Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৭:১৪ ঢাকা, বুধবার  ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

“নার্সিং-ধাত্রী পেশাজীবীরা শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতার স্বীকৃতি পাবে”

মন্ত্রিসভা বৈঠকে নার্সিং, ধাত্রী এবং সংশ্লিষ্ট পেশায় ডিগ্রিধারীদের রেজিষ্ট্রেশন প্রদানের লক্ষ্যে একটি কাউন্সিল গঠনের বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ নার্সিং ও ধাত্রী পরিষদ আইন-২০১৬’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, পদাধিকার বলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রধান করে ২৪ সদস্য বিশিষ্ট পরিষদ গঠিত হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) মতো বাংলাদেশ নার্সিং এন্ড ধাত্রী পরিষদ নার্সিং ধাত্রী পেশাজীবীদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতার স্বীকৃতি দিবে। প্রস্তাবিত আইনটি বাংলাদেশ নার্সিং অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৩ এর স্থলাভিষিক্ত হবে। তিনি আরো বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনের খসড়াটি ‘আরো সম্প্রসারিত আকারে’ এবং বাংলায় অনুবাদ করে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর আগে সুপ্রীম কোর্ট সামরিক শাসনকালে জারিকৃত সকল অধ্যাদেশ অবৈধ ঘোষণা করেছে।
খসড়া আইনটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আলম বলেন, কোন ব্যক্তি দেশী-বিদেশী কোন প্রতিষ্ঠান থেকে নার্সিং এর ওপর অর্জিত নার্সিং ডিপ্লোমা ও পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রীর মতোই তার ধাত্রীবিদ্যা ও নাসিং ডিগ্রি ব্যবহার করতে চাইলে তা অবশ্যই পরিষদ থেকে স্বীকৃত হতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পরিষদ বছরে কমপক্ষে দুটি সভা করবে এবং সদস্যদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। সভায় এক তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতিতে কোরাম হবে। খসড়া আইন অনুযায়ি নার্স, ধাত্রী এবং সহযোগি পেশাজীবিদেরকে পরিষদে নিবন্ধিত হতে হবে। তাদের নাম এবং বিস্তারিত তথ্যসহ একটি রেজিষ্টার সংরক্ষণ করতে হবে।
আইন অনুযায়ি, পরিষদে নিবন্ধন ছাড়া কোন নার্স, ধাত্রী ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবিদের গ্রহণযোগ্যতা নিষিদ্ধ হবে।
তিনি বলেন, নিবন্ধনকৃত নার্স, ধাত্রী বা সংশ্লিষ্ট পেশাজীবিরা সুনিদিষ্ট বিধি ও নীতিমালা লংঘন করলে, তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হবে এবং পরিষদের রেজিষ্টার থেকে তাদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়া হবে।
তবে পরিষদ রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করার ৩০ দিনের মধ্যে কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আপীল করতে পারবেন।
কোন ব্যক্তি নার্স, ধাত্রী এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীর ভুয়া পদবি ব্যবহার করলে তাকে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদন্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে।
মন্ত্রী পরিষদ সচিব বলেন, বৈধ রেজিষ্ট্রেশন ছাড়া কেউ নার্সিং ও ধাত্রী পেশা গ্রহন করলে তাকে সর্Ÿোচ্চ তিন বছরের কারাদন্ড অথবা এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা যাবে।

আলম জানান, মন্ত্রিসভা ১৯৬০ সালে বিদ্যমান বেসামরিক বিমান চলাচল অধ্যাদেশ-এর পরিবর্তে নীতিগতভাবে বেসামরিক বিমান চলাচল আইন অনুমোদন করেছে।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সালে এই অধ্যাদেশ জারির পর থেকে বেসামরিক বিমান চলাচল সেক্টর এ সময়ে ব্যাপক পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইন হালনাগাদ করণে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান সংস্থার (আইসিএও) পক্ষ থেকে দাবিও ছিল।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায় এই নতুন আইনে ফ্লাইটে নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিয়োগ, দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সহায়তা প্রদান, বেসামরিক পরিবহন ফ্লাইট হিসেবে নিজস্ব বিমানের ব্যবহার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বেসামরিক বিমানের নিয়ন্ত্রণের মতো আইন প্রণয়নে সরকারের সুযোগ বৃদ্ধি করবে।
আলম বলেন, যদি কোন বিদেশী উড়োজাহাজ আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের আকাশ সীমা লংঘন করে তবে অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদ- অথবা দুই কোটি টাকা জরিমানা হতে পারে।
অপরদিকে বাংলাদেশে কোন বিদেশী উড়োজাহাজ ইজারায় আনা হলে অথবা বিদেশে কোন বাংলাদেশী উড়োজাহাজ ইজারা দেয়া হলে সেক্ষেত্রে ‘নিরাপত্তা তদারকি দায়িত্ব’ নিশ্চিত করতে হবে।
তাছাড়া তিনি আরো বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পথে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পাইলটদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদ- অথবা এক কোটি টাকা জরিমানা হতে পারে।
আলম বলেন, এত বছরে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান শিল্প যেসব পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছে এই খসড়া আইনে সার্বিকভাবে তা আন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মন্ত্রিসভা নীতিগতভাবে সরকারি ক্রয় (৪র্থ সংশোধনী) বিল ২০১৬-এর খসড়াও অনুমোদন করেছে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী ‘খোলা দরপত্র পদ্ধতির আওতায় দরপত্রে অংশগ্রহণকারীরা দরপত্র আহ্বানের সরকারি প্রাক্কালন মূল্যের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি অথবা কম উল্লেখ করতে পারবেন না। অন্যথায় তাদের দরপত্র বাতিল হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, নতুন প্রস্তাবিত সংশোধনীতে তালিকাভুক্ত সীমিত অংশগ্রহণকারী অথবা দরপত্রে অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে সীমিত দরপত্র পদ্ধতির আওতায় দরপত্রের বর্তমান দুই কোটি টাকার সিলিং তিন কোটি টাকায় উন্নীত হবে।
মন্ত্রিসভাকে ২০১৫ সালের ২-৬ নভেম্বর লন্ডনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল মার্ট (ডাব্লিউটিএম) ২০১৫-এ বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়েও অবহিত করা হয়।
এর আগে মন্ত্রিসভায় সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক মোস্তফা শহীদের মৃত্যুতে একটি শোক প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।
সভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীগণ অংশ নেন। এ সভায় সংশ্লিষ্ট সচিবগণও উপস্থিত ছিলেন।