ব্রেকিং নিউজ

রাত ১:৩৪ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

নলছিটির বিএনপি বেহেশতে !
এমপি এবং মন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও সাবেক জাপা'র এমপি মরহুম জুলফিকার আলী ভূট্রো

নলছিটির বিএনপি বেহেশতে !

 “মন্তব্য প্রতিবেদন”
মোঃ বজলুল করিম (সাব্বির), সম্পাদক

আমি বলবো আজ যারা নলছিটিতে বিএনপি করছেন তারা বর্তমান সরকারের সময় বেহেশতে আছেন। যদিও সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময় কিছু নেতাকর্মী মামলার মুখামুখি ও গ্রেফতার হয়েছেন। তথাপিও ভূট্রোর আমলের তুলনায় ৯৯% নিরাপদে আছেন। কারণ নলছিটির বর্তমান এমপি এবং মন্ত্রী আমির হোসেন আমু’র পূর্বতন জাপা’র এমপি মরহুম ভূট্রোর মতো দলীয় চামচিকার কথায় সিদ্ধান্ত নিতে হয় না। এমনকি তার ব্যাক্তিত্বের কারণে চামচিকারা তার কাছে যাবার সাহসও পায়না। আর নলছিটির বিএনপিতে হাতেগোনা কয়েকজন লোক আছেন যারা দলের জন্য আমার ছোটবেলা থেকেই লেগে আছেন সেটাই দেখছি যেমনঃ হেলাল খান, মাছুম শরীফ প্রমুখ বাকি সব সুসময়ের অপেক্ষায়। তারা ভূট্রোর সময়েও লিয়াজো করে চলেছেন।

এবারে আসা যাক আওয়ামী লীগের নলছিটির রাজনীতি প্রসঙ্গে। বাস্তবিক পক্ষে সে রকম ত্যাগী কোন নেতা আমার জানামতে নলছিটি আওয়ামী লীগে নেই। যারা আছেন তারা সুসময়ের কোকিল, দুঃসময় যদি আসে খুঁজেও পাওয়া যাবেনা। কারণ যাদেরকে বর্তমানে নেতা বলে চিনি বা জানি তাদের অনেকেই কোনদিন আওয়ামী লীগ করেনি। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কাণ্ডারি মরহুম বাসেত লস্কর ও মৌজেআলী সর্দারের মত নেতা এখন নেই। তাদের সাগরেদ হিন্ধু-মুসলিম মিলে ৫/৭জন নেতা আছেন। উদাহরণ সরূপ খন্দোকার ম‌জিবুর রহমান, এডভোকেট জি.কে মুস্তাফিজ প্রমুখ এর মত ত্যাগী ও সাহসী নেতার সংখ্যা খুবই কম যা ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগের কারণ হতেও পারে। আর যারা কোনোদিন আওয়ামী লীগে ছিলেন না তারাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নলছিটির আওয়ামী লীগের বর্তমান কর্ণধার।

সাবেক জাপা’র এমপি মরহুম জুলফিকার আলী ভূট্রো স্বৈরশাসকের দোসর হিসেবে মারাত্মকভাবে রাজনৈতিক নিপীড়ন করেছেন। এক কথায় তার সময়ে প্রায় প্রতি ঘরের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা জেল খেটেছেন নতুবা দফায় দফায় পুলিশি নির্যাতন ও হয়রানির স্বীকার হয়েছেন। স্বৈরশাসনের ৭/৮ বছরে রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা বাসায় ঘুমাতে পারেনি, রাত হলেই পুলিশ রেড দিত বাসা-বাড়িতে। এমনকি অভিভাবকদের ডেকে নিয়েও লোকসমাজে অপমান করা হত। তখন তার দল না করলে কিংবা তার মিছিল মিটিং-এ না গেলেই হয়ে যেত বিরোধী। তার দলের চাটুকার/উপদেষ্টা শ্রেণী ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। যাদের বাব দাদা ১৪ গোষ্ঠীর তেমন কোন নাম ডাক কিংবা যোগ্যতাও ছিলনা ঠিক তারাই ছিলেন তার পরামর্শক দাতা। তাদের পরামর্শে আওয়ামী লীগ, বিএনপি নেতাকর্মী, সমর্থক কিংবা তাদের পরিবার অত্যাচারের হাত থেকে রেহাই পায়নি। আর জামায়াত নামক দলটির তেমন কোন অস্তিত্ব ছিলনা বলেই চলে, তাই বেঁচে গিয়েছিল। ভূট্রো দলীয় লোকজনের অন্যায়কে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছিলেন। তিনি চোরকে চুরি করতে বলতেন-গৃহস্থকে সজাগ থাকতে বলতেন আর সেই সুযোগটা পুলিশ দিয়ে নিয়ে নিতেন। দু’হাতে টাকা আয় ও অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যয়ও করেছেন। আর চরিত্রের কথা না-ই বললাম। তবে সত্যি কথা বলতে কি ভূট্রো সাহেব থানার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন। তা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করতেই হয়। ভূট্রোর এই অত্যাচারের ইতিহাস নতুন প্রজন্ম জানেনা।

সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে জনাব আমির হোসেন আমু’র মতো ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ও জাতীয় নেতা নলছিটির এমপি থাকায় বিএনপি অত্যাচার থেকে রেহাই পাচ্ছে, সেই অর্থে বিএনপি বেহেশতে আছে বলা যায়।