Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৬:২৩ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

‘দেশে মোট বেকারের সংখ্যা সংক্রান্ত কোন তথ্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে নেই’

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, ২০১৩ সালে বিবিএস এর জরিপে দেশে মোট বেকার সংখ্যা ২৬ লাখ।
তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, তবে দেশে মোট বেকারের সংখ্যা সংক্রান্ত কোন তথ্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে নেই।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করে বেকারত্ব দূরীকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
চুন্নু বলেন, সরকার বাংলাদেশের বিপুল শ্রম শক্তির দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও কর্মমুখী শ্রম শক্তিতে পরিণত করার জন্য জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি ২০১১ অনুমোদন করেছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ নীতি বাস্তবায়নের জন্য সরকার দেশের সরকারি-বেসরকারি দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের যথাযথ মান নিশ্চিতকরণ এবং দেশ ও বিদেশের শ্রম বাজারের চাহিদা মাফিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিল (এনএসডিসি) গঠন করেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিলকে সহায়তার নিমিত্ত সরকারি-বেসরকারি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বের সমন্বয়ে ‘এক্সিকিউটিভ কমিটি অব ন্যাশনাল স্কিলস ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল (ইসিএনএসডিসি) গঠন করেছে।
তিনি বলেন, এনএসডিসি ও ইসিএনএসডিসি’র নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গঠিত ‘জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিল সচিবালয়’ সাচিবিক সহায়তা প্রদানসহ সমন্বয়ের কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশ ও বিদেশের শ্রম বাজারে বিকাশমান এবং পরিবর্তনশীল পেশাগত দক্ষতা যথাযথভাবে প্রতিফলিত করার জন্য সরকার জাতীয় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক যোগ্যতা কাঠামো অনুমোদন করেছে। এর আওতায় দক্ষতা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রম চালু করেছে।
মুজিবুল হক বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের বাস্তবমুখি কার্যক্রম, প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং অর্থায়ন করছে।
তিনি বলেন, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে স্বল্প, মধ্যম মেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্স ও ডিপ্লোমা কোর্সের কারিকুলাম যুগোপযোগীকরণ, হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, ল্যাবের ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, যোগ্যতা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন, এ্যাসেসর তৈরি, প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ, পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি, শিক্ষানবিশী’র মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে সেক্টর ভিত্তিক শিল্প দক্ষতা পরিষদ গঠনসহ দক্ষতা উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিলের মাধ্যমে পোশাক শিল্পসহ সকল সেক্টরের শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বহুমুখী কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। নির্বাচিত কয়েকটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং কারিগরি শিক্ষা বিদ্যালয় ও কলেজে গার্মেন্টস শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিলের নির্দেশনায় বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তত্ত্বাবধানে এ যাবত ১৫টি সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে এনটিভিকিউএফ’র আওতায় দক্ষতা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউট, ঢাকা ন্যাশনাল হোটেল এন্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং সেন্টার, ঢাকা, ফেনী কম্পিউটার ইনস্টিটিউট, বরিশাল, টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ, ওয়েস্টার্ন মেরিন ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম, কোরিয়া বাংলা ট্রেনিং সেন্টার, চট্টগ্রাম এবং ইউসেফ, বাংলাদেশসহ ৮টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ কার্যক্রম চলছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘নর্দান এরিয়াস রিডাকশন অব পভার্টি ইনিশিয়েটিভ (এনএআরআই)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৩টি ‘ইপিজেড’-এ ডরমিটরি কাম ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে আগামী ৩ বছরের মধ্যে উত্তরবঙ্গের ১০ হাজার ৮শ’ জন দরিদ্র মহিলাকে পোশাক শিল্প সেক্টরে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। আগামী ডিসেম্বর থেকে এর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুশ্রম নিরসন (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৫০ হাজার শিশু শ্রমিককে ১৮ মাসব্যাপী উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও ৬ মাসব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে কর্মক্ষম করে তোলা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে শিশুদের সংশ্লিষ্ট ট্রেডের আলোকে প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হতে বের করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্পের ৪র্থ পর্যায়ে মোট ৬০ হাজার শিশুকে ২০১৮ সালের মধ্যে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।বাসস