ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:২৪ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

দেশে অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে

‘শুধু নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর বর্তমানে দেশে অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। এখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার পথ বের করতে হবে। প্রয়োজনে দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ছাড় দিয়ে সংলাপ শুরু করতে হবে। শনিবার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ‘বাংলাদেশের শাসন পরিস্থিতি ২০১৩ : গণতন্ত্র, দল এবং রাজনীতি’ শীর্ষক বার্ষিক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ সভাপতিত্ব করেন অনুষ্ঠানে বিআইজিডি’র নির্বাহী পরিচালক সুলতান হাফিজ রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারেনি রাজনীতি। দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মকাণ্ড আধুনিক ও সাংবিধানিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে দল দুটির রাজনৈতিক আচরণ এ পর্যন্ত অর্জিত গণতানি্ত্রক প্রক্রিয়ার জন্য ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে রাষ্ট্র, জনগণ, গণতন্ত্র, রাজনীতি, দল, ক্ষমতা, সংবিধান, বাক স্বাধীনতা, সহিংসতা, রাজনৈতিক দলের অর্থায়ন, মনোনয়ন পদ্ধতি, প্রতিনিধিত্ব, প্রভাব, কমিটি কার্যক্রম, রাজনেতিক দলের নিয়ন্ত্রণ, সংসদীয় প্রতিনিধিত্বসহ আরও বেশ কিছু বিষয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘দেশে আজ স্বাভাবিক অবস্থা নেই। পত্রিকা পড়লে মনে হয়, দেশ আজ দুটো ভাগে বিভক্ত। এ অবস্থা থেকে আমাদেরকে বের হতে হবে।’
তিনি বলেন, আব্রাহাম লিংকন বলে গিয়েছিলেন, ডেমোক্রেসি অফ দ্যা পিপল, বাই দ্যা পিপল এন্ড ফর দ্যা পিপল। কিন্তু এখন বলতে হবে, গভার্ণমেন্ট অব দ্যা ওয়ান পার্সেন্ট, বাই দ্যা ওয়ান পার্সেন্ট, ফর দ্যা ওয়ান পার্সেন্ট। এ বাস্তবতায় কী অবস্থা চলছে তা সবাইকে বিবেচনায় নিতে হবে।
অবস্থার পরিবর্তনে জাতীয় সংলাপের আহ্বান জানিয়ে কামাল হোসেন বলেন, ‘কেবল আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে সংলাপ হলে চলবে না। সংলাপ হতে হবে ছোট-বড় সব দলের মধ্যে। তবে সংবিধানের মূলনীতি মেনেই সংলাপে বসা উচিত্।’
সভাপতির বক্তব্যে সুলতান হাফিজ রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৪৩ বছরে অর্থনৈতিকভাবে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এর সাথে তাল মিলিয়ে রাজনৈতিক বিবর্তন যেটা প্রত্যাশা করি, সেটা হয়নি। এটা আজ শুধু রাজনৈতিক জীবনে নয়, সামাজিক জীবনেও চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশে দেখা গেছে যখন অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয় কিন্তু সে তুলনায় রাজনৈতিক উন্নয়ন না হয়, তখন ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়। গণতানি্ত্রক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।