ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১০:৪১ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

নিরীহ মানুষ বাঁচাতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করবে বিজিবি

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, ‘হরতাল ও অবরোধে নাশকতাকারীরা যদি জনগণের ওপর পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে, তবে নিরীহ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করবে বিজিবি।’
বৃহস্পতিবার সকালে বিজিবি সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বিজিবি সদস্যরা সর্বাত্মক চেষ্টা করবে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার না করার জন্য। যদি বিজিবি সদস্যরা আক্রান্ত হয় তখন জীবন বাঁচানো তাদের অধিকার। ওই সময় যদি প্রয়োজন হয় তবে অস্ত্র ব্যবহার করবে।’
হরতাল ও অবরোধে বিজিবির দায়িত্ব পালন করার কারণে সীমান্ত রক্ষায় দায়িত্ব পালনে সমস্যা হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিজিবির স্ট্যান্ডবাই সদস্যদেরই হরতাল ও অবরোধে দায়িত্ব পালনের জন্য নিযুক্ত করা হয়। সীমান্ত থেকে কোনো সদস্য প্রত্যাহার করা হয় না।’
তিনি বলেন, হরতাল ও অবরোধে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করতে বিভিন্ন জেলায় বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
মহাপরিচালক বলেন, ৩৫টি জেলার প্রশাসক বিজিবি মোতায়েনের জন্য অনুরোধ করেছেন। আমরা ১৭টি জেলায় বিজিবি মোতায়েন করেছি। জেলা প্রশাসকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে বিজিবি মোতায়েন করা হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় বিজিবি স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে, প্রয়োজনে নামানো হবে।
হরতাল-অবরোধে কত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে জানতে চাইলে বিজিবির ডিজি বলেন, আপতত ৮৫ প্লাটুন (প্রতি প্লাটুনে ৩০ জন) মোতায়েন করা আছে। আরও ৮০ প্লাটুন মজুদ রাখা হয়েছে। দরকার হলেই তাদের নামানো হবে।
পণ্য পরিবহনে বিজিবি সহায়তা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) রাতে সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে ৩৫ হাজার পরিবহনে বিজিবির সদস্যরা সহায়তা করেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির মহাপরিচালক ভারত ও মায়মানমারের সীমান্ত বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চোরাচালান রোধসহ সীমান্ত অপরাধ রোধে বিজিবি ভারত ও মায়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করেছে।’
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ৩৬১ কিলোমিটার ও বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে ১৯৮ কিলোমিটার এলাকায় বিওপি (সীমান্ত চৌকি) নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ কারণে ওই এলাকাগুলোয় টহল দেওয়া যায় না। ওই অঞ্চলগুলো অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। ওই অঞ্চলগুলোতে বিওপি স্থাপনের কাজ চলছে।’
এই অরক্ষিত অঞ্চলের চোরাচালান ও অপরাধ রোধে বিজিবির এয়ার উইং চালু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, ‘৪টি হেলিকপ্টার থাকবে এয়ার উইংয়ে। এরমধ্যে দুইটি হেলিকপ্টার সার্বক্ষণিক টহল দেবে এবং ২টি স্ট্যান্ডবাই থাকবে।’
প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিজিবি’র এক বছরের সফলতার নানা দিক তুলে ধরেন।