শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ২:০৫ ঢাকা, রবিবার  ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

“নওগাঁয় আওয়ামীলীগ নেতা খুন”

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার পারইল ইউনিয়নের বোঁহার গ্রামে ২৫ শতক জমির দখলকে কেন্দ্র করে পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন করে এবং আরেক পায়ের রগ কেটে আমজাদ হোসেন (৩৫) নামের একজনকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত আমজাদ ওই গ্রামের কবেজ উদ্দিনের ছেলে ও উপজেলা আ’লীগের অন্যতম সদস্য বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। এসময় নারী-পুরুষসহ উভয় পক্ষের ১১ জন আহত হয়েছে। এই ঘটনায় উত্তেজিত এলাকাবাসী হত্যাকান্ডের মূলহোতা জামায়াত নেতা মোজাফ্ফর হোসেনের বাড়িসহ কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় এমপি মোঃ ইসরাফিল আলম ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন। পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে আটক করেছে। বাকি পুরুষেরা ঘড়বাড়ি ছেলে পলায়ন করায় গ্রামটি এখন পুরুষশুন্য হয়ে পড়েছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এদিকে এই নৃশংস হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোমবার স্থানীয় আ’লীগ প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
রাণীনগর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ হিল জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন নিহত আমজাদ হোসেনের সঙ্গে একই গ্রামের বোহারা দাখিল মাদ্রাসার সুপার জামায়াত নেতা মোজাফ্ফর হোসেনের র্দীঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। রবিবার সকাল ৮টার দিকে আমজাদ হোসেন জমিতে হাল-চাষ করার সময় মোজাফ্ফর হোসেন তাকে বাধা দেয়। এসময় উভয়ের মধ্যে মারপিট শুরু হয়। এসময় রাম দা দিয়ে কুপিয়ে আমজাদের ডান পায়ের গোড়ালী (কব্জি) বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং বাম পায়ের রগ কেটে দেয়। এসময় মোজাফ্ফর হোসেনের পিতা শফির উদ্দীন (৫৫) কে ছুরিকাঘাত করায় তিনি গুরুত্বর আহত হন। এছাড়া তার পক্ষের নুর উদ্দীন (২৮), আব্দুর রহমান (৭০), হবিবর রহমান (৫৫) ও বুলু আহম্মেদ (৩২) আহত হয় এবং আমজাদ হোসেন সহ তার পক্ষের মজনুর রহমান (৩৮),ফজলুর রহমান (৩০),নজরুল ইসলাম (২৬),আমজাদ হোসেনের মা আনোয়ারা (৬৫) স্ত্রী ফাইমা বিবি (৩০) ও কন্যা লাকি আক্তার রিপা (১৮) আহত হয়।
ঘটনার পর গ্রামবাসী রক্তাক্ত অবস্থায় আমজাদকে উদ্ধার করে প্রথমে আদমদিঘী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তিনি মারা যান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা ও গ্রামবাসী মোজাফ্ফরের বাড়িসহ প্রতিপক্ষের কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে নওগাঁ সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কে এল সরকার পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। একই সঙ্গে স্থানীয় এমপি মোঃ ইসরাফিল আলম ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তিনি গ্রামবাসীদের শান্ত করেন। এই ঘটনার পর থেকে মোজাফ্ফর ও তার সঙ্গীরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেলেও পুলিশ হবিবর রহমান (৫৫), বুলু আহম্মেদ (৩২) কে চিকিৎসাধীন আবস্থায় নওগাঁ সদররে এবং ইনামুল হক (৪০) ও শফিকুল ইসলাম (২২) কে গ্রাম থেকে আটক করে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেখানে পুলিশ অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার কে.এল সরকার সাংবাদিকদের বলেন বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্ঠা চলছে। উপজেলা আ’লীগের পক্ষ থেকে সোমবার প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা করেছে বলে সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
নিহতের স্ত্রী ফাহিমা বেগম বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করার প্রস্ততি চলছে বলে থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ হিল জামান জানিয়েছেন।