ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:০৪ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

না'গঞ্জের সাত খুন
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়, ফাইল ফটো

না’গঞ্জের সাত খুন মামলার রায় কাল

প্রায় দীর্ঘ আড়াই বছর বিচারকাজ চলার পর আগামীকাল সোমবার নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে। বহুল আলোচিত এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে যেসব আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিনজন হলেন র‍্যাবের অবসরে পাঠানো সেনা কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন ও এমএম রানা। এ তিনজনই মূলত সাত খুনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জড়িত।

এমএম রানার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিটি ১১ পাতার, যেখানে উঠে এসেছে ৭ হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বিবরণ। ২০১৪ সালের ৫ জুন রানার আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। আলোচিত সাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রথম দায় স্বীকার করেন অপহরণ, হত্যা ও গুমের মিশনে নেতৃত্ব দেওয়া রানা। ২০১৪ সালের ১৭ মে ভোরে ঢাকা সেনানিবাসের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় এম এম রানাকে। পরে কয়েক দফা রিমান্ডে নেওয়ার পর রানা স্বীকারোক্তি দেন।

রানা আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন ২০১৪ সালের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে র্যাব-১১ অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মেজর আরিফকে সন্ত্রাসী নজরুলের একটি প্রোফাইল দেখিয়ে তাকে গ্রেফতার এবং আমাকে আরিফকে সহায়তার নির্দেশ দেন। নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল আমি আনুমানিক ১২-৩৫ মিনিটে কোম্পানি কমান্ডারের গাড়িযোগে মেজর আরিফের নিকট পৌঁছাই এবং গাড়ি ছেড়ে দেই এবং আমি মেজর আরিফের নীল কালারের মাইক্রোবাসে গিয়ে উঠি। আমি মাইক্রোবাসে উঠে দেখি মেজর আরিফ, নূর হোসেন, নিজস্ব সোর্স ও নিজস্ব গোয়ান্দাদের সঙ্গে নজরুলের বিষয়ে কথাবার্তা বলছেন। ওই সময় মেজর আরিফ আমাকে বলেন যে, স্যার, নজরুল একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, তার সঙ্গে ৪/৫টি আর্মস থাকে। আমরা সিভিল ড্রেসে তাকে গ্রেফতার করতে গেলে সে আমাদেরকে নূর হোসেনের লোক ভেবে গুলি করে বসতে পারে। তখন মেজর আরিফ বলেন যে, স্যার, আপনার ইউনিফর্ম্ধারী প্যাট্রোল টিমকে দিয়ে ফাঁকা জায়গায় নজরুলকে আটকাতে হবে। যেহেতু মেজর আরিফ অপারেশন কমান্ডার সেহেতু আমি তার কথামতো আমার ইউনিফর্ম্ধারী প্যাট্রোল টিমকে নজরুলকে আটকানোর নির্দেশনা দেই। আনুমানিক ১টার দিকে মেজর আরিফের নিকট ফোন আসে যে, নজরুল দুটি গাড়ি নিয়ে কোর্ট থেকে বের হচ্ছে। নজরুলের গাড়ি দুটি বের হওয়ার পর আমরা আমাদের মাইক্রোবাস দুটি নিয়ে ওই গাড়ি দুটিকে ফলো করি এবং প্যাট্রোল টিমকে গাড়ি দুটির বর্ণনা দিয়ে ফতুল্লা স্টেডিয়ামের পর সিটি করপোরেশনের গেটের নিকট ফাঁকা জায়গায় থামাতে বলি। নজরুলের গাড়ি দুটির একটি সাদা অন্যটি কালচে রঙের ছিল। ১-২০ মিনিটের দিকে প্যাট্রোল টিম নজরুলের গাড়ি দুটিকে সিটি করপোরেশনের গেটের মুখে থামায়। তখন আমাদের দুটি মাইক্রোবাসে থাকা সিভিল টিম নজরুলের গাড়ি দুটি থেকে সকল লোককে গ্রেফতার করে আমাদের মাইক্রোবাস দুটিতে তোলে।

আমি মাইক্রোবাস থেকে নেমে প্যাট্রোল টিমের সঙ্গে থেকে যাই এবং মেজর আরিফ ধৃত লোকদেরসহ মাইক্রোবাস দুটি নিয়ে চিটাগাং রোডের দিকে চলে যায়। আমি সিদ্ধিরগঞ্জ হতে সিএনজি করে আদমজীনগর ব্যাটালিয়ন সদরে ফিরে অধিনায়কের অফিসকক্ষে অধিনায়কের সঙ্গে দেখা করি এবং অধিনায়ককে অপারেশন বিষয়ে অবহিত করে জানাই যে, নজরুলসহ ৫/৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নজরুলের দুটি গাড়ির একটিকে সরানো হয়েছে অন্যটি ঘটনাস্থলে পড়ে আছে। তখন সিও স্যার বলেন যে, ওই গাড়িটিও সরানোর ব্যবস্থা কর। সিও-এর নির্দেশনা অনুযায়ী আমি ড্রাইভার-কনস্টেবল মিজানকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পরিত্যক্ত কালচে রঙের গাড়িটি নিয়ে আনুমানিক ৩-৪৫ মিনিটের সময় গুলশান ‘নিকেতনে’ রেখে আসি।

কালচে রঙের গাড়িটি নিকেতনে রেখে আসার সময় আমি গাড়িটিতে অ্যাডভোকেটের ভিজিটিং কার্ড দেখতে পাই তখন আমি বুঝতে পারি যে, এই গাড়ির লোকটি একজন অ্যাডভোকেট। নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পে পৌঁছে আনুমানিক ৫টার দিকে আমি সিওকে ফোন করে জানাই যে, নজরুলসহ ধৃতদের মধ্যে একজন অ্যাডভোকেট রয়েছেন।