Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৭:৩৪ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর

নারী নির্যাতনের অভিযোগের মুখে মন্ত্রী আকবরের পদত্যাগ

নারী নির্যাতনের অভিযোগের মুখে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর পদত্যাগ করেছেন। বুধবার দুপুরে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে খবর প্রকাশ করেছে ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।

এম জে আকবর তার পদত্যাগপত্রে, যেহেতু আমি ব্যক্তিগতভাবে আদালতে বিচার চেয়েছি, তাই বিচারের স্বার্থে আমি আমার কার্যভার (মন্ত্রিত্ব) থেকে ইস্তফা দেয়াটাই সমীচীন মনে করছি। আমার বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে আমি ব্যক্তিগতভাবেই আইনি লড়াই লড়তে চাই। তাই আমি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি।

এম জে আকবর টাইমস অব ইন্ডিয়া দিয়ে তার সাংবাদিকতা ক্যারিয়ার শুরু করেন। পরে কলকাতা থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক দি টেলিগ্রাফের সম্পাদক হন তিনি।

তার বিরুদ্ধে প্রিয়া রামানি নামের এক নারী সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলে। প্রায় এক বছর আগে ভোগ ম্যাগাজিনের ভারত সংস্করণে প্রকাশিত প্রবন্ধে তিনি এই যৌন নির্যাতনের কথা বলেছিলেন।

টুইটবার্তায় প্রিয়া রামানি বলেন, ‘সেই ঘটনার জন্য দায়ী এম জে আকবর।’ এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকজন নারী যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন, যাদের বেশির ভাগই সাংবাদিক। তাদের অভিযোগ, মন্ত্রী আকবর সম্পাদক থাকাকালীন তারা যৌন হেনস্তার শিকার হন।

গত ৮ অক্টোবর ভারতের দুই নারী সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন। এরপর তার দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নারী ও শিশু উন্নয়নবিষয়কমন্ত্রী মণিকা গান্ধী এ ঘটনায় তদন্ত দাবি করেন।

এদিকে টুইটারে যৌন হেনস্তার অভিযোগ করা সাংবাদিক প্রিয়া রামানির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশিষ্ট সাংবাদিক এম জে আকবর। রোববার নাইজেরিয়া থেকে দেশে ফিরেই আকবর জানিয়েছিলেন, যৌন হেনস্তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দেবেন না। বরং আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

ওই মানহানি মামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তার বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ করেছেন নারী সাংবাদিক তুষিতা পাটেল।

তুষিতা পাটেল একটি খোলা চিঠিতে আকবরের যৌন হেনস্তার তিনটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন। তুষিতা বেশ কিছু দিন আকবরের সঙ্গে কাজ করেছিলেন দৈনিক ‘ডেকান ক্রনিকল’এ।

তিনি লিখেছেন, আকবর তাকে কলকাতার একটি হোটেলে দেখা করতে বলেছিলেন। সেই ঘরে পৌঁছে দেখেন, একটি আন্ডারওয়্যার পরে বসে আছেন আকবর। এই দিন খুবই অপ্রস্তুত বোধ করেছিলেন তুষিতা। এক বছর পরে তুষিতা যোগ দেন ‘ডেকান ক্রনিকল’এ। একবার সেখানকার এডিটর-ইন-চিফ ছিলেন। ওই সময় কাজের অছিলায় হোটেলের ঘরে ডেকে তাকে জাপটে ধরে চুমু খেয়েছিলেন আকবর। পরের দিন হোটেলের কনফারেন্স রুমে তুষিতাকে ডাকেন আকবর। তুষিতা এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কাজের অছিলায় তাকে আবার ডাকেন আকবর। সেখানে তুষিতাকে একলা পেয়ে জাপটে ধরে আবার চুমু খান আকবর।

তুষিতা লিখেছেন, সে দিন আমি ওই ঘটনার পর বাথরুমে গিয়ে চোখে-মুখে জল দিয়েছিলাম। আর কেঁদেছিলাম।

তুষিতা বলেছেন, আকবর যদি এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন, তাহলে সেই মামলা তিনি লড়তে রাজি আছেন। তুষিতা এও জানিয়েছেন, শিগগিরই আরও অনেক নারী সাহসে ভর করে আকবরের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাবেন।