Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৩:৪১ ঢাকা, রবিবার  ১৮ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

নলছিটির ব্রিজ
ব্রিজটি ব্যবহারের উপযোগী ছিল তাই মানুষের যাতায়াতে কোন সমস্যা ছিলনা। কিন্তু ভেঙ্গে ফেলে এলজিইডি।

কেন ভালো ব্রিজ ভেঙ্গে-নতুন ব্রিজ নির্মাণ? – প্রতিবাদে মামলা

টেন্ডার ও কার্যাদেশের স্থান পরিবর্তন করে জনগণের দাবি উপেক্ষা করে বিশেষ মহলকে খুশি কিংবা অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার মানসে ৩০ লক্ষাধিক টাকা ব্যায়ে (তদ্কালিন মূল্য) নির্মিত ব্যবহারের উপযোগী একটি ব্রিজ ভেঙ্গে ফেলে সেখানে অপ্রয়োজনে ১ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নতুন গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের চেস্টার অভিযোগ সম্পর্কিত বিষয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মগড় ইউনিয়নের এলাকাবাসির পক্ষে মিঃ গিয়াস উদ্দিন খান ঝালকাঠিস্থ ‘নলছিটি সহকারী জজ আদালতে’ এতদ বিষয়ে এলজিইডির বিরুদ্ধে বুধবার ৩১ মে একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করেছেন। যার মামলা নং- ৮৪/২০১৭। এর প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন।

সরকারি অর্থ অপচয় করে ব্যবহার উপযোগী/ভালো ব্রিজ ভেঙ্গে নতুন ব্রিজ কেন এবং কার স্বার্থে নির্মিত হচ্ছে? এ বিষয়ে মানুষের ভরসার যায়গা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান চালালে আসল রহস্য উদ্ঘাটিত হবে আশাবাদী স্থানীয় জনগণ।

এই সেই ৩০ লক্ষাধিক টাকা ব্যায়ে (তদ্কালিন মূল্য) নির্মিত ব্যবহারের উপযোগী ব্রিজটি, যা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।

এ ঘটনা সম্পর্কে সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে সংবাদদাতা জানিয়েছেন, নলছিটি উপজেলার মগড় ইউনিয়নের ষাটপাকিয়া ফেরীঘাটের পূর্ব দিকের খালে বর্তমানে যে ব্রিজটি আছে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আর সে কারণেই স্থানীয় এমপি তথা শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর নির্দেশনা/পরামর্শে ১ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ঐখানের জন্য গার্ডার ব্রীজটি নির্মানের টেন্ডার হয়।

কিন্তু টেন্ডার ও কার্যাদেশ অনুযায়ী ব্রীজটি সেখানে নির্মান না করার পাঁয়তারার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও একটি কুচক্রি মহল। ওই মহলটি নির্ধারিত স্থানের চেয়ে ১ কিলোমিটার দূরে ব্রীজটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। অথচ সেখানে ত্রিশ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্যবহারের উপযোগী একটি ব্রীজ রয়েছে/ছিল।

এলাকাবাসির অভিযোগ সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ত্রিশ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে আগের নির্মিত ব্যবহার উপযোগী ব্রীজটি তরিঘড়ি করে ভেঙে ফেলে সরকারি অর্থের অপচয়/ক্ষতিসাধন করেছে ওই চক্রটি। এবং সেখানে ১ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকার গার্ডার ব্রিজটি নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে।

উল্লেখ্য, বিগত ১ মার্চ ওই ব্রীজটি নির্মাণের টেন্ডার হয়। টেন্ডারে মেসার্স এমটি বিল্ডার্স নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। এরপরে এলজিডির নির্বাহী প্রকৌশলী ব্রীজ নির্মানের এলাকা পরিদর্শনে এলে এলাকার জনসাধারণ টেন্ডার ও কার্যাদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরুর আহ্বান জানান। তিনি তখন কিছু যৌক্তিকতা এলাকাবাসিকে তুলে ধরায় আলোচনাক্রমে পুরাতন ব্রীজটি যেখানে আছে ঠিক সেখান থেকে পঞ্চাশ গজ উত্তর দিকে নতুন ব্রীজটি নির্মাণের স্থান নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এরপরে ১৮ মে ফের সরেজমিনে আসেন প্রকল্প পরিচালক। তিনি জানান নির্ধারিত স্থান থেকে এক কিলোমিটার দূরে ব্রিজটি নির্মান করা হবে। অথচ তিনি যেখানে ব্রীজটি নির্মানের সিদ্ধান্তের কথা জানান সেখানে ব্যবহারের উপযোগী ত্রিশ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ব্রীজ রয়েছে/ছিল। এলাকার জনসাধারণের মধ্যে এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অবশেষে জনতার দাবি উপেক্ষা করে রহস্যজনক কারণে ওই ব্যবহার উপযোগী ব্রীজটি তরিঘড়ি করে ভেঙে ফেলা হয়। এলাকাবাসির অভিযোগ স্থানীয় প্রভাবশালী কাউকে খুশি করতেই কিংবা অসৎ ভাবে লাভবান হওয়ার কারণে যাতায়াতের উপযোগী/ভালো ব্রীজটি ভেঙে ফেলেন এবং সেখানেই নতুন ব্রীজটি নির্মানের পাঁয়তারা করছেন।

এখানেই ছিল ৩০ লক্ষাধিক টাকা ব্যায়ে (তদ্কালিন মূল্য) নির্মিত ব্যবহারের উপযোগী ব্রিজটি, যা ভেঙ্গে ফেলেছে।

এ বিষয়ে  এলাকাবাসির অভিযোগ/আপত্তির কারণ হল প্রথমতঃ এলজিইডি যেখানে ব্রিজটি করতে চাচ্ছে সেখানে যাতায়াত/চলাচলের উপযোগী ব্রিজ ছিল, তাই পদক্ষেপটা ছিল উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও নিষ্প্রয়োজন। আর দ্বিতীয়তঃ ব্রিজটি সেখানে করা হলে এলাকাবাসির ১ কিলোমিটার ঘুরে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হবে। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও স্কুলের শিশু ছাত্রছাত্রীদের চরম কষ্ট পোহাতে হবে। তা ছাড়াও হাজার হাজার গ্রামবাসী মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ নেমে আসবে। তৃতীয়তঃ এ  ছাড়াও নতুন ব্রিজের কারণে নতুন সড়ক নির্মাণের প্রশ্নও দেখা দিবে যা সময় সাপেক্ষ ও সরকারি অনুমোদনের বিষয় জড়িত আছে।

বর্তমানে ব্রীজ নির্মানেকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে শিল্পমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। এলাকাবাসির দাবির যথার্থতা বিশ্লেষণ করে জনপ্রতিনিধিরাও আপত্তি জানিয়েছেন। কিন্তু কুচক্রি মহলটি কিছুতেই থামছেনা। তাই গতকাল এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে বাধ্য হয়।

এ ব্যাপারে বক্তব্য নেয়ার জন্যে ঝালকাঠি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে মোবাইলে চেস্টা করা হলেও সংবাদদাতার ফোন রিসিভ করেন নি তিনি।

জনসাধারণের দাবি ব্রীজটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়ে সরকারের আর্থিক ক্ষতির নেপথ্যে প্রভাবের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কোনপ্রকার অনৈতিক কারণ রয়েছে কিনা তা দুর্নীতি দমন কমিশন একটু খতিয়ে দেখলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।