ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:৫১ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

নিখোঁজের আগে বিমানটির শেষ কথা

নিখোঁজ বিমানের ব্যাপারে জাকার্তায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। তার ডানে দেশটির ন্যাশনাল সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এজেন্সির প্রধান সোয়েলিস্তিয়ো ও বামে রাজনীতি, আইন ও নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী তেদজো এধি পুর্দিজাতনো : এএফপি

 ​
রোববার সকাল ৫টা ২০-এ ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া থেকে আকাশে ওড়ে কিউজেড-৮৫০১। সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরে তার পৌঁছানোর কথা ছিল সকাল সাড়ে ৮টায়। আবহাওয়া খারাপ থাকায় যাত্রা শুরুর কিছুণের মধ্যেই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) কাছে উড্ডয়নের উচ্চতা বাড়ানোর জন্য অনুমতি চেয়ে বার্তা পাঠান চালক। তার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ইন্দোনেশিয়ার এটিসির সাথে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এয়ারবাস এ৩২০-২০০-এর।
এ দিন সকালেই সাংবাদিক বৈঠক করে বিমান নিখোঁজের কথা জানান ইন্দোনেশিয়ার বিমান পরিবহন কর্তৃপ। বিমানের সাথে যোগাযোগ ছিন্ন হওয়ার কথা লেখা রয়েছে এয়ার এশিয়ার ফেসবুক পেজেও। দুর্ঘটনার আভাস পেয়ে তাদের উজ্জ্বল লাল রঙের লোগো এ দিন বদলে গেছে ধূসর রঙে। বিমান সংস্থার দাবি, উড্ডয়নে যে পরিমাণ জ্বালানি ছিল, তা বহুণ আগেই ফুরিয়ে গেছে। এ অবস্থায় সময় যত গড়াচ্ছে, যাত্রীদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই ীণ হচ্ছে।
বিমানটির খোঁজে রোববার দিনভর জাভা সাগরে তল্লাশি চালিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সেনাবিমান। একবার শোনা গিয়েছিল, বিমানের ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে। এ নিয়ে জল্পনাও শুরু হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী বিবৃতি জারি করে জানিয়ে দেন, এটি নেহাতই গুজব। দিনভর তল্লাশি চালিয়ে সন্ধ্যায় প্রতিকূল আবহাওয়া ও অন্ধকারের জন্য উদ্ধারকাজ থামিয়ে দেয়া হয়। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, সোমবার ভোর থেকে ফের নিখোঁজ বিমানটির খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
নিখোঁজ বিমানের ১৫৫ জন যাত্রীর বেশির ভাগই ইন্দোনেশিয়ার বাসিন্দা। এ ছাড়া দণি কোরিয়ার তিনজন, সিঙ্গাপুরের একজন এবং মালয়েশিয়া ও ফ্রান্সের একজন করে যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে এক সদ্যোজাতসহ ১৭টি শিশুও ছিল।
সরকারি সূত্রে খবর, ইন্দোনেশিয়ার বন্দর শহর তানজুং পানডন থেকে বোর্নিওর পন্টিয়ানকের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় এটিসির সাথে শেষবার কথা হয়েছিল বিমানচালকের। সেই সময় বিমানটির উচ্চতা ছিল ৩২ হাজার ফুট। গতিপথ বদলে চালক ৩৮ হাজার ফুট উচ্চতায় বিমানটিকে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি চান এটিসির কাছে। এর অল্পণের মধ্যেই রাডার থেকে মুছে যায় কিউজেড-৮৫০১-এর ছবি।
বিমান অন্তর্ধানের সময় নিয়ে অবশ্য এরই মধ্যে নানা রকম তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। এয়ার এশিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, সকাল ৭টা ২৪ মিনিটের পর থেকে বিমানটির আর খোঁজ মিলছে না। কিন্তু ইন্দোনেশিয়া প্রশাসনের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার সময়টা আসলে সকাল ৬টা ১৭ মিনিট। আবার ইন্দোনেশিয়ার এটিসি সূত্রের দাবি, ওড়ার ৪২ মিনিট পর থেকেই বিমানটির সাথে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। সেই হিসাবে সময়টা সকাল ৬টার কাছাকাছি। তাই বিমান অন্তর্ধানের প্রকৃত সময় নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।
আবহাওয়াবিদেরা জানান, এ দিন সকালে ইন্দোনেশিয়ার ওই অঞ্চলে আবহাওয়া খারাপ ছিল। প্রচণ্ড মেঘ, তার সাথে ঘন ঘন বজ্রপাত হচ্ছিল। তবে তাদের দাবি, আকাশের যে উচ্চতায় এ দুর্যোগ চলছিল, সাধারণত বিমান তার থেকে উঁচু দিয়ে যায়। ফলে দুর্যোগে পড়লেই যে বিমান ভেঙে পড়বে, এমনটি সব সময় হয় না বলেও মনে করিয়ে দিচ্ছেন অনেকে। এর আগে ইন্দোনেশীয় এয়ার এশিয়ার কোনো বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েনি। কিউজেড-৮৫০১ এর চালক ও কো-পাইলট দু’জনের অভিজ্ঞতাও দীর্ঘ দিনের। তা সত্ত্বেও বিমানটি কিভাবে হারিয়ে গেল, তা ভেবে পাচ্ছেন না অনেকেই।
এশিয়ার দেশগুলোতে সস্তা ফাইটের জন্য এয়ার এশিয়া দীর্ঘ দিন ধরেই বেশ জনপ্রিয়। এদের গন্তব্য তালিকায় রয়েছে ১০০টিরও বেশি জায়গা। রোববার যে বিমানটি উধাও হলো, সেটির মালিকানা এয়ার এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া শাখার। এই সংস্থার ৪৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে মালয়েশীয় এয়ার এশিয়ার হাতে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ২০০৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইন্দোনেশীয় এয়ার এশিয়ার ওড়ানো বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। ২০১০-এ সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়।
বিমান উধাওয়ের খবর পাওয়ার অল্পণের মধ্যেই তল্লাশি অভিযান শুরু হয়ে যায়। জানা যায়, তানজুং পানডন থেকে ১০০ নটিক্যাল মাইল দণি-পূর্বে শেষ বার দেখা গিয়েছিল বিমানটিকে। জাভা সাগরের ওই অংশে তল্লাশি শুরু করে ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনীর দু’টি বিমান এবং একটি হেলিকপ্টার। সোমবার তল্লাশি অভিযানে যোগ দিয়েছে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। সমুদ্রে নজরদারি চালানোর বিমান ও তিনটি জাহাজ প্রস্তুত রেখেছে ভারতও। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে চীন। প্রয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে তারা। বড়দিনে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।