দক্ষিণ অস্ট্রিয়ায় মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হওয়া সেই কঙ্কাল। ছবি: এএফপি

দেড় হাজার বছরের কঙ্কালে নকল পা!

১৫০০ বছর আগে নকল পা!

অস্ট্রিয়ার হেমাবার্গের এ কাহিনি ছড়িয়ে পড়তেই হইচই পড়ে গিয়েছে বিজ্ঞানীমহলে। জানা গিয়েছে, দেড় হাজার বছর আগে ইউরোপে বাস করতেন এক ব্যক্তি, যাঁর বাঁ পায়ের পাতা ছিল না। কাঠের নকল পায়ের পাতা নিয়ে হাঁটাচলা করতেন তিনি। আর তাতেই প্রশ্ন উঠছে, অত বছর আগে নকল পা! কী ভাবে সম্ভব? চিকিৎসক মহলে এর সদুত্তর অবশ্য মেলেনি। তবে এমনটা যে ঘটেছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত গবেষকরা।

কী ভাবে জানা গেল এ গল্প? 

বছর তিনেক আগে দক্ষিণ অস্ট্রিয়ার হেমাবার্গ শহরে মাটি খুঁড়ে মেলে এক ব্যক্তির কবর। তখন অবশ্য কঙ্কাল নিয়ে বিশেষ নাড়াঘাঁটা হয়নি। কাঠের নকল পায়ের বিষয়টিও চোখ এড়িয়ে যায় নৃতত্ত্ববিদদের। কিন্তু সম্প্রতি নতুন করে গবেষণা শুরু হয়। দেখা যায় মধ্যবয়সি ব্যক্তির কঙ্কালের বাঁ পায়ের পাতা নেই। বদলে সেখানে রয়েছে একটি লোহার রিং আর কয়েক টুকরো কাঠ। গবেষকরা জানাচ্ছেন, তাঁরা রেডিওগ্রাফি ও সিটি-স্ক্যান করে দেখেন জীবদ্দশায় ওই ব্যাক্তি কোনও ভাবে জখম হয়েছিলেন। সম্ভবত তাতেই তিনি পা হারান। সেই ঘটনায় কিন্তু তাঁর মৃত্যু হয়নি। ধীরে ধীরে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। পরীক্ষায় তা ধরা পড়েছে, জানাচ্ছেন নৃতত্ত্ববিদরা।

‘‘হয়তো কোনও দুর্ঘটনায় উনি পা খুইয়ে ছিলেন। কিন্তু তার পরেও ওই নকল পা নিয়ে অন্তত দু’বছর সুস্থ ভাবে বেঁচে ছিলেন তিনি। হাঁটাচলাও করেছেন। তার প্রমাণ পেয়েছি,’’ বলছেন অস্ট্রিয়ান আর্কিওলজিক্যাল ইনস্টিটিউটের গবেষক সাবিন ল্যাডস্ট্যাটার।

বায়োআর্কিওলজিস্ট মিশেলা বিন্ডারও একই সুরে জানিয়েছেন, ষষ্ঠ শতকে কেন বা কী ভাবে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল তা জানা নেই। তবে উনি যে যথেষ্ট ধনী ছিলেন, তা নিয়ে নিশ্চিত গবেষকরা। তা না হলে ওই যুগে এমন অস্ত্রোপচার করানোর মতো সাহস দেখানো কষ্টসাধ্য। তা ছাড়া গির্জার কাছেই একটি তলোয়ার সমেত কবর দেওয়া হয়েছিল ওই ব্যক্তিকে। তাতেও আভিজাত্যের ছাপ স্পষ্ট।

বিন্ডার আরও জানান, সেই অস্ত্রোপচার মোটেই সাধারণ ছিল না। দুর্ঘটনায় কোনও অস্থিসন্ধি থেকে পায়ের পাতা বাদ যায়নি। বরং ওই ব্যক্তির পায়ের হাড়ের মাঝখানে এমন জায়গা থেকে বাদ পড়েছিল, যে রক্তনালীতে ব্যাপক আঘাত লাগে। রক্তক্ষরণ হয়েছিল প্রচুর। চিকিৎসকদের মতে, সংক্রমণ হওয়ার প্রভূত আশঙ্কা ছিল। তাতেই মৃত্যু হতে পারতো লোকটির। কিন্তু তাঁকে যে বাঁচানো গিয়েছিল, সেটাই চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটা বিস্ময়।

অস্ট্রিয়ান আর্কিওলজিক্যাল ইনস্টিটিউটের ওই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ‘প্যালিওপ্যাথোলজি’ পত্রিকায়। জানানো হয়েছে, সম্ভবত এই কাঠের পায়ের মালিকই ইউরোপে নকল পা প্রতিস্থাপনের অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন। আনন্দবাজার

অন্যান্য

The scope of copying is closed!!
Go to Top