ব্রেকিং নিউজ

রাত ১০:০৩ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

‘নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকর’

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত যুদ্বাপরাধী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে।

রাত ১২ টা ১০ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার দণ্ড কার্যকর হয়। একই অপরাধে নিজামীসহ এ পর্যন্ত পাঁচজন রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলো। এর মধ্যে চারজনই জামায়াতের শীর্ষ নেতা।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা এবং বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর।

গতকাল সকাল থেকে নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। বৈঠক করেন কারা কর্মকর্তারা। বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ফাঁসি কার্যকরে নির্বাহী আদেশ আসার পর তার পরিবারের সদস্যদের শেষ সাক্ষাতের জন্য ডাকা হয়। এরপরই নিজামীর পরিবারের ২৪ সদস্য তিনটি গাড়িতে করে কারাগারে যান। সাক্ষাৎ শেষে রাত সাড়ে ন’টার দিকে তারা কারাগার থেকে বের হন। তবে তাদের কেউ গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেননি।

রিভিউ আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হওয়ার পর গত সোমবার রাতেই তা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কনডেম সেলে থাকা নিজামীকে পড়ে শোনানো হয়। এরপর চিকিৎসকরা তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এর আগে গত রোববার রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয় মতিউর রহমান নিজামীকে।

গতকাল সকালে নিজামীর ফাঁসি কার্যকরকে ঘিরে কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কারা অধিদপ্তরে একটি বৈঠক করেন। অতিরিক্ত আইজি প্রিজন কর্নেল ইকবালের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় এই বৈঠক। বৈঠকে কিভাবে নিজামীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়। দুপুরের দিকে  ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হয়ে যান কারা অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক গোলাম হায়দার। তবে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। দুপুরের পরপরই অতিরিক্ত আইজি প্রিজন ও ঢাকা বিভাগের কারা কর্মকর্তা গোলাম হায়দার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, নিজামী যদি প্রাণভিক্ষা না চান তাহলে তার যে কোনো মুহূর্তে রায় কার্যকর করা হবে। যদি তিনি ক্ষমা চান তাহলে তার প্রাণভিক্ষার বিষয়টি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেবো। আর না চাইলে আমরা দণ্ড কার্যকরের ব্যবস্থা করবো।

গতকাল বিকালে কারা কর্তৃপক্ষ জানান, নিজামী রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমাভিক্ষা চাননি। নিজামীর প্রাণভিক্ষা চাইবেন কিনা সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির তার কাছে জানতে চান। তবে নিজামী হ্যাঁ বা না বোধক কোনো সাড়া না দিয়ে চুপ থাকেন। চুপ থাকাকে না ধরে নিয়ে রায় কার্যকরের প্রস্তুতি নেয়া হয়।