Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:১৩ ঢাকা, রবিবার  ১৮ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

সিইসি কে এম নূরুল হুদা

নতুন সিইসি’র নিরপেক্ষ নির্বাচন করার দৃঢ় অঙ্গীকার

নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এ দায়িত্ব পালনে তিনিসহ কমিশন সচেষ্ট থাকবে। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের পথে কোন দলবাজ কর্মকর্তা বাঁধা হয়ে দাঁড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আজ বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের জাজেজ লাউঞ্জে শপথ গ্রহণের পর নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জাবাবে নতুন সিইসি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘কেবল বিএনপিই নয়, ছোট-বড় সকল নিবন্ধিত দলের অংশগ্রহণে যাতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সে জন্য আমরা সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবো।’

বিকাল ৪টা ২২ মিনিটে সিইসি ও নতুন কমিশনাররা নির্বাচন ভবনে পৌঁছালে ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা তাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা শেষে পাঁচ কমিশনারই নিজ নিজ দপ্তরে যান। একটু পরই চার কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী সিইসির কক্ষে যান। এরপর তারা এক সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে যোগ দেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সিইসি বলেন, শপথ গ্রহণের পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের ওপর আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। আমাদের কার্যক্রমের প্রধান পাথেয় সংবিধান, সংবিধানের অধীনে প্রণীত বিভিন্ন আইন, আইনের অধীনে প্রণীত বিধিমালা, নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা এবং নির্বাহী আদেশসমূহ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের অনুসরণীয় হবে ১৯৭২ সালের ৭ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ১১টি নির্বাচন কমিশনের রেখে যাওয়া অভিজ্ঞতা সম্বলিত দিক নির্দেশনা। ১৯৭২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪৫ বছর ধরে ধাপে ধাপে নির্বাচন কমিশন প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের একজন সচিবের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের রয়েছে একটি সুসংগঠিত প্রশাসনিক কাঠামো এবং সুদক্ষ জনবল।’

সিইসি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের প্রধান তিনটি দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে- রাষ্ট্রপতি পদের ও সংসদের নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ, অনুরূপ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালনকরা এবং সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বও নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত। দেশের সকল ভোটারকে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর অর্পিত। অভিজ্ঞ এবং নিষ্ঠাবান নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে নিয়ে এসকল দায়িত্বপালনে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

সিইসি বলেন, ‘আমরা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের শপথ গ্রহণ করেছি। আমরা সংবিধান এবং সংবিধানের অধীনে প্রণীত আইন-কানুন, বিধি-বিধানের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনে অটল এবং আপোষহীন থাকবো। নির্বাচন কমিশনের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ভান্ডারের অনুসরণীয় দিক নির্দেশনা কাজে লাগাবো এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দক্ষতা ব্যবহার করবো। তা করতে গিয়ে আমরা সরকার, সকল রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, সংবাদ মাধ্যম এবং জনগণের সহযোগিতা প্রত্যাশা করবো।’

প্রশ্নোত্তর পর্বে সিইসি বলেন, নতুন কমিশনের প্রথম কাজ হবে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিজেদের করণীয়, আইন-কানুন, বিধি, ক্ষমতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নেয়া। এ জন্য আমি আমার কলিগদের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে আইন-কানুন দেখবো ও বুঝবো। এরপর সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য সমাধান কি হতে পারে তা ঠিক করবো। তবে নির্বাচন ইস্যুতে রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসবো কি-না এ মুহূর্তে সেটা বলার সুযোগ নেই। সিইসি বলেন, এ মুহূর্তে আমাদের সামনে একটাই চ্যালেঞ্জÑ সেটা হলো সুষ্ঠু নির্বাচন করা।

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আমরা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছি। ফলে এখানে সরকারের প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ নেই। আমরা সাংবিধানিক ক্ষমতাবলেই নিজেদের দায়িত্ব পালন করবো। সব দলকে নিয়ে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আমাদের অবস্থান একটাই, তা হচ্ছে কেবল বিএনপি বলে কথা নয়, ছোট-বড় সব দলকেই নির্বাচনে আনার চেষ্টা আমাদের থাকবে।

দলবাজ কর্মকর্মকর্তাদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর থাকবে জানিয়ে সিইসি বলেন, বিধি-বিধানের বাইরে কোনো কর্মকর্তার কর্মকা- বরদাস্ত করা হবে না।

একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী বোর্ডে দায়িত্ব পালন বিষয়ে সিইসি বলেন, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের জন্য খানিক আগে শপথ নিয়েছি। ফলে কোনো বিশেষ দল বা মতের পক্ষে কাজ করার সুযোগ নেই। আর কখনো কোনো দলের নির্বাচনী বোর্ডের দায়িত্বেও ছিলাম না। জনতার মঞ্চের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে নতুন সিইসি বলেন, এটা ঠিক নয়, সঠিক নয়, এটা মিথ্যা কথা।

আগামীকাল সকাল ৯টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনাররা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।