ব্রেকিং নিউজ

রাত ৪:০৫ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

হাসানুল হক ইনু
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু

দেশ পরিচালনার ভার কাকে দেবেন ভাবা কর্তব্য: তথ্যমন্ত্রী

প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও উন্নয়নে দুর্বার গতি আনার সাথে সাথে শেখ হাসিনা প্রবর্তিত ডিজিটাল প্রযুক্তি গণমানুষের ক্ষমতায়ন ও সমাজে বৈষম্য অবসানে বিস্ময়কর ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলো, উন্নয়ন ও শান্তির পথিকৃত। আর বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া অন্ধকার, অশান্তি ও জঙ্গির সঙ্গী।’ যদি সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ দেখতে চান, দেশ পরিচালনার ভার কাকে দেবেন তা ভাবা একটা নাগরিকের কর্তব্য।

ইনস্টিটিউট অভ্ ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)’র ৫৭তম কনভেনশন উপলক্ষে রবিবার চট্টগ্রামে আইইবি মিলনায়তনে আয়োজিত ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং গণমুখী উন্নয়ন শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা ডিজিটাল প্রযুক্তির পক্ষে আর জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। অপরদিকে বেগম খালেদা জিয়া জঙ্গিবাদের পক্ষে আর ডিজিটাল বাংলাদেশ এর বিরুদ্ধে। তাই বাংলাদেশকে যদি সামনে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে জঙ্গিবাদ বর্জন করতে হবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হবে।’

‘যারা ডিজিটাল প্রযুক্তি বোঝে না, যারা জঙ্গিবাদের বন্ধু, তারা যদি বাংলাদেশকে দখল করে নেয়, তাহলে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা চরমভাবে হোঁচট খাবে, যা দেশ ও জনগণের জন্য হবে ভয়াবহ ক্ষতিকর। যদি সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ দেখতে চান, দেশ পরিচালনার ভার কাকে দেবেন তা ভাবা একটা নাগরিকের কর্তব্য’, প্রকৌশলীদের স্মরণ করিয়ে দেন জাসদ সভাপতি ইনু।

শান্তি ও উন্নয়নযাত্রা অব্যাহত রাখতে প্রযুক্তিবান্ধব সরকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রকৌশলী ইনু বলেন, ‘বর্তমান সরকার যেমন ডিজিটালবান্ধব, তেমনই কৃষক ও নারীবান্ধব। আর সে কারণেই ডিজিটাল প্রযুক্তি এদেশে গণমানুষের জন্য কল্যাণের বার্তা নিয়ে এসেছে। যে সরকার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বোঝে, ডিজিটাল প্রযুক্তি কোথায় প্রয়োগ করবে তা বোঝে, সেই সরকার যদি ক্ষমতায় না থাকে, তাহলে বাংলাদেশ বিশাল একটা হোঁচট খাবে এবং মুখ থুবড়ে পড়ে যাবে।’

দারিদ্র্য উচ্ছেদ করে টেকসই উন্নয়নসমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে ডিজিটাল প্রযুক্তির গণমুখী ব্যবহারকে অপরিহার্য উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জন্ম-নিবন্ধন, ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির ফরম থেকে শুরু করে, গ্রামের কৃষককে জমির উর্বরতা সম্পর্কে তথ্য দিতে এমনকি সহজে টাকা পাঠাতে আজ ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। প্রশাসনকে স্বচ্ছ করে জনগণের কাছাকাছি এনে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে সাহায্য করছে এ প্রযুক্তি। মিথ্যাচার, গুজব, কুসংস্কার এবং ধামাচাপা তথ্য থেকে মুক্ত হয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে হলে ডিজিটাল প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ দরকার।

হাসানুল হক ইনু এসময় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজে ইন্টারনেট সুবিধার অধিকারকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে ঘোষণা দেয়ার প্রস্তাবও তুলে ধরেন।

‘মনজয়’, ‘উত্থান’ এবং ‘অগ্রযাত্রা’ এ তিন পর্বে বাংলাদেশে ডিজিটাল বিপ্লব ঘটছে বর্ণনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বউন্নয়নের মহাসড়কে যুক্ত হতে প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ-এর ঘোষণার যুগান্তকারী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের আট বছর পর আমরা এখন মনজয় পর্বের শেষ পর্যায়ে। এবার ২০২১ সাল পর্যন্ত উত্থান পর্ব, তারপর অগ্রযাত্রা পর্বে উন্নত বিশ্বের সমান দক্ষতা প্রদর্শন করবে দেশ।

আইইবি প্রেসিডেন্ট মোঃ কবির আহমেদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)’র চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।