ব্রেকিং নিউজ

রাত ২:৪৬ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

“দেশজ আয় ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে সরকার অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশজ আয় ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে সরকার অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। তিনি বলেন,বর্তমান সরকার ‘রূপকল্প-২০২১’, দিন বদলের সনদ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল আধুনিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
তিনি বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্যে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য তানভীর ইমামের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বিগত ছয় অর্থবছরের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে সামষ্টিক অর্থনীতির প্রধান বিষয় মোট দেশজ আয়, প্রবৃদ্ধি, রফতানি আয়, কর্মসংস্থান, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি হ্রাস এবং সামাজিক খাতের দারিদ্র্য নিরসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ও শিশু নিরাপত্তায় অগ্রগতি এবং খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে সরকারের সাফল্য অভূতপূর্ব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংকটের জাল ছিন্ন করে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বের নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দীর্ঘ মেয়াদী রূপকল্প হিসেবে ‘বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০১০-২০২১’ প্রণয়ন করে সরকার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এ পরিকল্পনার উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১১-২০১৫) বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৬-২০২০) দলিলটি চলতি বছরের ২০ অক্টোবর অনুমোদন করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে উন্নয়ন বাজেটে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে ৯৭ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশজ আয় ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে সরকার অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। গত ছয় বছরের প্রতিটিতে বাংলাদেশ ৬ শতাংশের উপরে প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। দেশের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা বিরল। গত ছয় অর্থবছরের গড় প্রবৃদ্ধির হার ছিল শতকরা ৬.১৮ ভাগ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে রফতানি আয় ছিল ১০.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে এ আয় ছিল ১৫.৬ বিলিয়ন ডলার। সর্বশেষে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের ইতিহাসের রফতানি আয় ৩ গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে মোট রফতানি আয় ছিল জিডিপি’র শতকরা ১৬.৪ ভাগ, যা ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে বেড়ে শতকরা ১৭.২০ ভাগে উন্নীত হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা এবং বাংলাদেশের প্রধানতম শ্রম বাজার মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও সরকারের ঐকান্তিক প্রয়াসের ফলে অর্থবছর ২০১১ থেকে ২০১৫ সময়ের মধ্যে ২.৪৪ মিলিয়নেরও বেশি শ্রমিক বিদেশে যেতে পেরেছে। ২০১১ থেকে ২০১৫ সময়ের মধ্যে দেশে ও বিদেশে মিলে প্রায় ১০.৩৩ মিলিয়ন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এত কর্মসংস্থান আর অতীতে কখনো হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য নিরসন এ সরকারের এক অন্যতম সাফল্য এবং ভিজিএফ, জিআর, ওএমএস কর্মসূচি, টেস্ট রিলিফ, কাবিখা, ভিজিডি, ফেয়ার প্রাইস কার্ড ইত্যাদি কর্মসূচি রয়েছে। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে বরাদ্দ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সারাদেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘অতি-দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’ নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এ কমৃসূচির আওতায় প্রতিবছর গড়ে এক হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে ৮ লাখ লোকের ৮০ দিনের কর্মসংস্থান করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এ সরকারের এক অন্যতম সাফল্য। কৃষি ক্ষেত্রে কৃষি উপকরণের বিপুল ভর্তুকিসহ নানাধরনের প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়। কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ বিতরণ করা হয়েছে। মাত্র ১০ টাকা জমায় ব্যাংক একাউন্ট খোলার সুবিধা গ্রহণ করেছেন ৯৫ লাখের বেশি কৃষক। বর্তমানে বাংলাদেশ শ্রীলংকায় ২৫ হাজার মে. টন চাল রফতানি করে চাল রফতানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। দেশে খাদ্য মজুদ ক্ষমতা ১৪ দশমিক ছয় লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ২০ লাখ মেট্রিন টন হয়েছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই পাঁচটি উন্নয়ন সংস্থার ৭০ মিলিয়ন ডলারের মঞ্জুরি সাহায্য দ্বারা ‘কম্প্রেনসিভ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম’ চালু করেছে এবং জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে বিগত ছয় বছরে দুই হাজার ৯শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫০ মিটার দীর্ঘ তিস্তা সেতু, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ৪ লেনে উন্নতিকরণ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে ফ্লাইওভার নির্মাণসহ উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সর্বশেষ ঢাকা শহরে একটি উড়াল রেল স্থাপনের বিশাল উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। ২০১৮ সাল নাগাদ এই সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্তত করা সম্ভব হবে। রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কারের লক্ষ্যে ২০ বছর মেয়াদী একটি রেলওয়ে মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, উন্নয়ন কর্মসূচির বাইরে অর্পিত সম্পত্তি আইন ও পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সামাজিক বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানে ১৪ হাজার ৭৭ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে দেশের মোট ২০টি গ্যাস ফিল্ড থেকে দৈনিক ২ হাজার ৭শ’ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ২০০৮ সালের তুলনায় বর্তমানে দৈনিক আরো ৩ হাজার মে. টন অতিরিক্ত কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে। নির্মাণাধীন রয়েছে নতুন ৩৩টি স্থায়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যার উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর কুইক রেন্টাল ছাড়াই ২০১৬ সালের দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হবে প্রায় ১৭ হাজার মেগাওয়াট।
তিনি বলেন, প্রাথমিক স্কুলের ১শ’ শতাংশ ভর্তির লক্ষ্যমাত্রা প্রায় অর্জিত হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য কার্যত ইতোমধ্যেই অর্জিত হয়েছে। দেশে বর্তমানে ১২ কোটি ৬৮ লাখের বেশি মোবাইল ফোন ব্যবহৃত হচ্ছে। ইন্টারনেট গ্রাহকদের সংখ্যাও ৪ কোটি ৮০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
তিনি বলেন, সরকার আগামী ১৫ বছরে ১শ’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং দেশের প্রতিটি জেলায় পর্যায়ক্রমে হাই-টেক পার্ক স্থাপনের পদক্ষেপ নিয়েছে। পিপিপি-এর আওতায় বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্র সীমা মীমাংসা এবং স্থল সীমান্ত চুক্তির ফলে মোট ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এছাড়া অন্যান্য অমীমাংসিত সমস্যাগুলোও পর্যায়ক্রমে সমাধান হচ্ছে।