভালো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের মিডিয়া সেন্টারে দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

কাজী রকিবউদ্দীন বলেন, ‘প্রথম ধাপের অভিজ্ঞতার আলোকে দ্বিতীয় ধাপে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছি। কিছু ব্যবস্থা গৃহীত হওয়ায় প্রথম ধাপের তুলনায় এবার একটু ভালো হয়েছে। তবে কয়েকটি ইউপিতে কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি বলেন, ব্যাপক ভোটারের উপস্থিতি ছিল এ ধাপে। বিশেষ করে নারী ভোটারের লাইন ছিল দীর্ঘ। আগামীতেও সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

অনিয়মের কারণে ৩৩টি ভোটকেন্দ্রের ভোট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে সিইসি জানান।

তিনি কেরানীগঞ্জে এক শিশু নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনি গভীর শোক প্রকাশ এবং ভোলায় এক সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন।
অনিয়ম সহিংসতা রোধে ইসির অবস্থানের কথা তুলে ধরে সিইসি বলেন, ‘আমরা প্রতিটি বিষয় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। যেখানে অনিয়ম হয়েছে ব্যবস্থা নিয়েছি। ভবিষ্যতে আরো সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হবে বলে আশা করি।’

বিএনপি’র ভোট বর্জনের হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, দলটির অনেক দাবিকে তারা আমলে এনেছেন। পরবর্তী ধাপে আরো ভালো নির্বাচনের ব্যাপারে ইসি আশাবাদী।

সিইসিকে নিয়ে বিএনপির সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল তাদের অভিমত দেবে। যে কোন প্রার্থী বা দল তাদের মনোভাব প্রকাশ করবে। আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি-অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেব।’

কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ বলেন, দ্বিতীয় ধাপের পর আরো চার ধাপে ভোট রয়েছে ইউপির। পরবর্তীতে পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি ভোটার উপস্থিতিও বাড়বে।

তিনি বলেন, ‘আমরা গুণগত মান বাড়াতে চাই, আরো বাড়বে সামনে; অনিয়মকে কোনভাবেই ছাড় দেব না।’ তিনি সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় ইসি সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মোখলেছুর রহমান, যুগ্মসচিব জেসমিন টুলী উপস্থিত ছিলেন।

বিজয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ

দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনেও বিপুল বিজয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ ধাপে বৃহস্পতিবার দেশের ৪৭ জেলার ৬৩৯টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট গ্রহণ হয়।রাত ১টা পর্যন্ত প্রাপ্ত ৫০৪টি ইউপির ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর ৩৫৬টি, বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা ৫১টি, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থীরা ৪টি, জাসদ মনোনীত প্রার্থীরা ২টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৯১টি তে জয় পেয়েছেন।এর আগে সকাল ৮টায় শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলা এ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোট জালিয়াতি, কেন্দ্র দখল, সংঘর্ষ-সহিংসতায় প্রাণহানি এবং প্রতিপক্ষের ভোট বর্জনের ঘটনা ঘটে।

নির্বাচনী সহিংসতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও এক নারীসহ ছয় জেলায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। হামলা, গুলি, বোমা, ধারালো অস্ত্রের আঘাতসহ নানাভাবে আহত হয়েছেন শ্রীবরদীর ইউএনওসহ চার শতাধিক মানুষ।

এদিন নির্বাচনী অনিয়মের কারণে ৩৩টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। একই কারণে বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের ফলও স্থগিত করা হয়।

এর আগে ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ বিপুলভাবে জয়লাভ করেছিল। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অন্তত ৫৪০টিতে জয় পায়। অপরদিকে বিএনপি জিতেছে ৪৭টিতে। এতে ৭৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৫৪ ও বিএনপি ১৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

এবার দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ ১৭টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ ধাপে ৩৩টি ইউপিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা ভোট ছাড়াই আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

এক নজরে নির্বাচন

দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে ১০ জনকে দিতে হয়েছে প্রাণ। সংঘাত, সংঘর্ষ, ব্যালট পেপারে প্রকাশ্যে সিল, ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে প্রকাশ্যে। সার্বিক অবস্থায় নির্বাচন দেখা দিয়েছে আতঙ্ক হিসেবে। কোথাও কোথাও প্রশাসনও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ব্যালটে সিল মেরেছে। নির্বাচনে এমন প্রকাশ্য ভোট হরিলুটের ঘটনায় ভোট বর্জন করেছে প্রতিদ্বন্দ্বি অনেক প্রার্থী । অনেক কেন্দ্রে এজেন্টদের বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখলে নিয়ে নেয় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ও তার সমর্থকরা। ফলে ভোট উৎসব পরিণত হয় দখল উৎসবে। আর দখল প্রতিরোধ করতে গিয়ে সংঘর্ষ ও গুলিতে এবারেও নিহত হয়েছে ১০ জন। এরমধ্যে যশোরে ৩, সন্দ্বীপে ৩, কেরানীগঞ্জে ১, মানিকগঞ্জে ১, মাদারীপুরে ১ ও জামালপুরের মেলান্দহে ১ জন। যশোরে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকায় ৫ নির্বাচনী কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জে বুথে ঢুকে পুলিশ নিজেই ব্যালটে সিল মেরেছে। শেরপুরে এক মেম্বারপ্রার্থী সহ দু’জনকে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী তার বাড়িতে তালাবদ্ধ করে রাখে। পরে তাদের বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

যশোর: ব্যাপক সহিংসতা, সংঘর্ষ, ভোটকেন্দ্র দখল, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গুলি আর বোমাবাজির মধ্য দিয়ে যশোর সদর উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে নির্বাচন শেষ হয়েছে। আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে বোমা তৈরিকালে বিস্ফোরণে বৃহস্পতিবার ভোররাতে লেবুতলা ইউনিয়নের আন্দোলপোতায় ইবাদুল হক (৩২) ও সবুজ (৩০) নামে দু’জনের মৃত্যু হয়, যশোর সদরের চাঁচড়া ইউনিয়নের ভাতুড়িয়া স্কুল কেন্দ্রে নির্বাচন চলাকালে বেলা ১১টার দিকে পুলিশ-সন্ত্রাসী সংঘর্ষে আবদুস সাত্তার বিশে (৬৫) নামে এক ফেরিওয়ালা নিহত হয়েছে। তার কপালে গুলি ও শরীরের নানা স্থানে বোমার স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। যশোর সদরের চারটি ইউনিয়নের ৭টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে তাতে সিল মারা, সিলমারা যুক্ত ব্যালট পেপার জব্দ একং ভোটকেন্দ্রে বোমাবাজি ও গুলিতে একজন নিহত হওয়ার কারণে এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এ সময় তিনজন প্রিজাইডিং অফিসার, দুজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ ৬ জন আটক হন।

কেরানীগঞ্জ:  কেরানীগঞ্জে নির্বাচনী সহিংসতায় গুলিতে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। তার নাম শুভ। সে ঢালিকান্দি মধুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র। সকাল ১০টায় ঢালিকান্দি এলাকায় মধুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

জামালপুর: বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, জালভোট প্রদান ও ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে জামালপুরের দুই উপজেলায় ২৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগে সকালে মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের মামা-ভগনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৬ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এ সময় এ কেন্দ্রটির ভোট গ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করা হয়। একই কারণে এ উপজেলার চরবানী পাকুরিয়া রায়ের বাকাই উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোট গ্রহণও স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া সহিংসতা ঠেকাতে পুলিশ মেলান্দহ উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নে আবদুল মান্নান উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৩ রাউন্ড, নয়ানগর ইউনিয়নের মালঞ্চ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। নির্বাচন চলাকালে এ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের উত্তর বালুর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থী মোকছেদ আলী ও মর্জিনা বেগমের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে রফিকুল ইসলাম (৫২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন।

মাদারীপুর: মাদারীপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় পুলিশের গুলিতে এক যুবক নিহত হয়েছে। নিহতের নাম সুজন মৃধা। গতকাল সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নে দক্ষিণ বীরাঙ্গল গ্রামে সংঘর্ষের সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের বীরাঙ্গল গ্রামের বাচ্চু মৃধার পুত্র সুজন মৃধা নিহত হয়।

চাঁদপুর: অনিয়মের অভিযোগে কয়েকটি কেন্দ্রে নির্বাচন স্থগিত ও প্রার্থীরা নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন। চাঁদপুর সদরের ১২টি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ১১ চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির ৬ প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন। নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম মন্টু পাটোয়ারী। এছাড়া তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নের ৩ প্রার্থী নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন। তারা হচ্ছেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মুজিব কাজী, ইসলামী আন্দোলনের চেয়ারম্যান প্রার্থী মারুফ ও বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী সরদার রফিকুল ইসলাম। আশিকাটি ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলওয়ার মাস্টার, বাগাদী ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ আলী পাঠান। এ ছাড়া চাঁদপুর সদর উপজেলার কল্যাণপুর ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইফুল আলম খান, জাকির হোসেন তালুকদার, ইসলামী আন্দোলনের জামিল আহমেদ, চান্দ্রা ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহজাহান খান ও রামপুর ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকির হোসেন তালুকদার। বাগাদী ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহাঙ্গীর গাজী, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী নাছিরউদ্দিন খান নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন। এদিকে হাইমচরে ভৈরবী আজিজিয়া মাদরাসা কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার কে এম মান্নাতকে মারধর করে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের অভিযোগে ওই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

ভোলা: প্রার্থীদের ভোট বর্জন, কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার নিয়ে মেম্বার প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের মধ্যদিয়ে ভোলার ৪টি উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনভর সংঘর্ষে ও গোলাগুলিতে অন্তত শতাধিক লোক আহত হয়েছে। দুপুরের দিকে সদরের রাজাপুর ও পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নে পৃথক কয়েকটি সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে পুলিশের মিস ফায়ারে এনটিভি প্রতিনিধি আফজাল হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ ছাড়াও রাজাপুর ৮, ৫ ও ৬ এবং ইলিশা ৫ নাম্বার ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও বিক্ষুব্ধ সংঘর্ষের ঘটনায় ৩০ জন আহত হন।

গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের দুর্গাপুর ভোটকেন্দ্রে ভোট ভাগাভাগি নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী টিকে মুন্সি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল হুদা মিটুলের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে টিকে মুন্সির সমর্থক রিয়াজুল, সজীব, মনির, রাজিব, ইকলাস, কালু, হাফিজুর, করিম মীনাসহ উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুর একটায় এ ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লা: সংঘর্ষ, গুলি, ককটেল বিস্ফোরণ, ধাওয়া-পালটা ধাওয়া, বিএনপির এজেন্টদের বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে কেন্দ্র দখলের মধ্য দিয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ ও বরুড়া উপজেলার ১৪টি ইউপির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। বেলা আড়াইটায় এসব অভিযোগ এনে সদর দক্ষিণ উপজেলার ৫টি ইউপির বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জন করেছেন। অপরদিকে ভোট চলাকালে কেন্দ্র দখলসহ সংঘর্ষের ঘটনায় জেলার বরুড়া উপজেলার চিতড্ডা ইউপির মুকুন্দপুর ও ভঙ্গুয়া কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার। দু-ইউনিয়নে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। নির্বাচন বর্জনকারীরা হচ্ছেন- পেরুল দক্ষিণ ইউপির মাসুদ করিম, চৌয়ারা ইউপির ইসমাইল হোসেন মজুমদার, বারপাড়া ইউপির মোস্তফা কামাল, পশ্চিম জোড় কাননে মোস্তফা মারশেদ চৌধুরী এবং পূর্ব জোড়কাননে শাহনেওয়াজ। এ ছাড়া দুপুরে এ উপজেলার চৌয়ারা ইউপির আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এটিএম ইদ্রিস ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা নূর হোসেন পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জন করেছেন।

নাটোর ও লালপুর: নাটোরের লালপুরে এক বিএনপি মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর গাড়ি ভাংচুর, দুই ইউপি সদস্যের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ কর্মীদের হামলায় বিএনপিকর্মী-সমর্থকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে বাগাতিপাড়া উপজেলার পাকা ইউনিয়নে একটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এদিকে ভোটে কারচুপি, জোর করে ভোট প্রদান, প্রার্থীদের নিরাপদে চলাচল করতে না দেয়া এবং বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে আসতে না দেয়ায় ৪টি ইউনিয়নে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। এদিকে ব্যালট পেপার ছিনতাই ও প্রিজাইডিং অফিসারকে মারপিট করায় এবি ইউনিয়নের শ্রীরামগাড়ি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে প্রশাসন।

মীরসরাই (চট্টগ্রাম): মীরসরাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত  চাপা উত্তেজনা ও বিক্ষিপ্ত ধাওয়া-পালটা ধাওয়াসহ বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন হয়। বিভিন্ন কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এ সময় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মেম্বার প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও বিভিন্ন স্থানে বিএনপি কর্মীদের উপর হামলায় অন্তত ২০ কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছে।

বাজিতপুর: বাজিতপুর পুরাতন কৈলাগ ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রের ৩০০ ব্যালট পেপার ছিনতাই হওয়ায় ওই কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত করা হয়। স্থগিত হওয়া ভোট কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ৭৫০টি এবং বুথ রয়েছে ৩টি। এ ছাড়া কৈলাগ ইউনিয়নের বিএনপির চেয়াম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ আলী নির্বাচন বর্জন করেছেন। তিনি তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার দলের এজেন্টদেরকে সরকারদলীয় সমর্থকরা বের করে দেয়ার কারণে তিনি নির্বাচন বর্জন করেন। এদিকে মাইজচর ইউনিয়নের পারকচুয়া নির্বাচন কেন্দ্রের অদূরে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ চেয়াম্যান প্রার্থী সমর্থকদের মাঝে ধাওয়া-পালটা ধাওয়ায় অন্তত ৮জন আহত হয়েছে।

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): নবীনগরে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশের রাবার বুলেট নিক্ষেপ, ধাওয়া পালটা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে ১১ ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে  ৩ জন গুলিবিদ্ধসহ ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইব্রাহিমপুর ইউপির  বাছিতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লাওর ফতেপুর ইউপির  হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও টানচারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নবীনগর পূর্ব ইউপির  নায়েব আলী শাহ্‌ আস্তানা ক্যাম্পে  সংঘর্ষ ও  ধাওয়া পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ইব্রাহিমপুর ইউপির বাছিতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ থামাতে পুলিশের গুলিতে ইউনুস মিয়া (৫৯), রিনা খন্দকার (৪১), আবুল কাশেম (৫৯) আহত হয়।

গাজীপুর: কালীগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনে জালভোট, এজেন্টদের বের করে দেয়া, কেন্দ্র দখল, নেতাকর্মীদের মারধর ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এনে চার ইউনিয়নে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন। দুপুরে নিজ নিজ এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে বর্জনের এ ঘোষণা দেন জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী নেছার উদ্দিন নূহ, জামালপুর ইউনিয়নে হারুন অর রশিদ দেওয়ান, মোক্তারপুর ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম পালোয়ান এবং বাহাদুরশাদী ইউনিয়নে এসএম জয়নাল আবেদীন শেখ ও জামালপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী খাইরুল আলম। নির্বাচন বর্জনকারী জামালপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী খাইরুল আলম অভিযোগে বলেন, নির্বাচন শুরুর দুই ঘণ্টার মধ্যে গোলারটেক শাহিদা মোল্লা বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং কলাপাটুয়া কেন্দ্রের সামনে তার আপন ভাই বাদল মোড়লসহ কর্মী-সমর্থকদের ওপর দফায় দফায় হামলা করেছে প্রতিপক্ষ সরকারদলীয় লোকজন। এতে তাদের ৮-১০ আহত হয়েছে। তার এজেন্টদের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে ব্যালট পেপারে সিল মেরেছে নৌকার লোকজন।

শেরপুর: শ্রীবরদী সদর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুল হালিম ডাক্তারের নেতৃত্বে সন্ত্রাস ও ভোট ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার বসতঘর থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় মো. সুজা উদ্দিন (৬০) নামে এক মেম্বার প্রার্থী ও তার কর্মী খোকা মিয়া (৫৮) কে উদ্ধার করেছেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। নয়ানী শ্রীবরদী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে একক আধিপত্য বিস্তারের জন্য সকাল ১০টার দিকে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মুরাদুজ্জামান ও মেম্বার প্রার্থী সুজাউদ্দিনের সমর্থকদের দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে তাড়িয়ে দেয় আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও তার সমর্থকরা। একপর্যায়ে তারা মেম্বার প্রার্থী সুজাউদ্দিন ও তার কর্মী খোকা মিয়াকে বসতবাড়িতে নিয়ে ঘরের দরজা তালাবদ্ধ করে রাখে।

নকলা: ওদিকে নকলা উপজেলার উরফা ইউনিয়নে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী রুস্তম আলী। বেলা ১১টার দিকে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জোরপূর্বক ভোট কারচুপি করছে বলে অভিযোগ করেন রুস্তম আলী।

শ্রীনগর: শ্রীনগরে ১৪টি ইউনিয়নে নির্বাচনে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা, ব্যালট পেপার ছিনতাই, ককটেল বিস্ফোরণ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে  কয়েকটি কেন্দ্রে সাময়িক ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। কেন্দ্র দখলকে ঘিরে পুলিশের গুলিতে একজন ও ককটেল বিস্ফোরণে ৩ জন আহত হয়েছে। এছাড়া  দুই আনসার সদস্য সহ অন্তত আরও ২০ জন আহত হয়েছে। দুপুর একটার দিকে পাটাভোগ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্রার্থী ফিরোজ আল মামুনের সমর্থকরা মাসুরগাঁও কেন্দ্রে পর পর কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে আলামিন (২৫) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়। এর আগে কুকুটিয়া ইউনিয়নের নাগরভাগ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজন ককটেল ফাটিয়ে কেন্দ্রটি দখলের চেষ্টা করে। এসময় ককটেল বিস্ফোরণে মো. ফিরোজ শেখ (৪০) নামে একজন আহত হয়।

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল): কেন্দ্র দখল, সংঘর্ষ, গুলি ও জাল ভোট দেয়ার মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের ৬টি ইউনিয়নের ভোট গ্রহণ শেষ হয়। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে অলোয়া ইউনিয়নের ভারই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ইউপি সদস্য প্রার্থী মকবুল হোসেন ব্যালট পেপার নিয়ে দৌড় দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হামিদ ভোলা, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী পলাশ ও ইউপি সদস্য প্রার্থী মকবুল হোসেনকে আটক করা হয়। এর আগে সকাল থেকেই ফলদা ইউনিয়নের মাইজবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আগতেরিল্ল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৫টি কেন্দ্র বিএনপি প্রার্থী সেলিমুজ্জামান সেলুর ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয় এবং ভোটারদের কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা প্রদান করা হয়।

বগুড়া: শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নে ভোট গণনাকালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মিরা ককটেল হামলা করেছে। এ সময় পুলিশ ৩টি তাজা ককটেলসহ আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইউপি মেম্বার প্রার্থী ইউনুছ আলীকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে। জানা গেছে, উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নের সেকেন্দ্রারাবাদ দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রে ভোট গণনার সময় বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বাইরে থেকে ভোটকেন্দ্র লক্ষ্য করে পর পর তিনটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়।

পাবনা: জোরপূর্বক ব্যালট পেপারে সিলমারা এবং ধাওয়া পালটা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে পাবনার ফরিদপুর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে থেকে ককটেলসহ ৫ যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া জোরপূর্বক নৌকা প্রতীকে ডেমরা ইউনিয়নে ভোট প্রদানে বাধা দেয়ায় বিএনপির সমর্থকদের সঙ্গে ধাওয়া পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ৫ জন বিএনপি কর্মী আহত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ: জালভোট, ব্যালট ছিনতাই, কেন্দ্র দখল, প্রার্থীদের সমর্থকদের সংঘর্ষ, পুলিশের গুলিবর্ষণ, সাময়িক বন্ধ, স্থগিতসহ বিক্ষিপ্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে সিরাজগঞ্জের ৯টি ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলার কাওয়াকোলা, মেছড়া, খোকশাবাড়ি ও বহুলী ইউনিয়নের বেশক’টি কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাই ও জালভোট প্রদানকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড শটগানের গুলি ছুড়েছে। এসব ঘটনায় ৩০ জন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে অর্ধশত আহত এবং ১০ জন পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন।

সীতাকুণ্ড: সীতাকুণ্ড সরকারদলীয় প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। উপজেলার ১নং থেকে ১০নং ইউপির ৮৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮৫টি ভোটকেন্দ্রই ৯টার মধ্যে দখল করে নেয় সরকারদলীয় প্রার্থীর সমর্থকরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ওয়ার্ড ভোটকেন্দ্র ছাড়া বাকি ৮৫টি ভোটকেন্দ্র বুধবার রাত থেকেই দখল করে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে রেখেছে বলে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা অভিযোগ করেন।