Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:২৯ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২২শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

রুহুল কবির রিজভী
রুহুল কবির রিজভী, ফাইল ফটো

দুই মন্ত্রীর বক্তব্য ‘ফেনীর হাজারী কালচারে’র বহিঃপ্রকাশ

প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে সরকারের দুই মন্ত্রীর বক্তব্য ‘ধৃষ্টতাপূর্ণ, উস্কানিদানকারী, দূরভিসন্ধিমূলক চক্রান্তের পথে অগ্রসর হওয়া’ আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি।

রোববার নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের এ অবস্থান তুলে ধরেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির সরে যাওয়া উচিত। তিনি বিএনপি-জামায়াতের সুরে কথা বলছেন’- খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল এবং মুক্তিযোদ্ধা বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের এ বক্তব্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর নগ্ন হস্তক্ষেপের শামিল।

দুই মন্ত্রীর বক্তব্য ‘ফেনীর হাজারী কালচারে’র বহিঃপ্রকাশ দাবি করে রিজভী বলেন, ‘দেশে এখন শুধু বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না নিতে পেরে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও নেতারা হুমকি দিচ্ছেন।’

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল প্রধান বিচারপতি অতিকথন করেন উল্লেখ করে ক্ষোভ ঝেড়েছেন। তাহলে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক কী এই আওয়ামী শাসনামলে তার বিচারিক জীবনে যেভাবে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন, বিচারের নামে দেশের গুণী ব্যক্তিদের নির্যাতন করেছেন, সেটাকে জনগণ কী হিসেবে গ্রহণ করেছেন, সেটা কী তিনি কখনও উপলব্ধি করেছেন?’

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মীর কাসেম আলীর আপিল মামলা শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং তদন্ত সংস্থা যে গাফিলতি করেছে, এজন্য তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনায় খুবই মর্মাহত। মামলার এভিডেন্স দেখলে, এগুলো পড়লে আমাদের খুব কষ্ট লাগে। মামলাগুলো যখন আমরা পড়ি, তখন আমাদের গা ঘিনঘিন করে তাদের মামলা পরিচালনা দেখে। সব মামলায় এটা হয়ে আসছে।’

প্রধান বিচারপতির এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার রাজধানীতে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত এক সভায় খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক মীর কাসেমের মামলা থেকে প্রধান বিচারপতিকে সরে যাওয়া এবং এই আপিল মামলা পুনরায় শুনানির দাবি জানান।