ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১০:০০ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ
দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ, ফাইল ফটো

‘নথিতে আলোচনা করুন’ লিখে ফাইল আটকে রাখাও দুর্নীতি

দুর্নীতি প্রসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়- দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তিনি বলেন, নথিতে আলোচনা করুন লিখে ফাইল আটকে রাখাও দুর্নীতি।

তিনি বলেন, দুদক গত বছরে সাড়ে ৫শ’ ব্যক্তিকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে। এর মাধ্যমে দুর্নীতিবাজদের বার্তা দেয়া হয়েছে যে আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়।

দুদক চেয়ারম্যান আরো বলেন, ছোট বড় বিবেচনা না করে প্রায় সব সেক্টরে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে।

ইকবাল মাহমুদ আজ সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে “দুর্নীতিমুক্ত সরকারি সেবা: দুর্নীতির অভিযোগের প্রকৃতি” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন।

দুদক কারো বিরুদ্ধে মামলা করতে চায়না জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুদকের মামলায় জামিন নেই, এই মামলা ক্যান্সারের মতো যার কোনো শেষ নেই। দুর্নীতির মামলায় কেউ আসামী হোক ব্যক্তিগতভাবে আমি তা চাই না।

তিনি বলেন, এই মামলায় অভিযুক্তের মান সম্মান, ইজ্জত, অর্থ-বিত্ত, সমাজ সংসার সব কিছু ধ্বংস হয়ে যায়। জেলখানার অবর্ণনীয় কষ্ট কেবল ভুক্তভোগীরাই বুঝতে পারবেন। এখন সময় এসেছে আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কোনো কিছু গোপন কিংবা লুকিয়ে রাখার দিন শেষ। কে কোথায়, কীভাবে, কখন ঘুষ খান বা দুর্নীতি করেন তা একদিন সবই ফাস হয়ে যায়। একবার, দু’বার বাঁচতে পারলেও বারবার বাঁচার কোনো সুযোগ নেই।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বুঝতে হবে প্রতিটি কাজ সময় মতো শেষ করা তার দায়িত্বের অংশ। নথিতে আলোচনা করুন লিখে ফাইল আটকে রাখাও একটা দুর্নীতি।

তিনি বলেন, সচিবালয় নির্দেশিকা সঠিকভাবে অনুসরণ করতে হবে। এ বিষয়গুলোও দুদকের নজরদারীতে রয়েছে। সময় এসেছে সত্য কথা বলা ও অন্যায় চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, আইনানুগভাবে জনস্বার্থে কাজ করলে দুদক কোনো মামলা করবে না।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক, বিভাগীয় তথ্য কর্মকর্তা, দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালকসহ বিভাগীয় পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।