Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:০১ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

‘নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক লাঞ্চনার প্রতিবেদন দাখিল’

নারায়ণগঞ্জে বন্দর থানা এলাকার স্কুল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্জনার ঘটনায় হওয়া সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করা হয়েছে।

বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু আজ এ প্রতিবেদন দাখিল করেন। এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১০ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।

পুলিশের দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে ওই ঘটনার জন্য সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে দায়ী করা হয়নি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে,

সেদিন বন্দল থানা এলাকার পিয়ার সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনা ছিল আকস্মিক। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম ওসমান উভয়ই উদ্ভুত ঘটনার শিকার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যেহেতু ঘটনাটি আকস্মিক এবং শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত ও সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান উভয়ই ঘটনার শিকার, সেহেতু কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে কাহারও কোনো কোনোরূপ অভিযোগ নাই। কেউ কোনোরূপ কোনোরূপ জবানবন্দিও দেয়নি। তাই এ বিষয়ে কাহারও বিরুদ্ধে কোনোরূপ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি ।

এর আগে গত ৩ আগস্ট প্রতিবেদনটি নারায়ণগঞ্জের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জমা দেয়ার পর তা নথিভুক্ত হয়েছে। এরপর সেটি হাইকোর্টে আসে।

গত ১৪ মে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে বিদ্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে মারধর করা হলে তিনি আহত হন।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে গত ১৮ মে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ঘটনায় কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা সংশ্লিষ্টদের জানানোর নির্দেশও দেয় আদালত। এডভোকেট এম কে রহমান ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসিন রশিদ পত্রিকায় প্রকাশিত শিক্ষক লাঞ্জনার ঘটনায় গনমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন। এরপর আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। রুলের প্রেক্ষিতে ৯ জুন প্রশাসন প্রতিবেদন জমা দিলেও নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) প্রতিবেদন জমা দিতে দুই মাস সময় চান। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে ৪ আগস্ট পুলিশ প্রতিবেদন জমা দিতে বলে। আর এ বিষয়ে শুনানির জন্য আজ ৭ আগস্ট দিন নির্ধারণ করা হয়। সেই প্রেক্ষিতেই এবার জিডির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হল ।