নিজের দেশের সেনাবাহিনীর প্রধানকে মেরে ফেলেছেন উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান কিম জং-উন। কোরিয়ান পিপল’স আর্মির প্রধান জেনারেল রি ইয়ং-গিলকে পৃথক রাজনৈতিক গোষ্ঠী তৈরি এবং দুর্নীতির দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়নহাপ নিউজ জানিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার তরফে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি ঠিকই। তবে জেনারেল রি ইয়ং-গিলকে কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে আর দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।

জেনারেল রি ইয়ং-গিল উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উনের খুবই ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিম যেখানে পরিদর্শনে যেতেন, সেখানেই তাঁর পাশে দেখা যেত রি ইয়ং গিলকে। কিন্তু ৭ ফেব্রুয়ারি উত্তর কোরিয়ার বিতর্কিত দূরপাল্লার রকেট (মতান্তরে ক্ষেপণাস্ত্র) উৎক্ষেপনের সময় যে সব সরকারি কর্তারা উপস্থিত ছিলেন, সেই তালিকায় রহস্যজনক ভাবে জেনারেল রি ইয়ং-গিলের নাম ছিল না। শুধু সেনাপ্রধান নন, রি উত্তর কোরিয়ার শাসক দল ওয়ার্কার্স পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের অংশও ছিলেন। কিম-এর নেতৃত্বে ওয়ার্কার্স পার্টির শীর্ষ নেতারা দিন কয়েক আগে যে বৈঠকে বসেছিলেন, তাতেও রি ইয়ং-গিলকে দেখা যায়নি বলে দক্ষিণ কোরীয় সংবাদ সংস্থা সূত্রের খবর।

বাবা কিম জং-ইলের মৃত্যুর পর কিম জং-উন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতার পদে বসেন। তার পর থেকে দল, সরকার এবং সেনাবাহিনীতে নিজের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে উন তাঁর বাবার ঘনিষ্ঠ বেশ কিছু নেতা এবং সেনা অফিসারকে বরখাস্ত করেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় বলে খবর। ২০১৫-র মে মাসে তৎকালীন সেনাপ্রধান হিয়ং ইয়ং-চল-কেও কিম জং উন মৃত্যুদণ্ড দিয়ে দেন বলে খবর মিলেছিল। বিমান বিধ্বংসী কামান থেকে গোলা ছুড়ে তাঁকে মেরে ফেলা হয় বলে জানা যায়। কিন্তু উত্তর কোরীয় সরকার দেশের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের খবর বাইরে বেরোতে না দেওয়ার নীতিতে বিশ্বাস করে। তাই সেই খবর সম্পর্কে পিয়ংইয়ং-এর স্বীকারোক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু জেনারেল হিয়ং ইয়ং-চলের মৃত্যুর খবর আসার পর থেকে তাঁকে কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি।

 দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসের গোড়াতেই জেনারেল রি ইয়ং-গিলকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আলাদা রাজনৈতিক গোষ্ঠী তৈরি করে কিম জং-উনকে ক্ষমতাচ্যুত করার চক্রান্ত করছিলেন জেনারেল রি— এমনই অভিযোগ এনে রি-কে প্রথমে পদচ্যুত করা হয়। তার পর মেরে ফেলা হয়। এর আগে ঠিক একই অভিযোগ এনে ওয়ার্কার্স পার্টির অন্যতম শীর্ষ নেতা তথা নিজের পিসেমশাইকে নৃশংস ভাবে হত্যা করেছিলেন কিম জং-উন।ওয়াকিবহাল মহল বলছে, কিম জং-উন কাউকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। দেশের সেনার উপর তাঁর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব রয়েছে কি না, তা নিয়ে কিম নাকি সন্দিহান। তাই কাউকে বিন্দুমাত্র সন্দেহ হলেই, তাঁকে হত্যার আদেশ দিয়ে দিচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা। আনন্দবাজার।