ব্রেকিং নিউজ

রাত ৩:৫৭ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ৭ খুন : সাংবাদিকদের এজলাস থেকে বের করে দেয়ায় উদ্বেগ

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের মামলায় নিহত অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের জামাতা ডা. বিজয় পাল সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হয়েছে।

আগামী ৭ মার্চ বিজয় পালকে জেরা করবেন আসামি পক্ষের আইনীজীবীরা। এর আগ পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবি করেছেন আদালত।

এদিকে আগামী ৩ মার্চ নিহত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে বিজয় পাল সাক্ষ্য দেন। এ সময় সাতখুন মামলায় কারাবন্দি ২৩ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে র‍্যাবের আট সদস্যসহ ১২ আসামি এখনো পলাতক। তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কাজ চলছে।

আজ সাক্ষ্য গ্রহণের আগে এজলাসকক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এতে বাদী পক্ষ ন্যায় বিচার পাওয়ার ব্যাপারে শংকা জানিয়েছেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ উপলক্ষে সকাল ৯টার দিকে প্রধান আসামি সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন, র‍্যাবের সাবেক কর্মকর্তা লে. কর্নেল (বরখাস্ত)  তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর (বরখাস্ত) আরিফ হোসেন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (বরখাস্ত) এম এম রানাসহ ২৩ জন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

সেখানে প্রথমে তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। সকাল সোয়া ১০টার দিকে সেখান থেকে আসামিদের আদালতের কাঠগড়ায় নেওয়া হয়।

এ সময় আগে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) আইনজীবী ওয়াজেদ আলী খোকন ও নূর হোসেনের আইনজীবী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা আদালতে উপস্থিত সাংবাদিকদের বের হয়ে যাওয়ার কথা বলেন। সঙ্গে সঙ্গেই সাংবাদিকদের আদালতের এজলাসকক্ষ থেকে বের করে দেয় পুলিশ।

এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। ডা. বিজয় পাল সাড়ে ১০টা থেকে টানা সোয়া ১টা পর্যন্ত সাক্ষ্য দেন।

এরপর সাক্ষী বিজয় পালকে আসামি পক্ষের জেরা করার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে নেই জানিয়ে সময় আবেদন করেন প্রধান আসামি নূর হোসেনের আইনজীবী খোকন সাহা। আদালত আবেদন গ্রহণ করে ৭ মার্চ পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করেন।

এদিকে সাক্ষ্যগ্রহণকালে সাংবাদিকদের এজলাস থেকে বের করে দেয়ায় সাত খুনের বিচার নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন নিহতদের স্বজন ও আইনজীবীরা।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, সাতখুন মামলা দেশের সবচেয়ে আলোচিত মামলার একটি। এ মামলার বিচারের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার জন্য বিচার কাজ প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে হতে হবে। অন্যথায় নিহতদের স্বজন ও জনগণের মধ্যে সন্দেহ-সংশয় তৈরি হবে।

মামলার পরবর্তী দিনে সাংবাদিকদের আদালতে উপস্থিতির উপর থেকে বাধা তুলে নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গত বছরের ১৭ জুন সাত খুনের ঘটনায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন র‌্যাব-১১ এর চাকরিচ্যুত অধিনায়ক ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল তারেক সাঈদ।

৪ জুন র‌্যাব-১১ এর উপঅধিনায়ক ও অবসরে পাঠানো মেজর আরিফ হোসেন ও পরদিন ৫ জুন নৌ বাহিনীর কমান্ডার এম এম রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহৃত হন।

৩০ এপ্রিল বিকালে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জন এবং ১ মে সকালে অপরজনের লাশ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় নিহত নজরুলের শ্বশুর ছয় কোটি টাকার বিনিময়ে র‌্যাব তাদের হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন।

পরে এ ঘটনায় সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। তবে ভারতে পালিয়ে যান নূর হোসেন।

সাত খুনের ঘটনার পরেই ত্রাণমন্ত্রী ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার জামাতা তারেক সাঈদ ও তার অধস্তনদের বিরুদ্ধে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে গত ১৬ মে রাতে তারেক সাঈদ ও আরিফ হোসেন এবং ১৭ মে এম এম রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। র‌্যাবের এ তিন কর্মকর্তাকে প্রথমে প্রত্যাহার এবং পরে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।