Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ২:২৯ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

দেশের অর্থনীতি এখন প্রাণদীপ্ত : গভর্নর

গর্ভনর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি খুবই প্রাণদীপ্ত ও স্থিতিশীল। দশকে দশকে এ দেশের অর্থনীতি জাম্প করছে, কিন্তু কোন অস্থিতিশীলতা নেই। যে কোন ধরনের চাপ নেওয়ার উপযুক্ততা অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশের যে সাফল্যের গল্প, তা উদ্যোক্তাদের সাফল্যের গল্প। তাদের গড়ে দেয়া ভিতের উপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে সব চেষ্টাই করে যাচ্ছি।’
বুধবার চট্টগ্রামে হিউম্যান রিসোর্সেস এন্ড ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জোদ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মো. রাজী হাসান,নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান ও নির্মল চন্দ্র ভক্ত, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আব্দুচ ছালাম,নগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল জলিল মন্ডল প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
ব্যাংকিং খাতকে জনবান্ধব করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া উদ্যোগের বর্ননা করে গভর্নর বলেন,‘ব্যাংকগুলো এখন গ্রাহককল্যাণে কাজ করছে।২০১৬ সালের মধ্যে সব পাবলিক ব্যাংকের শাখা ডিজিটালাইজড করতে হবে। নয়তো তারা পিছিয়ে যাবে। কিছুদিন আগে বাংলা একাডেমিতে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য আমরা উদ্যোক্তা মেলা করেছি। যেখানে নবীনরা নিজেরা এসেছেন, জেনেছেন-তাদের জন্য আমরা কি কি ব্যাবস্থা রেখেছি। ব্যাংকিং খাতকে সবচেয়ে সেরা সেবা খাতে পরিনত করতে কাজ চলছে।’
অতীতের যে কোন সময়ের চাইতে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন স্থিতিশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন,এখন ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট নেই। সুদের হার কমেছে।কলমানির রেট ৩ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।আমাদের মূলধন পর্যাপ্ততার হার ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। পুঁজি পর্যাপ্ততার হার প্রায় ১১ শতাংশ। ইউরোপের অনেক দেশ যখন নেগেটিভ প্রবৃদ্ধিতে ঘুরপাক খাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৩ শতাংশ।
আতিউর রহমান আরো বলেন,স্বল্প মেয়াদে ঋণ নিলে তাতে সুদ যেমন বেশি দিতে হয়,তেমনি বড় কাজে লাগানো যায়না। তাই দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ দিতে বিশ্বব্যাংকের সাথে কথা বলে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল পাওয়া গেছে। তা থেকে ম্যানুফেকচারিং খাতে ৩-৫ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হবে।
সবুজ বিনিয়োগের জন্য আরো ২০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ পাইপলাইনে আছে বলে তিনি জানান। বলেন, যারা সবুজ ও পরিবেশবান্ধবখাতে বিনিয়োগ করতে চান তারা এই ঋণ পাবেন।
হিউম্যান রিসোর্সেস এন্ড ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট প্রসঙ্গে তিনি বলেন,এটি হবে একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান।এটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে দেশের ভেতরের আর্থিক ও মূলধন বাজার খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, পরিচালক,শীর্ষ পর্যায়ের নির্বাহী, বিশ্লেষক ও নীতিনির্ধারকেরা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ পাবেন। সরকারি-বেসরকারি যেকোনো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন করতে পারবে।এটি হবে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান।
দেশের আর্থিক খাতের জন্য আধুনিক গবেষণা পরিচালনার লক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক হিউম্যান রিসোর্সেস এন্ড ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করছে।