ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৩:১৭ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

‘নতুন শিল্পনীতি’ দেশে শিল্পায়নের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করবে : শিল্পমন্ত্রী

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, শিল্পখাতের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত বিবেচনায় নিয়ে নতুন শিল্পনীতি চূড়ান্ত করা হবে। এ নীতি দেশে শিল্পায়নের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করবে।
তিনি আজ রাজধানীর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স মিলনায়তনে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের শিল্পনীতি’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন। শিল্পমন্ত্রী বলেন, সরকার সংযোজন শিল্পের পরিবর্তে শিল্পপণ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশব্যাপী টেকসই শিল্পখাতের বিকাশে সরকারের নীতি সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, হালকা প্রকৌশল, কেমিক্যাল এবং ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল তৈরির জন্য নতুন শিল্পপার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিশিল্প লাভজনক করতে ইতোমধ্যে চিনিকলগুলোতে পণ্য বৈচিত্রকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে বন্ধ কল-কালখানা চালুর বিষয়ে সরকারের কোন আপত্তি নেই বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে শিল্প উদ্যোক্তারা দেশে সুসংহত শিল্পখাত গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ে একটি ‘তথ্য ও গবেষণা সেল’ স্থাপনের তাগিদ দিয়েছেন।
তারা বলেন, নতুন শিল্পনীতিতে এ ধরনের সেল গঠনের বিষয়টিকে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। এর আওতায় খাতভিত্তিক গবেষণা চালিয়ে নতুন শিল্প উদ্যোক্তাদের শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও নির্দেশনা দিতে হবে।
আইসিসি’র প্রেসিডেন্ট মাহাবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় সংলাপে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পসচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। এতে খসড়া শিল্পনীতি-২০১৫ এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সলিম উল্লাহ। অনুষ্ঠানে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শিল্প বিষয়ক বিশেষ সহকারী মাহাবুব জামিল, এফবিসিসিআই’র সাবেক প্রেসিডেন্ট একে আজাদ ও মীর নাসির হোসেন, ডিসিসিআই’র সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ ইব্রাহীম ও মতিউর রহমান, এমচেমের সাবেক সভাপতি আফতাব-উল-ইসলাম, আন্তর্জাতিক শিল্পনীতি বিশেষজ্ঞ ড. তৌফিক আলী, বাংলাদেশ সংবাদপত্র মালিক সমিতির সভাপতি মতিউর রহমানসহ বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা ও ট্রেড বডির নেতারা আলোচনায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিল্পখাতে অপরিকল্পিতভাবে অনেক শিল্প গড়ে ওঠে এবং ক্রমান্বয়ে এগুলো রুগ্ন শিল্পে পরিণত হয়। এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে তারা দ্রুত একটি ‘তথ্য ও গবেষণা সেল’ স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সাথে তারা দেশব্যাপী গুণগত শিল্পায়নের ধারা জোরদারের লক্ষ্যে নতুন শিল্পনীতিতে ইপিজেড ও ইপিজেডের বাইরে অবস্থিত শিল্প কারখানার জন্য একই রকম শুল্ক সুবিধা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
শিল্প উদ্যোক্তারা শিল্পখাতের বিকাশে নতুন শিল্পনীতিতে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে শিল্পঋণ প্রাপ্তি, উদ্যোক্তাদের শিল্প স্থাপনে ওয়ান স্টপ সেবা প্রদান, সম্পূর্ণ তৈরি শিল্পপণ্য আমদানিতে অধিক শুল্কারোপ, বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, পরিবেশ সুরক্ষাসহ অন্যান্য বিষয়ে নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। এক্ষেত্রে তারা শিল্প মন্ত্রণালয়কে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালনের পরামর্শ দেন।