ব্রেকিং নিউজ

রাত ২:৫৪ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

না'গঞ্জের সাত খুন
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়, ফাইল ফটো

নারায়ণগঞ্জে ৭ খুন: অভিযোগপত্র গ্রহণ, গ্রেফতারি পরোয়ানা

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের একটি মামলায় নারাজী আবেদন খারিজ করে দিয়ে্ চার্জশীট গ্রহণ করেছেন আদালত। এজাহার থেকে আওয়ামী লীগ নেতাসহ পাঁচজনকে অব্যাহতি দেয়ায় নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ওই না রাজী আদেন করেছিল।
বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইদুজ্জামান শরীফ-এর আদালত এ আদেশ দেন।
একই সঙ্গে আদালত মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
সাত খুনের ঘটনায় প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণ শেষে হত্যার ঘটনায় নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এ মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে অ্যাডভোকেট চন্দন সরকার ও গাড়ি চালক ইব্রাহিমকে অপহরণ ও হত্যা মামলার বাদী ছিলেন চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল। এ মামলায় আসামি অজ্ঞাত করা হয়েছিল।
গত ৮ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী সংস্থা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দুটি মামলার অভিন্ন চার্জশীটে ভারতের কলকাতায় গ্রেফারকৃত সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ র‌্যাবের চাকুরীচ্যুত তিনজন আলোচিত কর্মকর্তাসহ ৩৫জনকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে বিউটির মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামি। যাদের মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সেক্রেটারী হাজী ইয়াছিন মিয়া রয়েছেন।
এ ঘটনায় গত ১১ মে আদালতে সেলিনা ইসলাম বিউটি চার্জশীটের বিরুদ্ধে না রাজী প্রদান করেন। আদালত আজ তা খারিজ করে দেন।
নারাজী আবেদনের বাদী নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটির কৌশুলি নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, তারা এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
অন্যদিকে সরকার পক্ষের এপিপি কে এম ফজলুর রহমান জানান, সাত খুনের ঘটনায় দুটি মামলার মধ্যে নিহত চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল চার্জশীট নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে মামলায় দীর্ঘসূত্রিতা ঘটাতে সেলিনা ইসলাম বিউটি না রাজী দিয়েছিল। শুনানী শেষে আদালত নারাজী খারিজ করে দিয়ে চার্জশীট গ্রহণ করেছেন।
এদিন সাত খুনের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন ও এমএম রানাসহ ৩২ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল খান সাহেব ওসমান আলী জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহৃত হন। ৩০ এপ্রিল বিকেলে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জন এবং ১ মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।