ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:২০ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৬ই আগস্ট ২০১৮ ইং

রাসেল হাসান লিয়া
ইসলাম ধর্ম অবমাননাকারী মানসিক ভারসাম্যহীন সেই রাসেল হাসান লিয়া

নলছিটিতে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের চেষ্টায় কারা?

বেশ কয়েক বছর যাবত ফেসবুকে মহান আল্লাহ্ তায়ালা ও পবিত্র মুসলিম ধর্মের প্রতি চরম অবমাননাকর-কটাক্ষ মূলক পোষ্ট দিয়ে আসছিল মানসিক ভারসাম্যহীন রাসেল হাসান লিয়া নামক এক যুবক। বিগত ১৯ অক্টোবর রাতে নলছিটি থানা পুলিশ ওই লিয়াকে গ্রেফতার করে ইতিমধ্যে আদালতে সোপর্দ করেছে। কিন্তু ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ধর্ম অবমাননাকারী লিয়াকে কেন্দ্র করে নলছিটির একটি কুচক্র মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। পুলিশ জনতার হাত থেকে লিয়াকে উদ্ধার করে গ্রেফতার না করলে কুচক্রি মহলের হাতেই হয়তোবা তাঁকে জীবন দিতে হতো।

মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ওই লিয়াকে নিয়ে নলছিটির হাঁড়ির খবর রাখা একটি মহল মানসিক রোগী জানার পরেও সুস্থতা দাবি করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিতভাবে ফেসবুকে লিয়ার ফাঁসির দাবি উত্থাপন করে। সেখানে একাধিক পোষ্ট ও উস্কানিমূলক মন্তব্যের মাধ্যমে নলছিটির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চালানো হয়। ওই সব পোষ্টের কমেন্টসে অনেকেই ধর্ম অবমাননাকারীর প্রকৃত অবস্থা তথা ভারসাম্যহীনতার কথা না জেনে ধর্ম অবমাননাকারীর ফাঁসি দাবি করেছেন। কেউ কেউ লিয়ার প্রকৃত অবস্থা ‘মানসিক রোগী’ বলে জানাতে চেষ্টা করলেও তা খণ্ডন করে পাল্টা যুক্তিও উপস্থাপন করে পোষ্টদাতা তাঁর অনুসারীদের উস্কে দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে ওই পোষ্টে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগের পাশাপাশি ধর্মীয় উস্কানিও পরিলক্ষিত হচ্ছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে সাধারণত ওই পোষ্টদাতার সকল প্রকার পোষ্টে সর্বদা সহমত পোষণের পাশাপাশি তাঁর প্রচারণায় লিপ্ত থাকতে দেখা যায়।

২১ অক্টবরে নেয়া স্ক্রিনশট

লিয়াকে গ্রেফতারের পর থেকে পৃথক তিনিটি পোষ্ট থেকে সংগৃহীত খণ্ড খণ্ড উল্লেখযোগ্য কিছু কমেন্টস এখানে তুলে ধরতে চাই। Lata Shakil নামের একজন লিখেছেন, এতো কিছুর পরও কেউ কোন প্রতিবাদ করলোনা। “আজ হাদী হূজুরের কথা খুব মনে পরছে।” ওই পোষ্টে Hmshohel Sadaf নামের একজন লিখেছেন, “আঃ হাদী মাওলানার অভাবটা আজ মর্মে মর্মে টের পাচ্ছি। এখন মুসলমানদের প্রতিবাদ করার ভাষা নাই। না হলে তারা ভয় পাচ্ছে।”

এসব মন্তব্যের মাধ্যমে স্থানীয় শ্রদ্ধাভাজন আলেম সমাজকে প্রতিবাদ করার জন্য উস্কে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। যদিও আলেম সমাজ ধর্ম অবমাননাকারী লিয়ার মানসিক ভারসাম্যহীনতার খবর জেনে প্রতিবাদ না করে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন।

২১ অক্টবরে নেয়া স্ক্রিনশট

পোষ্টদাতা মুঃ মুনিরুজ্জামান মুনির লিখেছেন, ইসলামী বিধান মতে কতল করা উচিৎ। Md Sumon Talukder লিখেছেন, ওকে ধরে হাত পা কেটে দেওয়া দরকার। Farabi Rana লিখেছেন, প্রকাশ্যে গর্দান নেয়া হোক। Md Zahirul Islam লিখেছেন, ইসলামি আইন অনুযায়ী এই কাফের মুরতাদকে কতল করা মুসলমানদের জন্য ফরজ। Kaosar Hossain লিখেছেন, ওকে সিরচ্ছেদ করা হোক। Mirazul Islam Miraz লিখেছেন, ওর গলা কাটা উচিত। Mohammad Mohsin লিখেছেন, ওরে আগেই ফাঁসি দেওয়া উচিত ছিল। Kamal Hasan লিখেছেন, ওকে পাথর মেরে মারা উচিৎ। Mizanur Rahoman Monir লিখেছেন, ওকে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে ফাঁসি দিতে হবে। Mohasin Nalchity লিখেছেন, প্রকাশ্যে ফাঁসি দিতে হবে।

উল্লেখিত কমেন্টস গুলোতে জামায়াত ও কথিত আইএস জঙ্গিদের ভাষা লক্ষণীয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ধর্ম অবমাননাকারীদের ওই স্টাইলেই হত্যা করা হয়েছিল। এরা আদৌ কোন জঙ্গি সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এদের দ্ধারা কিংবা এদের ছবিসহ প্রচারণার কারণে মানসিক ভারসাম্যহীন ধর্ম অবমাননাকারী লিয়া জেল থেকে মুক্তি পেলে তাঁর জীবন সংকটাপন্ন হতে পারে। কারণ ওই স্টাইলেই ধর্ম অবমাননাকারীদের হত্যার অনেক নজির দেশে ঘটেছে।

২১ অক্টবরে নেয়া স্ক্রিনশট

Shawhawatuzz Murshed লিখেছেন, মনে হয় কোন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা পাইছে। Mohasin Nalchity লিখেছেন, মনে হয় ওর মোবাইল থেকে কেউ পোষ্ট করে। যাতে ওর উপর দোষ পড়ে, আর সবাই জানবে ও পাগল। Atikur Rahman লিখেছেন, মনে হয় যেকোন বিধর্মী কৌশলে লিয়াকে ব্যবহার করে ইসলাম বিরোধী পোষ্ট দিচ্ছে। Faruk Khan লিখেছেন, মানসিক রোগী রাজনীতি বোজে, নিজের ধর্মের বিরুদ্ধে বিষেদাগার করে, বিধর্ম ভালো বলে প্রচার করে, এ সবই ওর ভন্ডামি। M Mirajul Islam লিখেছেন, নলছিটতে কতো গুন্ডা আছে এগুলো এখন আর চোখে দেখে না, কতো মাওলানা আছে তাঁরা কি করে?

হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ওই সকল উস্কানিমূলক কমেন্টসের মাধ্যমে একটি সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হয়েছে।

২১ অক্টবরে নেয়া স্ক্রিনশট

Manjurul Islam Rasal লিখেছেন, ভাই আমরা কিছু যুবক মিলে কি আন্দলোনটা শুরু করতে পারি না?

মিঃ মিনহাজের এই কমেন্টসটি সবচেয়ে ভয়াবহ গুরুত্বপূর্ণ। এটাই ছিল উল্লেখিত চক্রের মূল টার্গেট। কারণ শত শত কমেন্টস ও শেয়ারের মাধ্যমে চক্রটি নলছিটিতে একটি সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। এখন প্রশ্ন থাকতে পারে তাতে তাদের লাভ কি? হ্যাঁ লাভ আছে, এই চক্রটির হোতা পোষ্টদাতা পুলিশের কারণে নলছিটি ছাড়া হয়েছেন। যদি ওখানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো যেত তবে স্বাভাবিকভাবেই ব্যর্থতার অভিযোগে ওসিকে প্রত্যাহার করে নিত প্রশাসন আর সেই সুযোগে তিনি হয়তো নলছিটিতে পুনরায় পদার্পণের জন্য এ পরিকল্পনা করে থাকতে পারেন।

 

  • ধর্ম অবমাননাকারী ‘লিয়া’ প্রসঙ্গ

ধর্ম অবমাননাকারী সেই ‘লিয়ার’ ফেসবুকের লেখাগুলো মহান আল্লাহ্ তায়ালা ও মুসলিম ধর্মের প্রতি চরম অবমাননা-কটাক্ষ মূলক এটা নিঃসন্দেহে সত্য ও উত্থাপিত অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি আছে। এহেন লেখনি ক্ষমার অযোগ্য তথা কঠিন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একটি বাস্তব সত্য কথা হচ্ছে একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক ধর্ম অবমাননাকারীর পাশে রক্তের সম্পর্কের মানুষও দাঁড়ায় না, প্রয়োজনে ধর্মের সন্মানে সন্তানও ত্যাগ করার দৃষ্টান্ত আছে। যারা কিছুটা লিয়া সম্পর্কে জানে তাঁরা নৈতিকতাবোধ থেকেই মতামত দিয়ে লিয়ার প্রকৃত অবস্থা জানানোর চেষ্টা করলেও সোশ্যাল মিডিয়ার বন্ধুদের ক্ষোভের কাছে তাদের মতামত স্থান পায়নি। তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ মুগ্ধ হওয়ার মতো। অনেকেই হয়তো আসল ঘটনা জানেন না তাই স্বাভাবিকভাবেই নৈতিকতা বোধ থেকে কোঠর ভাষায় প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন। সেটাই স্বাভাবিক এবং হওয়া উচিত। তবে জেনে শুনেও প্রতিক্রিয়া জানানোটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রহস্যজনক। অভিযুক্তের মা-বাবাকে নিয়ে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ উচিত হয়নি। যারা আইনকে হাতে তুলে নিতে চেয়েছেন তাদেরকে বলবো আইনকে হাতে তুলে নেয়ার দাবিও আরেকটি অন্যায়। ধর্মীয় উস্কানিও একটি মারাত্মক অপরাধ।

তাই সবার আগে জানা দরকার যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি মানসিকভাবে সুস্থ নাকি অসুস্থ? অভিযুক্ত ‘লিয়া’ যেহেতু, একজন মানসিক রোগী দাবি করা হচ্ছে। যা একটি চক্র মানতে রাজি নয়, সে কারণে আমাদের জানা দরকার ‘মানসিক রোগী কাকে বলে? শুধু ন্যাংটা হয়ে হাঁটলেই কিংবা নোংরা পোশাক পরিধান করলেই তাঁকে মানসিক রোগী বলে না। একজন চাকুরীজীবী বা পেশাদারও মানসিক রোগী হতে পারেন- যা বাহির থেকে বুঝতে পারা যায় না। ডাক্তারি মতে, আমরা যাকে সুস্থ স্বাভাবিক বলে জানি তিনিও মানসিক রোগী হয়ে থাকতে পারেন। বিজ্ঞান মতে, “মানসিক রোগী তিনিই যিনি নিজেকে নিজে নিয়ন্ত্রন করতে পারে না” ডাক্তারি মতে, পৃথিবিতে প্রতি ১০ জনে ০১ জন নিউরোসিস বা হাল্কা মাত্রার মানসিক রোগে ভুগছেন। একটু ইন্টারনেট ঘাটলেই মানসিক রোগী কে কারা তা জানা সম্ভব।

অনেকে পারিবারিক মান-সন্মানের কথা চিন্তা করেও উপযুক্ত চিকিৎসা না করিয়ে বিষয়টি চেপে রাখেন। একটা পর্যায় যখন প্রচণ্ড আকার ধারণ করে তখনই সাধারণত আমরা মানসিক রোগী বলে চিহ্নিত করতে সক্ষম হই।

লিয়া যেটা করেছে ক্ষমার অযোগ্য। কঠিনতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু লিয়া সুস্থ নয়, তাই ওর প্রতি আমাদের ক্ষোভ থাকলেও মানবিক কারণে সদয় হওয়া উচিত। এ দেশে ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করে মন্ত্রী পর্যন্ত রেহাই না পাবার নজির আছে। তাই বিজ্ঞ আদালতে সুস্থ স্বাভাবিক প্রমাণিত হলে লিয়াও রেহাই পাবে না।

সংশ্লিষ্ট সকল সূত্র থেকে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে জানাচ্ছি, লিয়ার সেই ২০০৯ – ২০১০ সাল থেকেই অস্বাভাবিকতা শুরু হয়। সে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরিবার তথা মা-বাবা-ভাই-বোন নিয়েও উল্টাপাল্টা কথা বলতো। নম্র-ভদ্র-মেধাবী লিয়া সম্পূর্ণরূপে পাল্টে যায়। এক পর্যায়ে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সরকারী কর্মকর্তার পদটিও ছেড়ে দিয়ে নলছিটিতে গিয়ে আরো অস্বাভাবিক আচরণে যুক্ত হয়। একজন মানসিক অসুস্থ রোগীর বিচার চাওয়াটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত সেই বিবেচনার ভার আপনাদের কাছেই ছেড়ে দিলাম। জানামতে, কোন দেশে মানসিক রোগী বিচারের আওতায় আসতে পারে না বরঞ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। আশাকরি সকলে প্রকৃত বিষয়টি উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন। আসুন আমরা সহনশীল হই দেশ জাতির কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করি। নিজ নিজ ধর্মের পাশাপাশি সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ অটুট রাখি।

২১ অক্টোবরে নেয়া স্ক্রিনশট

লিয়ার পরিবারের উদ্দেশ্যে বলতে চাইঃ ১/ লিয়ার ফেসবুক আইডি বন্ধের উদ্যোগ নিন। ২/ লিয়ার জামিনের চেষ্টা না করে আদালতের মাধ্যমে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। কারণ মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় মুক্তি পেলে তাঁকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না, সে পুনরায় নলছিটিতে যাবে এবং ধর্ম, সরকার, কিংবা সমাজের বিরুদ্ধে উল্টাপাল্টা লেখার ঝুঁকি আছে। যা নিয়ে পুনরায় বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়াও ছবিসহ মিথ্যা প্রচারণার কারণে তাঁর নিরাপত্তার কথা ভেবে আপাতত জামিন নেয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে করি না। কারণ ধর্ম অবমাননাকারী লেখকদের পরিণাম সুখকর দেখতে পাইনি। ৪/ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চিকিৎসার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কন্যা মিসেস সায়েমা ওয়াজেদ পুতুলের সাহায্য কামনা করতে পারেন। সে ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’ বিষয়ক কল্যাণের জন্য সারা বিশ্বে সুনাম অর্জন করেছেন।

মোঃ বজলুল করিম (সাব্বির)
সম্পাদক
শীর্ষ মিডিয়া