ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:৩৭ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

আসাদুজ্জামান খান কামাল
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অাসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, ফাইল ফটো

‘দোষ স্বীকার করে ফিরে আসুক জঙ্গীরা’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াবার আহবান জানিয়ে বলেছেন, জঙ্গীরা নিজেদের দোষ স্বীকার করে ফিরে আসুক,তাদের প্রচলিত আইনে বিচার করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে ডাক দিয়েছেন। তার আহবানে সাড়া দিয়ে সমাজ ও দেশের মানুষ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছে।

তিনি আজ দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ-এর সেমিনার কক্ষে আয়োজিত জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। বাংলাদেশ পুলিশ এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত শিক্ষামন্ত্রী নরুল ইসলাম নাহিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসোইন, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, ঢাকা উত্তর মহানগর আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক সাদেক খান, স্কলাসটিকা স্কুল অধ্যক্ষ বিগ্রে. জেনারেল (অব:) কাউসার আহমদ, মানারাত স্কুলের অধ্যক্ষ মেহেদি হাসান প্রামাণিক, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) আতিকুল ইসলাম, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ভিসি আব্দুল মান্নান চৌধুরী, ইউডার উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় মালিক সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারন সম্পাদক জাকির হোসেন, সাবেক ছাত্রনেতা এনামুল হক শামীম প্রমুখ।

এতে মুল প্রবন্ধ পাঠ করেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ডিআইজি মনিরুল ইসলাম । ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত শিক্ষক নামধারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গি বিরোধী কমিটি গঠন করা হবে। জঙ্গি বিরোধী সামাজিক সচেতনতায় এলাকার আলেম-ওলামাদের, গুণীজনদের সম্পৃক্ত করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিশ্চিত করতে হবে। কোন শিক্ষার্থী যদি লাগাতারভাবে ১০দিন যুক্তিসঙ্গত কারন ছাড়া হাজির না হয় তবে শিক্ষক বিষয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ও অভিভাবককে অবহিত করবেন। এরপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান বিষয়টি শিক্ষা প্রশাসনকে জানাবেন। শিক্ষা প্রশাসন বিষয়টি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসনকে জানাবে। জেলা প্রশাসন আইন শৃংখলা বাহিনীকে বিষয়টি জানাবে। যাতে কওে আইন শৃংখলা বাহিনী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি কোন জাতীয় দিবস পালন না করে, জাতীয় পতাকা না উত্তোলন করে তবে মনিটরিং করে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

তিনি বলেন, অভিভাবকদের তাদের সন্তানের প্রতি নজর রাখতে হবে। সন্তানের পরিবর্তন লক্ষ্য করলে শিক্ষককে জানাতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, গুলশানের আগাম তথ্য থাকলেও হামলা কোথায় হবে আমাদের কাছে সেই তথ্য ছিল না। তবে পুলিশ সতর্ক থাকার কারণে ঘটনার সংবাদ পেয়েই ৩ মিনিটের মাথায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। হামলার প্রতিরোধ গড়তে গিয়ে প্রথমে গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক গুলিবিদ্ধ হন। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত হন।

তিনি বলেন, গুলশানের ঘটনায় কমান্ডো অপারেশনের আগে আমরা প্রথমে হামলাকারীদের অবস্থান জানার চেষ্টা করেছি। তারপর মাত্র ১৩ মিনিটের কমান্ডো সফল অপারেশন করেছি। গুলশান হামলার পরে সারাদেশের চেকপোস্ট স্থাপনসহ নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়। তাই শোলাকিয়ায় বড় ধরণের কিছু হয়নি।

গুলশানে আর্টিসান রেস্টুরেন্টে মন্ত্রাসী হামলায় দুই পুলিশ সদস্য ও ২০ জন জিম্মি নিহত হয়েছে। এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান খান বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক পথে রয়েছে। গুলশানের হামলার মতো এমন কোনো ঘটনা মোকাবেলার বাস্তব অভিজ্ঞতা এর আগে আমাদের ছিল না। তাই এতো প্রাণহানি ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

লজ্জায়-ঘৃণায় নিহত জঙ্গিদের মরদেহগুলো তাদের পিতা-মাতারা এখনো নিতে আসেনি উল্লেকখ করে তিনি বলেন, এই ঘৃণা আজ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের মানুষ জঙ্গিবাদ চায় না।

যারা এখনো জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত আছেন তাদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে চাই না। তোমরা যদি দোষ করে থাকো, ফিরে আসো। প্রচলিত আইন অনুযায়ী তোমাদের বিচার হবে।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পুলিশ সারাদেশে সংগঠিত ৫০টির মতো টার্গেট কিলিং ঘটনার উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। এর সাথে কারা জড়িত ও মদদদাতা কে বা কারা সব পুলিশ জানতে পেরছে। অচিরেই এসব ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশের আইজি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, আগে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে জঙ্গি প্রবণতা দেখা গেলেও এখন ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে’ পড়ুয়া ছেলেরাও জঙ্গি কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। আইজিপি জঙ্গি বিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিসহ জঙ্গি কর্মকান্ড প্রতিরোধে পরিবার ও শিক্ষকদের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

পুলিশের আইজি আরও বলেন, সবার সহযোগিতা নিয়ে আইনশৃংখলা বাহিনী জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করবে। সন্তানরা যেন এসব কর্মকান্ড জড়িয়ে না পড়তে পারে তার দায়িত্ব আমাদের সকলের, পরিবারের। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা আছেন তাদেরও দায়িত্ব আছে নজরদারি করার। কীভাবে নজরদারি করা যায় সে বিষয়ে আপনারা মতামত দেবেন।

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, জঙ্গিবাদ আইনশৃঙ্খলা জনিত কোনো সমস্যা নয়। এটা দেশীয় ও বৈশ্বিক সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্র চুপ থাকতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কার্যকরী ভূমিকা পালনে বদ্ধপরিকর। আজ সময় এসেছে জঙ্গিবাদকে না বলার। সবাইকে উচ্চকণ্ঠে না বলতে হবে। যে যার মতো নিজেদের অবস্থানে থেকে ভূমিকা পালন করতে হবে।

গুলশান হামলার ঘটনায় অংশগ্রহণকারীরা এই শহরেই বাসা ভাড়া বিপথগামী ও নিখোঁজদের ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ বলেছেন, যারা বিপথে গেছেন ফিরে আসুন, দেশের মূলধারায় ফিরে আসেন। আপনাদের সহযোগিতা করা হবে। আপনাদের পথকে নিষ্কণ্টক করা হবে। ফিরে আসুন।

বেনজীর আহমেদ বলেন, হত্যাকান্ড ঘটিয়ে এদেশের ইসলাম আসেনি। মহানুভবতা, সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে, সুফিবাদের মাধ্যমে ইসলাম এসেছে। এদেশ কাজী নজরুলের, বঙ্গবন্ধুর, রবীন্দ্রনাথের, হিন্দু-মুসলমান খ্রিস্টান সবার। এদেশে তাই মানবতাবিরোধী দানবীয় তান্ডব চলবে না। বাসস