শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১০:৩১ ঢাকা, রবিবার  ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে খালেদা জিয়ার প্রস্তাবনা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট সুরক্ষায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠনে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব তুলে ধরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

নতুন নির্বাচন কমিশন কীভাবে গঠিত হবে, সেই কমিশনের অধীনে কীভাবে আগামী নির্বাচন হবে- সে বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।

নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে ইসি পুনর্গঠন, সব দলের ঐক্যের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের খুঁজে বের করতে বাছাই কমিটি গঠন, আরপিওর কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ বেশ কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয় ওই রূপরেখায়।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর একটি হোটেলে দলের পক্ষ থেকে বিশদ এই রূপরেখা তুলে ধরেন খালেদা জিয়া। একনজের সেই রূপরেখার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরা হলো-

১. রাষ্ট্রপতি সব রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি, একজন সচিব, বিশিষ্ট নাগরিক- এ তিন স্তর থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেবেন।

২. ন্যূনতম জেলা জজের মর্যাদা সম্পন্ন অবসরপ্রাপ্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদা সম্পন্ন সামরিক কর্মকর্তা, যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষাবিদ এবং সর্বজন শ্রদ্ধেয় বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্য থেকে কমিশনার নিয়োগ করা।

৩. এজন্য সাবেক একজন প্রধান বিচারপতিকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন।

৪. রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্রপতির কাছে নাম প্রস্তাব করবেন। রাষ্ট্রপতি তা সার্চ কমিটিতে পাঠাবেন। এদের মধ্য থেকে সিইসি’র জন্য দুজন এবং কমিশনারের জন্য আটজনসহ ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করা হবে। সব দলের প্রস্তাবনার অভিন্ন নাম রাষ্ট্রপতির নিকট পাঠাবে সার্চ কমিটি।

৫. তফসিল ঘোষণার পর মাঠ পর্যায়ে কর্মরত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের প্রত্যাহার করা।

৬. নির্বাচন কমিশন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা।

৭. আরপিওতে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ প্রতিরক্ষাবাহিনী মোতায়েনের বিধান যুক্ত করা।

৮. নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যাজেস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান।

৯. রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলের বৈঠকের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা।

১০. ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা ও প্রবাসীদের ভোটার করা।

১১. নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করা।

১২. নির্বাচনের সময় স্বরাষ্ট্র, অর্থ, তথ্য, জনপ্রশাসন, স্থানীয় সরকার, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, পররাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ইসির নিয়ন্ত্রণে রাখা।

১৩. সর্বোপরি বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায়, সবার নিকট গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থা প্রণয়ন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং একজন নারীসহ চারজন কমিশনার নিয়োগের প্রস্তাব করেন খালেদা জিয়া।

প্রস্তাবনায় তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি নিরূপণের জন্য সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অথবা, স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন সকল রাজনৈতিক দলের মহাসচিব অথবা সাধারণ সম্পাদক কিংবা মনোনীত প্রতিনিধির সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করবেন।

দুই জোটের পক্ষ থেকে একজন করে মূল প্রতিনিধি এবং তাকে সহায়তাদানকারী আরও দুইজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে পারবেন।

রাষ্ট্রপতি নাগরিক সমাজের মধ্য হতে সৎ, যোগ্য ও দল নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদেরকেও আলোচনায় যুক্ত করতে পারেন।