ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৬:৫০ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

‘বাংলাদেশের ১৭ পণ্য চীনের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে’

বাংলাদেশের আরো ১৭ টি পণ্য চীনের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাচ্ছে।

রোববার বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অনুষ্ঠিত ১৪তম যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) সভায় এ বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু করার আশ্বাস দিয়েছে দেশটি। এছাড়াও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক জোনে বিনিয়োগএবং তৈরি পোশাক খাতে চীন তাদের দেশের বেশ কিছু বিনিয়োগ বাংলাদেশে স্থানান্তর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

রাজধানীর শেরোবাংলানগর অর্খনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। চীনা প্রতিনিধি দলের নের্তৃত্ব দেন দেশটির বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভাইস-মিনিষ্টার গাও ইয়ান।বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন।

সভা শেষে ইআরডি সচিব এক সংবাদ সম্মেলনে জেইসি সভার সিদ্ধান্তগুলো সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

মেজবাহউদ্দিন বলেন, চীনের ঋণ সহায়তায় বাংলাদেশে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং পানি ব্যবস্থাপনাসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।বর্তমানে চীনের সহজ শর্তের ঋণে বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে আরো ৫ থেকে ৭ প্রকল্পের বিষয়ে চীনের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এসব প্রকল্পে প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ঋণের বাইরেও বিল্ড অন অপারেট এন্ড ট্রান্সপার পদ্ধিতে বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগে আসতে চায় দেশটি।
এদিকে, বাংলাদেশের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে অনুদান হিসাবে নতুন প্রযুক্তি সম্বলিত এক হাজার মোটরসাইকেল দিচ্ছে চীন সরকার।অগ্নিকান্ড দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সরু রাস্তায় চলাচলের উপযোগি এসব মোটরসাইকেল। এ বিষয়ে জেইসি সভায় দুই দেশের মধ্যে একটি বিনিময়পত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে।

ইআরডি সচিব বলেন,সভায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে চীনা প্রতিনিধিদল। বর্তমানে চীনের বাজারে ৪ হাজার ৭০০ পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে। এবার বাংলাদেশের দাবির প্রেক্ষিতে গার্মেন্ট পণ্য, সিনথেটিক ফাইবার, তামাক, চামড়া পণ্যসহ মোট ১৭ পণ্যের ক্ষেত্রেও এ সুবিধা দেবে দেশটি। ঘাটতি কমাতে চীনে বাংলাদেশের বাণিজ্য মেলার আয়োজন করার সুযোগ দেয়ার কথাও জানিয়েছে প্রতিনিধিদল।

চীনের বিনিয়োগ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মেজবাহউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে অর্থনৈতিক জোনে বিনিয়োগ আগ্রহের কথা জানিয়েছে তারা। ইতোমধ্যে চায়না অর্থনৈতিক জোন বাস্তবায়নে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এছাড়াও সরকারের যে ১০০ অর্থনৈতিক জোন স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে সেগুলোতে বিনিয়োগ করতে চায় চীন।

তিনি বলেন, মুন্সিগঞ্জে গার্মেন্ট পল্লীতে আসতে চায় চীন।সেদেশের গার্মেন্ট খাতের কিছু বিনিয়োগ বাইরে নিয়ে যেতে চায়।এ ক্ষেত্রে চীনা প্রতিনিধিদল বাংলাদেশকে বিনিয়োগের পছন্দের স্থান বলে জানিয়েছে। তবে বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা এবং জ্বালানি সমস্যার সমাধান চায় দেশটি। এসব সমস্যা সমাধানসহ চায়না অর্থনৈতিক জোনসহ সেদেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করার কথা বলেছি আমরা।

জেইসি বৈঠকে, চীনের অর্থায়নে যেসব প্রকল্প চলমান রয়েছে, সেসব প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়ে প্রতি তিন মাস পর পর দু’দেশের প্রতিনিধিরা পর্যালোচনামূলক সভা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া সভায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ভিসা পদ্ধতি সহজ করার আশ্বাস দিয়েছে চীন।

আগামী ১৫তম জেইসি সভা পারস্পারিক আলোচনার ভিত্তিতে ২০১৮ সালে সুবিধাজনক সময়ে চীনে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে দু’দেশের প্রতিনিধিরা।