সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন
বিদায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ

নিরপেক্ষতা প্রমাণ করেছি: কাজী রকিব

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেছেন, নিজেদের নিরপেক্ষতার প্রমান দিয়ে গত ৫ বছর সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছি।

তিনি বলেন, ‘শপথ নেয়ার পর বলেছিলাম সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবো। নির্বাচন কমিশন সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে অবাধ সুষ্ঠুভাবে সকল নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করেছি।’

সিইসি আজ শেষ কর্মদিবসে নির্বাচন কমিশন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

এ সময় নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী ও মো. শাহনেওয়াজ উপস্থিত ছিলেন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ছিল উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘ওই নির্বাচন না হলে দেশে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো। এক কঠিন পরিস্থিতিতে দেশে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোন বিকল্প ছিল না। কমিশন যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশকে সাংবিধানিক শুন্যতা থেকে রক্ষা করেছে।’

তিনি বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি বড় দল অংশগ্রহণ না করলেও কমিশনের নিবন্ধিত ১২টি রাজনৈতিক দল স্বতস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধা ও প্রতিকূল পরিবেশে নির্বাচন হলেও কমিশনের সুদক্ষ পরিচালনায় ৪০ দশমিক ০৪ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে এমন ১৪৭টি নির্বাচনী এলাকার মোট ১৮ হাজার ২০৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে শুধু মাত্র ২০৪টি ভোটকেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়, যা মোট ভোটকেন্দ্রের মাত্র ১ দশমিক ১২ শতাংশ।

কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদের ৭ হাজার ৮৮টি সাধারণ ও উপ-নির্বাচন পরিচালনা করেছে। এবারই প্রথম রাজনৈতিক দলীয় ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজনৈতিক দলীয়ভিত্তিতে হওয়ায় স্থানীয় সরকার পরিষদের নির্বাচনও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠান ছিল একটি চ্যালেঞ্জ। এরপরও কমিশন প্রতিটি নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করেছে।

তিনি বলেন, যোগদানের পর পরই এই নির্বাচন কমিশন সকল ষ্টেকহোল্ডার- নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, বিশিষ্ট নাগরিক, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, বিদেশী কূটনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে মত বিনিময় করে। তাদের সাথে নির্বাচনী আইন, জাতীয় সংসদের সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করা হয়। তাদের সুনির্দিষ্ট মতামত, প্রস্তাব ও পরামর্শ সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সকল নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা করেছে এবং সার্বিক কর্মকান্ডকে আরও গতিশীল করেছে।

সিইসি বলেন, প্রথম বারের মতো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে দলীয় প্রতীকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন কমিশনের সুদক্ষ পরিচালনায় সুষ্ঠু,অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। যা সকল মহলে প্রশংসিত হয়েছে এবং এ নির্বাচনকে সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মডেল হিসাবে আখ্যা দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপদেয়ার জন্য অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিকল্প নেই। নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা একে বারেই অসম্ভব। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন সকলের অংশগ্রহণ। যখন সব দল এবং সব পক্ষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তখন প্রতিটি নির্বাচন হয় প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক- আর প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক নির্বাচন হলেই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়।

সিইসি বলেন, রাজনৈতিক দল, তার কর্মী, সমর্থক এবং প্রার্থীরা যদি নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি যথাযথ মেনে চলেন তবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব, এজন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করব আগামী নির্বাচন কমিশন সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনায় বসবে এসকল নির্বাচনে সকল দল অংশগ্রহণ করে দেশের চলমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরো গতিশীল করবে। নতুন নির্বাচন কমিশনের জন্য শুভ কামনা থাকলো।’

সিইসিসহ ৪ নির্বাচন কমিশনারের আজ ছিল শেষ কর্মদিবস। তারা ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। আজ তাদের ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ হয়।
এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেবল নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ। তিনি ২০১২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেন। ফলে তিনি ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্বপদে থাকবেন।

নতুন নির্বাচন কমিশনের আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে।

সর্বশেষ সংশোধিত: , মাধ্যম: