ব্রেকিং নিউজ

ভোর ৫:১০ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

বিএনপি
বিএনপির উদ্যোগে বাংলাদেশ 'নাগরিকত্ব আইন-২০১৬' এর খসড়া নিয়ে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়

নাগরিকত্ব আইন বানানোর উদ্দেশ্য কী?

বাংলাদেশের নাগরিকত্ব থেকে কিছু ব্যক্তিকে শুধু রাজনৈতিক কারণে বঞ্চিত করতে এবং একটি বিশেষ পরিবারের বিদেশী সদস্যদের নাগরিক বানানোই নাগরিকত্ব আইন-২০১৬ এর মূল স্পিরিট।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বিএনপির উদ্যোগে বাংলাদেশ ‘নাগরিকত্ব আইন-২০১৬’ এর খসড়া নিয়ে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি সমর্থিত শিক্ষাবিদ ও আইনজীবীসহ পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই আইনের উদ্দেশ্য কী? এই আইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে- তাদের (শাসকদল) ক্ষমতাকে আরও বেশি সংহত করা, শাসক গোষ্ঠীর নিরাপত্তা প্রদান করা।’

‘অনেকে বলেছেন- কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিবার বা কিছু ব্যক্তি বা শাসকগোষ্ঠীর কিছু মানুষকে শুধু প্রটেকশন দেয়ার জন্যই এই আইন করা হচ্ছে’ যোগ করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এটা পরিষ্কার- আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে সুপরিকল্পিতভাবে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করতে যাচ্ছে। অন্য কোনো মত, অন্য কোনো পথ থাকবে না। তাদের চিন্তার মানুষগুলোই থাকবে- সেই লক্ষ্যে তারা একটার পর একটা আইন করে চলেছে।’

নাগরিকত্ব আইনের খসড়ায় প্রবাসীদের বিষয়ে প্রস্তাবনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই খসড়ায় প্রবাসীদের কথা বলা হয়েছে- তারা দেশে ফিরে আসলে ছয় বছরের আগে  কোনো রাজনৈতিক দল করতে পারবে না, কোনো সংগঠন করতে পারবে না এমনকি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পর্যন্ত অংশগ্রহণ করতে পারবে না।’

‘এরকম একটা অদ্ভূত আইন এটি। মানুষের অধিকার হরণের এই রকমের আইন হতে পারে  না- এটা আমরা কল্পনাও করতে পারি না’ বলেন মির্জা ফখরুল।

সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আইনটির খসড়া দেখে মনে হচ্ছে এটি হয় অপরিপক্কতা না হয় অমনোযোগিতায় করা হয়েছে। তা নাহলে এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে। এটা কী ছেলে- খেলা!’

সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘এই আলোচনা সভার মাধ্যমে অবৈধ সরকারের আইন ঠেকানো যাবে না। এর ফয়সালা হয় আদালত না রাজপথেই করতে হবে।’

সাংবাদিক শওকত মাহমুদ বলেন, ‘এই আইনটির উদ্দেশ্য হচ্ছে- একটি পরিবারে অনেক বিদেশী নাগরিক আছেন, তাদের হয়তো নাগরিক বানাতে হবে। আর এমন অনেক নাগরিক আছেন, যাদের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করতে হবে শুধু রাজনৈতিক কারণেই। এটি হচ্ছে এই নাগরিকত্ব আইন-২০১৬ এর মূল স্পিরিট।’

তিনি বলেন, এরকম আইন অমানবিক আইনের খসড়া, আন্তর্জাতিক সনদেরও পরিপন্থী। কোনো নির্বাচিত সংসদ এ ধরণের আইন করতে পারে না।

বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঞ্চালনায় এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস  চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাইনুল আহসান খান, অধ্যাপক  বোরহানউদ্দিন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এম শাহিদুজ্জামান, সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, ডিবেট ফর  ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরন প্রমুখ।