Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:০৬ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

নিরপরাধ-জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ ‘তারেক রহমান’কে হয়রাণী না করতে আহবান ফখরুলের

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নাম ইন্টারপোলের তালিকা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারেক রহমান সম্পর্কে ইন্টারপোলে সরবরাহ করা তথ্য মিথ্যা প্রমানিত হওয়ায় ডাটাবেজ থেকে সকল তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে। ফখরুল বলেন, একজন নিরপরাধ এবং জনপ্রিয় রাজনীতিবিদকে এভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রাণী না করার জন্য আমরা সরকারকে আহবান জানাচ্ছি।

২৭ মার্চ সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

                                            সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যা বললেন

মির্জা ফখরুল বলেন,  বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নাম ইন্টারপোলের তালিকা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারেক রহমান সম্পর্কে ইন্টারপোলে সরবরাহ করা তথ্য মিথ্যা প্রমানিত হওয়ায় ডাটাবেজ থেকে সকল তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে। গত ১৪ মার্চ কমিশন ফর দ্যা কন্ট্রোল অব ইন্টারপোলস ফাইলস এর পক্ষ থেকে লন্ডনের স্বনামখ্যাত লিগ্যাল ফার্ম লন্ডনিয়াম সলিসিটর্স ফার্মকে লিখিতভাবে ইন্টারপোলের এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। চিঠিতে লেখা হয়েছে, ফ্রান্সে ইন্টারপোলের হেড কোয়ার্টার্সে কমিশন ফর দ্যা কন্ট্রোল অব ইন্টারপোলস ফাইলস এর এক বৈঠকে বলা হয়, তারেক রহমান সম্পর্কে প্রাপ্ত সকল তথ্য প্রমান এবং তারেক রহমানের রাজনৈতিক অবস্থা ও অবস্থান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কোনভাবেই তাঁর নাম ইন্টারপোলে তালিকাভূক্ত হতে পারে না। এরপরই ইন্টারপোল জেনারেল সেক্রেটারিয়েট তাদের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো এনসিবি তারেক রহমান সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের দেয়া সকল তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে বলেও চিঠিতে জানায়। শুধু তাই নয়, ইন্টারপোল বিভিন্ন দেশে অবস্থিত তাদের সকল সার্ভার ও ডাটাবেজ থেকেও এই তথ্য মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছে।

ফখরুল বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় আওয়ামী লীগ দলীয় সমর্থক এবং এমপি পদপ্রার্থী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল কাহার আকন্দকে দিয়ে পূণ:তদন্ত করিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মামলার আসামী তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এরপর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জনাব তারেক রহমানকে পলাতক দেখিয়ে তাঁর সম্পর্কে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে জনাব তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে রেড নোটিশ জারী করে। ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারী করার পর এর যৌক্তিকতা নিয়ে তারেক রহমানের পক্ষে লন্ডনিয়াম সলিসিটর্স ইন্টারপোল হেড কোয়ার্টার্সে আপিল করে।

সেই আপিল গ্রহণ করে ইন্টারপোল তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে জনাব তারেক রহমান সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের সরবরাহ করা তথ্য যাচাই করার পর কোন সত্যতা না পাওয়ায় এবং বিষয়টি তাদের আর্টিকেল ৩ এর ধারায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত প্রমানিত হওয়ায় রেড নোটিশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। একই সাথে ইন্টারপোল হেড কোয়ার্টার্স তারেক রহমান সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের দেয়া সকল তথ্য বাতিল করে দিয়েছে। লন্ডনিয়াম সলিসিটর্সের প্রিন্সিপ্যাল ডেভিড রিকটারের মতে, ইন্টারপোলের সিদ্ধান্তে প্রমানিত হয়েছে জনাব তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে দেয়া অভিযোগ ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জনাব তারেক রহমান একজন রাজনৈতিক নেতা। আবারো প্রমানিত হয়েছে তারেক রহমান পলাতক নন এবং রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই তারেক রহমানের নাম ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় জড়ানো হয়েছে। ইন্টারপোল বুঝতে পেরেছে জনাব তারেক রহমানের সম্মান বিনষ্ট করতে ইন্টারপোলকে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের রাজনৈতিক ইমেজ কালিমালিপ্ত করতে গিয়ে এখন নিজেরাই মিথ্যাবাদী প্রমানিত হয়েছে, সেইসাথে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের গ্রহণযোগ্যতা।

এর আগেও এই সরকার দুদকের মাধ্যমে ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট থানায় জনাব তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মানি লন্ডারিং এর মামলা দায়ের করেছিল। ৪ বছর ধরে সেই মামলা চলার পর ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মোঃ মোতাহার হোসেন মামলার রায়ে জনাব তারেক রহমানকে বেকসুর খাবাস দেন। দুদক এবং রাষ্ট্রপক্ষ সেই মামলাতেও জনাব তারেক রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছিল। রায়ে বলা হয়েছিল, তারেক রহমান ২০০৭ সালের ৭ জুন দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে খরচ করা অর্থের কথা উল্লেখ করেছেন। তারেক রহমান টাকা উত্তোলন ও ব্যয় করার বিষয়টি গোপন বা আড়াল করেননি। ফলে ২০০২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী কোনো অপরাধ তিনি করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণপত্র সম্পর্কে আদালত সংশয় প্রকাশ করেছিল এবং বলেছিল, তারেক রহমানের বিরদ্ধে আনা অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কৌঁসুলী সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হননি।

কিন্তু সরকার পক্ষ সেই রায়কে মেনে না নিয়ে, বরং ঐ বিচারকের বাড়ী-ঘর ভাংচুর করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে।
এভাবে এই সরকার একের পর এক বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জনাব তারেক রহমানকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার এবং হয়রাণী করার চেষ্টা চালালেও বারবার আদালতে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার তদন্তে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। একজন নিরপরাধ এবং জনপ্রিয় রাজনীতিবিদকে এভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রাণী না করার জন্য আমরা সরকারকে আহবান জানাচ্ছি।