ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:৫৫ ঢাকা, শুক্রবার  ১৮ই আগস্ট ২০১৮ ইং

বজ্রপাত
বজ্রপাতের নমুনা ফটো

দেশে বজ্রপাতে ১১জন মারা গেছেন

সারা দেশে বজ্রপাতে ১১জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এসব ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীনা রয়েছেন।

গৌরীপুর: ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শালীহর জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন মো. রুস্তুম আলী মুনশী (৭০) ধানকাটার সময় বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন।

পরিবার সূত্র জানায়, শালীহর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেরে মো. রুস্তুম আলী মুনশী (৭০) সোমবার সকালে ধান কাটার জন্য ক্ষেতে যান। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বজ্রপাতে নিহত ধানক্ষেতে মারা যান। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ডাক্তার সৈয়দা মাসরুবা তানজিন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

শ্রীমঙ্গল: মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গলে বজ্রপাতে বরুনা এলাকার মফিজ মিয়া (৩০) ধানকাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার দুপুরে শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের বরুনা বাইক্কা বিল এলাকায় ধানকাটা অবস্থায় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।

এ সময় তার সঙ্গে আরও তিন শ্রমিক আহত হয়েছেন। নিহত মফিজ উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের বরুণা গ্রামের ইসলাম মিয়ার ছেলে।

এ সময় একই এলাকার নজির মিয়া (৬০), রফিক মিয়া (৫০) ও রশীদ মিয়া (৩৬) আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

শাল্লা: সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হাওরে ধানকাটার সময় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত কৃষক নব কুমার দাস (৬০) উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের মৃত-নন্দলাল দাসের ছেলে।

সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গ্রাম পার্শ্ববর্তী ছায়ার হাওরে ধানকাটার সময় বৃষ্টিপাতের সঙ্গে আকস্মিক বজ্রপাতের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান নব কুমার।

এ সময় আশপাশের কৃষকরা এসে তাকে উদ্ধার করে শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীরের অধিকাংশ জায়গা পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে।

প্রশাসনের অনুমতিক্রমে ময়নাতদন্ত ছাড়া নিহতের লাশ স্বজনদের কাছে দেয়া হয়েছে।

বানিয়াচং: হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় হাওরে বজ্রপাতে দুই ধানাকাটা শ্রমিক নিহত এবং অপর এক শ্রমিক আহত হয়েছেন।

সোমবার সকাল ১০টায় উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বৃন্দা চিত্তা ধান কাটতে গিয়ে তারা বজ্রপাতের শিকার হন।

নিহতরা হলেন- কবিরপুর গ্রামের মৃত নাদু বৈষ্ণবের ছেলে অধীর বৈষ্ণব (২৭) ও তেলঘরি গ্রামের বীরেশ্বর বৈষ্ণবের ছেলে বসু বৈষ্ণব (৩২)।

আহত ধানকাটা শ্রমিক তেলঘরি গ্রামের হরিচরণ বৈষ্ণবের ছেলে কৃষ্ণধন বৈষ্ণব (৩২)।

বানিয়াচং উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান জানান, সোমবার সকালে বজ্রসহ বৃষ্টি হচ্ছিল। এ সময় বৃন্দা চিত্তা হাওরে ধানকাটার সময় বজ্রপাতের শিকার হন তিন শ্রমিক। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান অধীর বৈষ্ণব। গুরুতর আহতাবস্থায় বসু বৈষ্ণবকে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান। আহত কৃষ্ণধন বৈষ্ণবকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

 হালুয়াঘাট: হালুয়াঘাটে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

নিহত শারমিন আক্তার (১৬) উপজেলার ৩নং কৈচাপুর ইউনিয়নে রুহী পাগারিয়া গ্রামের সোহেল মিয়ার মেয়ে ও নিচপাড়া এসএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।

নিহত শারমিনের পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পাগারিয়ার কৃষি রাজ্জাকের বাড়ির পশ্চিম পার্শ্বে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘটনার দিন সকালে বাগিচাপুরের মাহফুজ মাস্টারের বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফিরার পথে এ ঘটনা ঘটে।

পরে তাকে উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শারসিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাঙ্গলকোট: কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

নিহত রাহেনা বেগম (৪০) রায়কোট দক্ষিণ ইউয়িনের পূর্ব বামপাড়া গ্রামের ছেরাজুল হক চৌধুরীর স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তানের জননী।

সোমবার সকালে উপজেলার ওই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবার ও এলাকাবাসীরা জানায়, সোমবার সকালে নিজেদের পুকুর পাড়ে আম কুড়াতে গেলে তার ওপর বজ্রপাত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

শেরপুর: পৃথক বজ্রপাতে শেরপুরের চার উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বজ্রপাতে শারমিন (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রী হয়েছে।

সে উপজেলার এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার পাঘারিয়া গ্রামের সোহেল মিয়ার মেয়ে।

প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে শেরপুর সদর উপজেলার হালগড়া গ্রামের বড়বাড়ির বাসিন্দা মৃত আবু শেখের ছেলে আব্দুর রহিম (৪০) নামে এক কৃষক মাঠে ধানকাটার সময় বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। সোমবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এছাড়া সকাল পৌনে ১০টার দিকে নকলা উপজেলার মোজারচর গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবক মাঠ থেকে ধান নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মারা যান।

অন্যদিকে জেলার শ্রীবরদী উপজেলার বকচর গ্রামের জমর উদ্দিনের ছেলে কৃষক কুব্বাছ আলী (৬০) সকাল ১১টার দিকে মাঠ থেকে গরু নিয়ে আসার সময় বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন।