Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৪:৩৫ ঢাকা, বুধবার  ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

রাশেদ খান মেনন
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ফাইল ফটো

দেশে আইএস নেই, হামলাকারীরা বিএনপি-জামায়াতের: মেনন

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি বলেছেন, দেশে কোন ইসলামিক স্টেট (আইএস) নেই, হামলাকারী জঙ্গিরা বিএনপি-জামায়াতের।

তিনি বলেন, বিএনপি নেতা বেগম খালেদা জিয়া জঙ্গীবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে আবার প্রশ্ন তুলেছেন জঙ্গীদের কেন পিছন থেকে গুলি করা হলো? আর এতেই বোঝা যায় জঙ্গীদের লালনকারী কারা।

আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্যোগে জঙ্গীবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

সমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, পলিটব্যুরো সদস্য বিমল বিশ্বাস ও নগর কমিটির সভাপতি আবুল হোসাইন।

সভায় ঘোষণা পাঠ করেন পলিটব্যুরো সদস্য নুর আহমদ বকুল। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় সদস্য দীপঙ্কর সাহা দীপু।

মেনন বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের প্রতিষ্ঠাতা বেগম জিয়া, তারেক রহমান ও নিজামী, মোজাহিদেরা। বাংলা ভাই সৃষ্টির মধ্য দিয়ে তারাই যে এ দেশে জঙ্গীবাদী রাজনীতির প্রচলন করেছিলেন সে কথা দেশের জনগণ ভুলে যান নি।

তিনি বলেন, বেগম জিয়ারা এখনও জঙ্গীবাদী রাজনৈতিক শক্তির উপর নির্ভর করে তাদের ক্ষমতার স্বপ্নের জাল বুনছেন। আজকে বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের আক্রমণের পিছনে যে মাস্টার মাইন্ড কাজ করছে তা সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনা। আর তাদের হাত হিসেবে কাজ করছে জামাত-বিএনপির রাজনীতি।

পর্যটন মন্ত্রী বলেন, ধরাপড়া জঙ্গীদের পিছনের রাজনৈতিক পরিচয় জামাত শিবির। জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ, হিজবুত তাহরির, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, সকল জঙ্গী সংগঠনের গোড়ায় কাজ করছে জামাত ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তি।

তিনি বলেন, এই অপশক্তির বিরুদ্ধে ১৪দলসহ যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে তাকে আরও তৃণমূলে নিয়ে যেতে হবে। চিরতরে জঙ্গীবাদকে উৎখাত করতে হলে এ ঐক্য ধরে রেখে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন আমাদের মৌলিক সাহসের ভিত্তি আমাদের ’৭২ এর ৪ মূলনীতির সংবিধান। পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে আমরা বীরের জাতি হয়েছি। তিনি বলেন, আজকে মৌলবাদ সাময়িক বিষফোড়া হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। এই বিষফোড়া তৈরি করেছে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধবাজ গোষ্ঠী। আমরা ‘সেক্যুলার রাষ্ট্রের দর্শন নিয়ে যদি দাঁড়াতে পাড়ি অবশ্যই জঙ্গীবাদ পরাস্ত হবে। জনগণের জাতীয় ঐক্যই জঙ্গীবাদকে পরাস্ত করবে।

সমাবেশে ২ মাস ব্যাপি পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এতে আগামী ৬ আগস্ট দেশব্যাপি জঙ্গিবাদ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সমাবেশ ও র‌্যালি, ১৩ আগস্ট জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জঙ্গীবাদ বিরোধী সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে ১৪ দল ঘোষিত কর্মসূচী এবং প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পার্টির শাখাকে কাজ করার নির্দেশ প্রদান। ১৭ আগস্ট রাশেদ খান মেনন হত্যা প্রচেষ্টা দিবসে দেশব্যাপি সন্ত্রাস বিরোধী দিবস পালন করা হবে। ২০ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সকল বিভাগে সাংস্কৃতিক ফ্রন্টের উদ্যোগে জঙ্গীবাদ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সাংস্কৃতিক কর্মসূচী পালন করা হবে।

সমাবেশে পলিটব্যুরো সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নুরুল হাসান, মাহমুদুল হাসান মানিক, হাজেরা সুলতানা, কামরূল আহসান, আমিনুল ইসলাম গোলাপ, মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি প্রমুখ।