ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:২৬ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

মিস কলম্বিয়ার (বাঁ দিকে) মাথা থেকে মুকুট খুলে নিচ্ছেন প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী। ডান দিকে এ বারের বিশ্বসুন্দরী মিস ফিলিপিন্স।

দু’মিনিটে ‘পাল্টে’ গেলেন বিশ্বসুন্দরী

ঠিক দু’মিনিটের মাথায় বদলে যাবে সত্যিটা! দুঃস্বপ্নেও এমনটা ভাবতে পারেননি মিস কলম্বিয়া আরিয়াদনা গুতিয়েররেজ। লাস ভেগাসে রবিবাসরীয় সন্ধ্যা সাক্ষী রইল তেমনই এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতার।

বিশ্বসুন্দরী হওয়ার দু’মিনিটের মধ্যেই গুতিয়েররেজ জানলেন, তিনি নন, বিজয়িনী প্রকৃতপক্ষে মিস ফিলিপিন্স। সৌজন্যে উপস্থাপকের ঘোষণার ভুল!

অথচ প্রথমে উপস্থাপক স্টিভ হার্ভে ঘোষণা করে দেন, ২০১৫ সালের বিশ্বসুন্দরী, মিস কলম্বিয়া। পরিচিত ভঙ্গিতে দু’হাতে মুখ চেপে ক্যামেরার দিকে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছিলেন গুতিয়েররেজ। আগের বারও কলম্বিয়াই ছিনিয়ে নিয়েছিল সৌন্দর্য-সেরার শিরোপা। পর পর দু’বার খেতাব জয়ের আনন্দে কলম্বিয়ার দুই বিশ্বসুন্দরী (বর্তমান এবং প্রাক্তন), লাফিয়ে উঠে জড়িয়ে ধরেছিলেন পরস্পরকে।

মঞ্চ জুড়ে সুন্দরীদের হাটের মাঝে নীল হিরে আর পোখরাজ-খচিত ৩০ হাজার ডলারের বিশ্বসুন্দরীর মুকুট তখন গুতিয়েররেজের মাথায় বসিয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন সুন্দরী পলিনা ভেগা। গুতিয়েররেজের গায়ে পরিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘মিস ইউনিভার্স’ লেখা স্যাশে, চার দিকে ফ্ল্যাশের ঝলক, অভিবাদনের বন্যা, দর্শকদের দিকে সজল চোখে হাত নাড়াছেন মিস কলম্বিয়া— সব হচ্ছিল চিত্রনাট্য মেনেই। কিন্তু ঘড়ি ধরে ঠিক দু’মিনিট। তার পরেই ছন্দপতন। চার দিকে হইহুল্লোড়ের মধ্যে মাইক্রোফোন হাতে স্টিভ হার্ভে হঠাৎ চেঁচিয়ে বলে উঠলেন, ‘‘আমি ক্ষমা চাইছি বন্ধুরা!’’
উপস্থাপক স্টিভ হার্ভে।

হাততালি-চিৎকার একটু থমকাল। তার পরও বেশ প্রবল হুল্লোড়। স্টিভ তার মধ্যেই যথাসম্ভব গলা তুলে বলছেন, ‘‘ফার্স্ট রানার আপ মিস কলম্বিয়া।’’ মঞ্চে বেশ খানিকটা দূরত্বে দাঁড়ানো মিস ফিলিপিন্স পিয়া আলোঞ্জো উর্ৎজবাখ তখন বড় বড় চোখে চার পাশে দেখছেন। ঠোঁট কাঁপছে। তখনও বোঝেননি স্টিভের ওই ঘোষণার অর্থটা কী। আলোঞ্জোর কানে ফিসফিস করলেন পাশে দাঁড়ানো মিস ইউএসএ। তখন যেন গোটা বিষয়টা স্পষ্ট হল তাঁর কাছে। এ দিকে উপস্থাপক স্টিভও গলা খাঁকারি দিয়ে বলছেন, ‘‘মিস ইউনিভার্স ২০১৫ হচ্ছেন মিস ফিলিপিন্স!’’ তার পর স্টিভ ক্যামেরার দিকে তাঁর হাতে ধরা কার্ড তুলে দেখিয়ে বলেন, ‘‘দেখুন, এটাই লেখা রয়েছে। একেবারেই আমার ভুল। পুরো দায়িত্ব নিচ্ছি।’’

এই সব শুনে অবাক চোখে ধীর পায়ে এগিয়ে এলেন উর্ৎজবাখ। মিস কলম্বিয়ার পাশে দাঁড়ালেন। প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী পলিনা তখন তাঁর দেশের সুন্দরীর পিঠে সান্ত্বনার চাপড় দিচ্ছেন। তার পরেই সেই দৃশ্য। প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী এগিয়ে গেলেন গুতিয়েররেজের দিকে। মাথা নামিয়ে মুকুট তুলে নিতে দিলেন পলিনাকে। অসম্ভব কষ্ট হলেও ক্যামেরার সামনে এক বারের জন্যও ভেঙে পড়েননি মিস কলম্বিয়া। পরে মঞ্চের পিছনে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। পাশে দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা দেন সতীর্থরা।

মুকুট এর পরে উঠল ঠিক সুন্দরীর মাথায়। এত ক্ষণে ঠোঁট চওড়া হল মিস ফিলিপিন্সের। তার পরেই বিতর্কে রাশ টানতে দুম করে শেষ হয়ে গেল এ বারের বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতা। মিস ইউনিভার্স হিসেবে মিস ফিলিপিন্স আর হাঁটার সুযোগটুকুও পাননি।

বিতর্ক অবশ্য এখানেই থামছে না। উপস্থাপক ক্ষমার পর ক্ষমা চাইলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে চলছে তুমুল সমালোচনা। কারণ স্টিভের ভুলের শেষ বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার মঞ্চেই নয়, ক্ষমা চাইতে গিয়ে টুইটারেও এক প্রস্ত ভুল-বিভ্রাটে জড়িয়ে পড়েন তিনি। মিস ফিলিপিন্স এবং মিস কলম্বিয়ার কাছে ক্ষমা চাওয়ার সেই বার্তায় দু’টি দেশের বানানই ভুল লেখেন তিনি। পরে সেই বার্তা মুছে দিলেও তত
ক্ষণে উপস্থাপকের সেই ভুল টুইটও কয়েক হাজার রিটুইট হয়ে গিয়েছে। স্টিভের এই কাণ্ডকারখানার পরেও মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা আয়োজক সংস্থা অবশ্য তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে বলেছে, ‘‘স্টিভকে কটূক্তি করবেন না। উনি বলেছেন ভুল হয়েছে। আর তাঁর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন। লাইভ সম্প্রচারে মানুষের ভুলে এমন হতেই পারে।’’

এই মঞ্চ থেকে এমন ভুল! আগে অবশ্য ঘটেনি। আনন্দবাজার