Press "Enter" to skip to content

ধর্মঘট-বিক্ষোভে অচল অবস্থা ফ্রান্সের

ফ্রান্সে সরকার অবসর নেয়ার বয়সসীমা বাড়ানোর প্রতিবাদে দেশ জুড়ে প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন। ফ্রান্সে এক দশকের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় ধর্মঘট। ধর্মঘটের ফলে ফ্রান্সের রেল, বিমান এবং সঙক যোগাযোগ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর বিতর্কিত পেনশন সংস্কারের দাবিতে কাজ বন্ধ করে ধর্মঘট পালন করেছে ফ্রান্সের লাখ লাখ কর্মজীবী মানুষ। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গণপরিবহন অপারেটর আরএটিপি, এসএনসিএফ, সরকার পরিচালিত বিদ্যুৎ কোম্পানি ইডিএফ, জাতীয় বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স, পুলিশ, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, শিক্ষক, আইনজীবী, ট্যাক্সি ও মালবাহী যানবাহন চালক, ডাক বিভাগের কর্মকর্তা, কৃষক, সরকারি কর্মচারী, শোধনাগার কর্মী ও শিক্ষার্থীসহ অটোমোবাইল নির্মাণকারী কোম্পানি রেনল্টের কর্মীরাও এই ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করেছে। ধর্মঘটের কারণে দেশটিতে মারাত্মক অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। এটি ফ্রান্সের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধর্মঘট। ম্যাক্রন অবসর সংক্রান্ত পরিকল্পনা পরিবর্তন না করলে এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নেতারা। আগামী সোমবার পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে ।

ফ্রান্সের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যাটিস্টিকস অ্যান্ড ইকোনোমিক স্টাডিজের মতে, ম্যাখোঁ আবার তার অর্থনীতির মাধ্যমে জনগণকে খেপিয়ে দিয়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে হলুদ পোশাকধারীদের বিক্ষোভের পর থেকে একের পর এক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন ম্যাখোঁ।

বিক্ষোভকারীরা প্যারিস সহ আরও কয়েকটি বড় বড় শহরের রাস্তায় গাড়িতে আগুন দিয়েছে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। পৌরসংস্থাগুলোর কর্মীরাও ধর্মঘটে সামিল হয়েছে, ফলে বন্ধ হয়ে গেছে বর্জ্য অপসারণের কাজ, রাস্তার ধারে জমে উঠেছে আবর্জনার স্তুপ।

ধর্মঘটে শ্রমিকরা অবরোধ করে রেখেছে তেল শোধনাগারগুলো, ফলে পেট্রল পাম্প গুলো প্রায় শূন্য দেখা গেছে । ইউরোপ জুড়ে সরকারগুলো যেরকম মারাত্মক অর্থ সংকটে পড়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রান্সেও চলছে নানা রকম ব্যয় সংকোচ কর্মসূচী। সরকারের অবসর ভাতার আইন সংশোধন না হওয়া বা আইন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দগণ।