ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:৩৫ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৩শে অক্টোবর ২০১৮ ইং

দুর্গত জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বন্যা পরবর্তী সময়ে দুর্গত এলাকার জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকল্পে ও নানা রোগ-বালাই থেকে রক্ষা করার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের গোলাম দস্তগীর গাজীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আজ সংসদে এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বন্যা কবলিত জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা করার জন্য সারাদেশে জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীনে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, প্যারামেডিক্স এবং মাঠকর্মীদের সমন্বয়ে সর্বমোট ১ হাজার ১৭৯টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে এবং রিজার্ভ মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, বন্যা পরবর্তী স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধের বাফার স্টক গঠন করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ জীবন রক্ষাকারী প্রয়োজনীয় ওষুধসহ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইন ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যা পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য বিষয়ক জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।
বন্যা কবলিত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দফতর, পরিদফতর, মিডিয়াসমূহকে অবহিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রয়েছে।
সরকারি দলের মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতি বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে সারাদেশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উপকূলীয় অঞ্চলের মোট ৪৯ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, এর মধ্যে আপদকালীন জরুরি কাজের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মেরামত কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। এছাড়া ৪৫ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানি নেমে গেলে পরবর্তীতে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে পুনর্বাসন কার্যক্রম হাতে নেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বন্যার পানিতে পাট ডুবে গেলে দেরী না করে কেটে জাগ দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। তাছাড়া বন্যার কারণে বীজ রাখতে অসুবিধা হলে পাটের ডগা বা কান্ড কেটে উঁচু জায়গায় রোপণ করতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যার মাধ্যমে পাটের বীজ উৎপাদন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিএডিসির বিক্রয় কেন্দ্র থেকে বন্যা সহনশীল ধান যেমন- ব্রি-ধান-৫১, ব্রি-ধান ৫২, বিনা ধান-১১, ও ১২ ইত্যাদি সংগ্রহ করে কম বয়সী চারা উৎপাদন ও বিতরণের ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কচুরিপানার চারদিকে বাঁশ দিয়ে বেঁধে ¯তূপ করে তার উপর সবজি চাষ করা হয়। সম্পূর্ণ ভাসমান থাকা অবস্থায় কচু, ঢেঁড়স, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, বেগুন, সীমা, গীমা, কলমি ও মরিচসহ সব ধরনের সবজিই চাষ করা হয়।
তিনি বলেন, ফসলে পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণ দেখা দিলে স্থানীয় উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিতে চাষীদেরকে উৎসাহিত করতে ব্যাপক উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, চট্টগ্রামের উদ্যোগে কুমেনের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসন, এনজিও এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় চাষীদের মাঝে রোপা আমনের ৭১.৬৫ মে. টন বীজ এবং ৫০ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন সবজি বীজ বিতরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।