Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৩:১২ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ফাইল ফটো

‘দেশের স্বার্থ বিএনপি ছাড়া দেবে না’

রামপালে পরিবেশ বিধ্বংসী বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ দেশের যে কোনো স্বার্থ বিএনপি ছাড়া দেবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব) ‘রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কারিগরি, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত ত্রিমাত্রিক বিপত্তি’ শীর্ষক এ গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিদ্যুৎ আমাদের প্রয়োজন- এ কথা কেউ অস্বীকার করে না। তবে তা সুন্দরবন ধ্বংস করে নয়। জনগণ ও দেশের স্বার্থে বিএনপি কোনো কম্প্রোমাইজ করবে না, কাউকে করতেও দেবে না।’

এমনকি গণবিরোধী যেকোনো প্রকল্প করা হলে তার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

রামপাল প্রকল্পের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কেবল রাস্তায় নামলেই হবে না, এসব এলাকায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাদেরকে সচেতন করতে হবে।’

তিনি বলেন, সুন্দরবনের বিনিময়ে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চাই না। এ সরকার যেহেতু অবৈধ, জনগণের প্রতিনিধিত্ব নেই এবং সে কারণে জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতা না থাকায় তারা এ ধরনে ক্ষতিকারক প্রকল্প হাতে নিতে পারে।

মির্জা ফখরুল দাবি করেন, এ অবৈধ সরকারের প্রত্যেকটি প্রকল্পই অবৈধ। আর যে সকল প্রকল্প হাতে নেয়, তা কেবল সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যই নিচ্ছে।

আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমাদের দেশের অস্তিত্বের ক্ষতি করেতে ভারত বর্তমান সরকারকে দিয়ে এ রামপাল প্রকল্প করাচ্ছে।’

‘যেখানে ভারতের আইনে সে দেশে এ রকম কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করার অনুমতি নেই, সেখানে বাংলাদেশের সুন্দরবনের ১৪ কিলোমিটারের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে ভারতের এতো আগ্রহ কেন?’ প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘ভারত পরিকল্পিতভাবে সুন্দরবনকে ধংস করতে বাংলাদেশকে দিয়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো যুক্তিতর্কের বালাই নেই। ইউনেস্কো থেকে যে বিবৃতি দেয়া হয়েছে, সেটাও নাকি ভারত বিরোধীদের মতামতের প্রভাবিত হয়ে দেয়া হয়েছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অধ্যাপক বলেন, ‘আমাদের একটা কথাই বলার আছে- রামপাল প্রকল্পে অর্থনৈতিক এবং পরিবেশের ক্ষতি হবে।’

তিনি বলেন, ‘একটি অদ্ভূত কথা বলা হয়- যারা রামপালের বিরুদ্ধে কথা বলে, তারা নাকি ভারতবিরোধী। আমার কথা হচ্ছে- বাংলাদেশে সুলতানা কামাল, খুশি কবির, আনু মুহাম্মদরা যদি ভারতবিরোধী হয়ে যায়, তাহলে ধরে নিতে হবে যারা ক্ষমতায় আছেন সেরকম কয়েকশ’ ছাড়া বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষই ভারতবিরোধী।’

এ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রকৌশলী আ ন হ আখতার হোসেনের সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রশিদ হাবিব, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, সদস্য সচিব ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. মোস্তাহিদুর রহমান, সাংবাদিক নেতা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা প্রমুখ।