ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১২:৪০ ঢাকা, শুক্রবার  ২০শে এপ্রিল ২০১৮ ইং

ডিএমপি কমিশনার
মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বিপিএম(বার),পিপিএম-কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ

‘নাগরিক নিরাপত্তা’ নিয়ে লিখেছেন ডিএমপি কমিশনার

নাগরিক নিরাপত্তায় হেল্প ডেস্ক

ঢাকা মহানগরকে একটি নিরপরাধ ও সহনীয় অপরাধমুক্ত নগরীতে পরিণত করা এবং নাগরিক জীবনে নিরাপত্তা বিধানের নিমিত্তে ডিএমপিতে হেল্প ডেস্ক গঠন করা হয়েছে। অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি, টেলিফোনে চাঁদা দাবি, টেলিফোনে হয়রানি এবং প্রতারণা, টেলিফোনে হুমকি প্রদান, ইন্টারনেটে হয়রানি ও প্রতারণা, নিখোঁজ ব্যক্তির অনুসন্ধান ও প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ে আইনগত সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

এ কথা সর্বজনস্বীকৃত যে, জনসম্পৃক্ততা এবং জনগণের অংশগ্রহণ ব্যতীত আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধির জন্য সমাজ থেকে পুলিশভীতি ও অপরাধভীতি দূর করা প্রয়োজন। পুলিশ এবং জনতা অংশীদারিত্বের মধ্য দিয়ে কাজ করার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে সমাজে প্রতিষ্ঠা পাবে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ধারণা পুরনো হলেও বর্তমান ইন্সপেক্টর জেনারেল বাংলাদেশ পুলিশ, এ কে এম শহীদুল হক বিপিএম, পিপিএম ২০০৭-০৮ সালে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি থাকাকালে সুপরিকল্পিত এবং সুসংগঠিতভাবে রাজশাহী বিভাগের প্রতিটি থানায় কমিউনিটি পুলিশিং প্রথা চালু করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থাকে বেগবান করা হয় এবং সাধারণ মানুষ এর ইতিবাচক ফল ভোগ করতে শুরু করে। মহানগরীর ব্যস্ত এবং বহুমাত্রিক সমাজে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা বাস্তবায়নে ভিন্ন কলাকৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন। দেশের নানা অঞ্চলের, নানা পেশার লোকজনের বসবাস এ শহরে। এ নগরীকে ভৌগোলিক অবস্থা বিবেচনায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বা বিটে বিভক্ত করে প্রতিটি বিটে সাব-ইন্সপেক্টর পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ভাগ করে দিলে জনগণের সঙ্গে ব্যক্তি এবং সমষ্টিগত যোগাযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে পুলিশ এবং জনগণের দূরত্ব হ্রাস করা সম্ভব। তা ছাড়া থানা পর্যায়ে ব্যাপক জনবল (বিশেষ করে এসআই এবং এএসআই)-কে সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগানো এবং তাদের জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া দরকার। এ বাস্তবতা বিবেচনায় বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে পুলিশের সেবাকে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং পুলিশের সেবা কার্যক্রমকে গতিশীল ও কার্যকর করা তথা জনবান্ধব পুলিশিং বাস্তবায়ন করাকে অন্যতম লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

২০১৫ সালের নভেম্বর মাস থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিট পুলিশিংয়ের যাত্রা শুরু। অপরাধ বিভাগের সব উপ-পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করে এবং তাদের পরামর্শ নিয়ে বিট পুলিশিং কার্যক্রম শুরু হয়। উপ-পুলিশ কমিশনাররা থানার অফিসার ইনচার্জদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রতিটি থানাকে তাদের সুবিধা মতো ৩ (তিন)-টি থেকে ৯ (নয়)-টি বিটে ভাগ করেন এবং প্রতিটি বিটে একাধিক এসআই, এএসআই এবং কনস্টেবল নিয়োগ করেন। অনেক ক্ষেত্রে বিট অফিসারদের মধ্য থেকেই তাদের অধিক্ষেত্র এলাকায় প্যাট্রোলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়, দেওয়া হয় ওই এলাকায় সংঘটিত মামলার তদন্তভার। বর্তমানে ঢাকা মহানগরে ২৮৭টি বিট কার্যকর আছে। বিট এলাকায় কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের কাজ সুনির্দিষ্টকরণ প্রয়োজন হয়ে পড়ে। দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্দিষ্ট করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম)-কে। অপরাধ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে বিট অফিসারদের জন্য একটি রেজিস্টার তৈরি করা হয়। রেজিস্টার অনুসারে বিট অফিসারদের প্রধান কাজ তথ্য সংগ্রহ। কারণ যে কোনো অভিযান পরিচালনা কিংবা অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে প্রয়োজন তথ্য। তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রমের ফলে পুলিশের প্রতিটি এলাকা, এলাকার অপরাধ এবং অপরাধী সম্পর্কে ধারণা বৃদ্ধি পাবে। এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বসবাসকারীদের কৌশলগত অবস্থান এবং এলাকাবাসী সম্পর্কে তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে। এতে করে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট অপরাধী শনাক্ত করা সহজতর হবে এবং অপরাধ দমন ও উদঘাটনে পুলিশের রেসপন্স টাইম কমে আসবে।

লেখক : মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বিপিএম(বার),পিপিএম-কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।