ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:২৪ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

নাশকতা ও সহিংসতা সহায়ক খবর প্রচার করবেনা টেলিভিশন

সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি সকল ইলেকট্রনিক মিডিয়া ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। অবরোধ-হরতাল কর্মসূচির সন্ত্রাস, নাশকতা ও সহিংসতা সহায়ক কোনো খবর প্রচার থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেছে টেলিভিশন মালিকরা-কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সিনিয়র মন্ত্রী, বিভিন্ন ইলেট্রনিক মিডিয়ার মালিক ও কর্মকর্তাদের এক মতবিনিময় বৈঠকে এসব বিষয়ে ঐক্যমত প্রকাশ করা হয়।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ,পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামাল কামাল, মাছরাঙা টেলিভিশনের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন চৌধুরী, বৈশাখী টেলিভিশনের সিইও মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলসহ বিভিন্ন সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আমির হোসেন আমু বলেন, বিএনপি আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস ও নাশকতা চালিয়ে সারাদেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেছে। সন্ত্রাস এবং নাশকতা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। নাশকতা মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারে না। জাতীয় জীবনে বিবেকের তাড়নায় সন্ত্রাস, সহিংসতা ও নাশকতা প্রতিরোধে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মালিক ও কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
দেশের ব্যবসা, বাণিজ্য, রপ্তানিসহ বর্তমান সবধরনের অবস্থা স্বাভাবিক দাবি করে সরকারের পক্ষে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান অবস্থা প্রকৃত অর্থে স্বাভাবিক। তা সাধারণ মানুষ জানতে পারছে না। দেশের ব্যবসা, বাণিজ্য, রপ্তানি সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে। এ বিষয়গুলো মানুষ অবহিত নয়। এ সত্য তুলে ধরার পাশাপাশি হাইওয়েতে প্রতিদিন যে ৫০-৬০ হাজার গাড়ি চলাচল করছে- তা মানুষকে অবহিত করার জন্য মিডিয়া মালিকদের অনুরোধ করেছি, তারা আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন।
মানুষ সত্য না জানার কারণ হিসেবে আমু বলেন, দুই একটি বাস বা ট্রাক পোড়ানো এমনভাবে মানুষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে বা সম্প্রচার হয়েছে সে জন্য তারা মনে করে সারা দেশে অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। এ সত্য বিষয়গুলো দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরতে মিডিয়া মালিকদের অনুরোধ করেছি। সন্ত্রাস ও নাশকতা কখনো একটা জাতিকে পথ দেখাতে পারে না জানিয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাস জাতিকে, রাজনীতিকে পথ দেখাতে পারে না। আদর্শ স্থাপন করতে পারে না।
শিল্পমন্ত্রী আরো বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ বা নাশকতা এগুলো মানুষকে নিরাপত্তাহীন করতে পারে, নিরাপত্তা দিতে পারে না। আজকে যে কাণ্ড তারা করছে, এতে মানুষের নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হচ্ছে, মানুষের নিরাপত্তা নেই। এ কর্মকাণ্ড কোন সরকার বা ব্যাক্তির বিরুদ্ধে করা হচ্ছে না, এটা করা হচ্ছে দেশের বিরুদ্ধে, জাতির বিরুদ্ধে।
অঞ্জন চৌধুরী বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কি দায়িত্ব এবং দেশে যে ঘটনাগুলো ঘটছে এতে আমদের কি ভূমিকা, সে ভূমিকা আমরা কিভাবে পালন করছি। টিভি চ্যানেল এ নাশকতাকে উৎসহিত করলে দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আলোচনায় সত্য বিষয়টি তুলে ধরার জন্য মন্ত্রীরা আমাদের যথেষ্টভাবে উৎসাহিত করছেন।
অঞ্জন চৌধুরী আরো বলেন, এ ছাড়া আরো একটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, আমাদের ক্যাবল অপারেটররা ভারতের টিভি চ্যানেলগুলোকে যেভাবে প্রধান্য দিচ্ছে। শিল্প, বাণিজ্য, তথ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে একমত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের অবশই করনীয় রয়েছে। অতি দ্রুত এ বিষয়ে একটা আন্তমন্ত্রণালয় সভা করবে, যাতে অর্থমন্ত্রীও থাকবেন।