Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৩:৪২ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

মাহবুব-উল আলম হানিফ
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ফাইল ফটো

‘নাসিক নির্বাচন নিয়ে অশুভ চক্রান্তে লিপ্ত বিএনপি’

রাজনৈতিক দল বিএনপিকে ‘অশুভ শক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি আবারও নতুন করে কৌশল নিয়েছে। তারা এখন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচন নিয়ে একটি অশুভ চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। বিএনপি সবসময় কোনো কারণ ছাড়াই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কথা বলে। এরা জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করার জন্য সব রকম চেষ্টা করেছে। ব্যর্থ হয়ে আবারও নতুন কৌশল নিয়েছে। নাসিক নির্বাচন নিয়ে একটি অশুভ চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। আসলে এই দলটাই একটা অশুভ শক্তি। নষ্ট রাজনীতির একটা দল।

সোমবার দুপুরে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফের মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানের সামনে একটি কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এ আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

হানিফ বলেন, নাসিক নির্বাচন শুরুই হয় নাই। তার মধ্যেই নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, প্রশাসন পক্ষপাতিত্ব করছে- এমন নানা ধরনের অভিযোগ করছে বিএনপি। মূলত এগুলো করে তারা গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়।

হানিফ আরও বলেন, কয়েকদিন আগেই নাসিক নির্বাচনে তাদের প্রার্থী ঘোষণার পর সাবেক মেয়র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার টেলিভিশন টকশোতে বলেছিলেন, ‘নাসিকে নির্বাচন করার মতো পরিবেশ নেই। তাই তিনি নির্বাচনে অংশ নেননি।’ তখন সঞ্চালক তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার দল তো নির্বাচনে অংশ নিল? তাহলে কি আপনার দল ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে? জবাবে তৈমুর আলম বলেন, ‘না, এটা ভুল সিদ্ধান্ত না। এটার একটা কৌশল আছে।’

আওয়ামী লীগের এ নেতা প্রশ্ন করে বলেন, বিএনপির কিসের কৌশল? মূল বিষয় হচ্ছে, বিএনপি জানে তাদের উপর জনগণের কোনো আস্থা নেই। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ারও তাদের সুযোগ নেই। তাই তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার কৌশল নিয়েছে।

প্রয়াত মেয়র হানিফের স্মৃতিচারণ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বলেন, মানুষ জম্মগ্রহণ করলে মৃত্যু হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সে মুত্যু অস্বাভাবিক হলে মেনে নেয়া যায় না। হানিফ ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছিল ২০০৬ সালে, কিন্তু তার মৃত্যুর ঘণ্টা বেঁজেছিল ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মধ্য দিয়ে।

এসময় বিএনপিকে অতীত রাজনীতির দিকে তাকানোর আহ্বান জানিয়ে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকতে কী ভয়াবহ ও নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটিয়েছিলেন? সেই দল যখন গণতন্ত্রের কথা বলে। ন্যায়ের কথা বলে। তাদেরকে ধিক্কার দিতে ইচ্ছে করে।

নেতাকর্মীদের প্রয়াত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের আদর্শে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে হানিফ বলেন, প্রয়াত মেয়র হানিফ সারাজীবন দলের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করে গেছেন। উনি কখনো কাউকে অসম্মান করেছেন, এমন কথা শোনা যায়নি। ছোট-বড় সবাইকে আপন করে নিতেন এবং সম্মান দিতেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- প্রয়াত মেয়র হানিফের একমাত্র ছেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।