Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৭:০৫ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৫ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ২৭ মার্চ

আদালত অবমাননায় খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের ব্যাখ্যার বিষয়ে আগামী ২৭ মার্চ পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।

রোববার সকালে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন।

এর আগে উচ্চ আদালতের তলবে সকাল ৯টার আগেই কামরুল ইসলাম ও মোজাম্মেল হক আদালতে হাজির হন।

তাদের উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ব্যক্তি যতই ক্ষমতাবান হোন না কেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আইন সবার জন্য সমান। এখানে বাঁকা পথে চলার কোনো সুযোগ নেই, সব সময় সোজা পথে চলবে।’

দুই মন্ত্রীর ব্যাখ্যার বিষয়ে আদালত বলেন, ‘প্রকাশ্যে আদালত নিয়ে অবমাননার বিষয়ে দুই মন্ত্রীকে প্রেস ব্রিফিং করে বক্তব্য প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছিল, তারা তা করেননি।’

এছাড়া দুই মন্ত্রী যে লিখিত জবাব দিয়েছেন, তাতে বক্তব্যের সমর্থনে বিস্তারিত বলার চেষ্টা করেছেন, যার কোনো প্রয়োজন ছিল না বলেও আদালত উল্লেখ করেন।

পরে আগামী ২৭ মার্চ আবারও দুই মন্ত্রীকে আদালতে হাজিরের আদেশ দিয়ে শুনানি আজকের মত মুলতবি ঘোষণা করেন আদালত।

আদালতে কামরুল ইসলামের পক্ষে আবদুল বাসেত মজুমদার ও মোজাম্মেল হকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক।

এর আগে গত ১৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক আদালতে উপস্থিত হলেও সরকারি কাজে বিদেশে থাকা খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ছিলেন না।

ওইদিন তাদের আইনজীবীদের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শুনানি মুলতবি করে ২০ মার্চ পুনর্নির্ধারণ করেন।

দেশের সর্বোচ্চ আদালত নিয়ে কামরুল ইসলাম ও মোজাম্মেল হকের বক্তব্যে স্তম্ভিত হয়ে ৮ মার্চ আপিল বিভাগ তাদের তলব করেন।

একই সঙ্গে এই দু’জনের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

আদেশে বলা হয়, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রচারিত কিছু সংবাদে বিচার বিভাগ নিয়ে অশোভন ও অবমাননাকর মন্তব্য দেখে আদালত স্তম্ভিত। এসব মন্তব্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল বলে আদালত মনে করেন।

এরপর দুই মন্ত্রী তাদের বক্তব্যের জন্য আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, মীর কাসেম আলীর রায় ঘোষণার আগে গত ৫ মার্চ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আলোচনা সভায় সরকারের ওই দুই মন্ত্রী প্রধান বিচারপতিকে জড়িয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন।