ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৭:৩৯ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

দেশ সেবায় আত্মনিয়োগ হোক বিজয় দিবসে আমাদের অঙ্গীকার : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় দেশ সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ২০১৫ সালের বিজয় দিবসে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার
প্রধানমন্ত্রী মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ এক বাণীতে বলেন, আগামীকাল মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির অনন্য গৌরবের দিন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি দীর্ঘ তেইশ বছর রাজনৈতিক সংগ্রাম ও নয় মাস মরণপণ যুদ্ধ করে ১৯৭১ সালের এই দিনে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৯৯৬ সালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ।
প্রধানমন্ত্রী চুয়াল্লিশতম মহান বিজয় দিবস পালন উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিন্দন জানিয়ে বিজয়ের এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এ ছাড়াও তিনি স্মরণ করেন জাতীয় চার নেতা, ত্রিশ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ মা-বোনকে, যাঁদের অসামান্য আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার বলিষ্ঠ ও আপোষহীন নেতৃত্বে বাঙালি জাতি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ছেষট্টির ৬-দফা, ঊনসত্তরের ১১-দফা ও গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠে। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ফলে বৈধ ভিত্তি পায় বাঙালির স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা।
তিনি বলেন, জাতির পিতা অনুধাবন করেছিলেন স্বাধীনতা অর্জন ছাড়া বাঙালি জাতির ওপর অত্যাচার, নির্যাতন ও বঞ্চনার অবসান হবে না। তাই তিনি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা দেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” মূলত সেদিন থেকেই শুরু হয় স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত অধ্যায়। বঙ্গবন্ধুর ডাকে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। চলে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি।
শেখ হাসিনা স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ২৫ মার্চ কালরাতে নিরীহ ও নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায়। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। বাংলাদেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারী করেন। বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠন করা হয়।
তিনি বলেন. এই সরকার ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে সমবেত হয়ে শপথগ্রহণ করে এবং মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে। বীর মুক্তিযোদ্ধারা মিত্রবাহিনীর সহযোগিতায় পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনেন। জাতি পায় স্বাধীন রাষ্ট্র, নিজস্ব পতাকা ও জাতীয় সংগীত। বাঙালি জাতির এই বীরত্ব ও দেশাত্মবোধ বিশ্বে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে তুলে সোনার বাংলা গড়ার সংগ্রামে নিয়োজিত, তখনই স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধী চক্র জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের এই জঘন্য হত্যাকা-ের মধ্য দিয়ে তারা হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করে। ইনডেমনিটি অর্ডিনেন্স জারী করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ বন্ধ করে দেয়। মার্শাল ল’ জারীর মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করে। অবৈধ সরকার গঠন করে। সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রুদ্ধ করে।