ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ২:৪৩ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ
দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ, ফাইল ফটো

নারীকে দুর্নীতির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, দুর্নীতির মাধ্যম হিসেবে নারীকে ব্যবহার করে অবৈধ আয় ও সম্পদ গোপন করা হচ্ছে। নারী শুধুমাত্র সচেতনতার অভাবে বা দুর্নীতিমনষ্ক পারিবার প্রধানের নানাবিধ অনৈতিক চাপে সঠিকভাবে না জেনেই এ অপরাধের অংশীদার হয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘পারিবারিক সিদ্ধান্ত-গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর সীমিত ক্ষমতা, প্রতিবাদে বা বিরুদ্ধাচরণে সামাজিক বাধা-বিপত্তি, প্রতিবাদের অপর্যাপ্ত স্বাধীনতার ফলে বেশিরভাগ নারী এ অন্যায়ের বিরুদ্ধ রুখে দাড়াতে পারছেন না।’

রোববার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে ‘দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ আয় ও সম্পদের পারিবারিক দায়: নারীর ঝুঁকি ও করণীয়’ শীর্ষক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

টিআইবি’র নির্বাহি পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড, সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান প্রমুখ। কার্যপত্র উপস্থাপন করেন প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাম্মী লায়লা ইসলাম।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, বিদ্যমান আইন ও সহায়ক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আইনী সুরক্ষা বিষয়ে অবগত না হওয়ায় নারীরা ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। এ ঝুঁকি মোকাবেলা ও সার্বিকভাবে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে নারীর ক্ষমতায়ন, সিদ্ধান্ত-গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অধিকতর অন্তর্ভুক্তি, বিষয়-ভিত্তিক সচেতনতা, গণমাধ্যমে প্রচারণা, বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা-বিতর্ক অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘নারীর এ ঝুঁকি নিরসনে দুদক সক্রিয় রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানসমূহসহ সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।’

সভায় জানানো হয়, ২০০৭ সাল থেকে ২০১৮ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত সময়ে দুদক কর্তৃক দায়েরকৃত ২৯টি মামলায় ২৯ জন নারীকে তাদের স্বামীর দুর্নীতির কাজে সহায়তা বা জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন বা সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে অধস্তন আদালত থেকে কারাদন্ড বা আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০১৫ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত দুদক পরিচালিত স্বামীর অবৈধ সম্পদ স্ত্রীর নামে অর্জন সংক্রান্ত ১১৮টি অনুসন্ধান চালানো হয়। এক্ষেত্রে তদন্তাধীন মামলার সংখ্যা ৩০টি এবং চার্জশীটকৃত মামলার সংখ্যা ১৪টি।

মতবিনিময় সভায় আরো অংশগ্রহণ করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, এ্যাকশন এইড বাংলাদেশ এর দেশীয় পরিচালক ফারাহ কবির, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ এর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবির, নিজেরা করি এর সমন্বয়ক খুশি কবির, দুদক এর

মহাপরিচালক (তদন্ত) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ও মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) জনাব মাহমুদ হাসানসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ।

বক্তব্য প্রদান পর্ব শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ ও টিআইব’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

সভার কার্যপত্রে বলা হয়, দুর্নীতির মাধ্যম হিসেবে নারীকে ব্যবহার করে অবৈধ আয় ও সম্পদ গোপন করা হচ্ছে এবং দুর্নীতির সুবিধাভোগী হিসেবে নারী অর্জিত অবৈধ আয়ের মালিকানা অর্জন করছে।

দুর্নীতির মাধ্যম অর্জিত আয় ও সম্পদের দায় নারীর ওপর ভিন্ন একধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি করছে। নারী বিভিন্ন ভূমিকায় এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করছে।

তারা বলেন, দুর্নীতির শিকার হিসেবে নারীরা তাদের স্বামীর দুর্নীতির দায় নিতে বাধ্য হচ্ছে এবং দুর্নীতির সংঘটক হিসেবে সার্বিকভাবে স্বামীর দুর্নীতিতে সহায়তাকারী হিসেবে নারী ভূমিকা পালন করছে। এই প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ নারীর লৈঙ্গিক পরিচয়ের কারণে দুর্নীতির ক্ষেত্রে নারীর অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে।

‘দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ আয় ও সম্পদের পারিবারিক দায় : নারীর ঝুঁকি ও করণীয়’ শীর্ষক কার্যপত্রে সুপারিশে বলা হয়, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত আয় ও সম্পদের যে দায় নারীকে বহন করতে হচ্ছে তার সাথে নারীরা কতখানি সজ্ঞানে জড়িত তা নিরূপনে আরও গবেষণা ও নীতি কাঠামো সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন।

এতে আরও বলা হয়, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত আয় ও সম্পদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত দায় সম্পর্কে নারীদের সজাগ ও সচেতন করার উদ্দেশ্যে প্রচারণা চালাতে হবে। এই প্রচারণার মাধ্যমে আইনি বাধ্যবাধকতা ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের শাস্তি সম্পর্কেও জানাতে হবে।

পাশাপাশি, কোন নারীর নামে কোন অর্থ গচ্ছিত রাখা বা সম্পদ ক্রয় করার সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ওই অর্থ বা সম্পদের উৎস এবং বৈধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। নারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধান, তদন্ত ও মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সংবেদনশীল হতে হবে এবং আরও নারী-বান্ধব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।