ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:৪৭ ঢাকা, বুধবার  ১৫ই আগস্ট ২০১৮ ইং

দুই ডিসিসি লুটপাট করে ৫০ কোটি টাকার মালিক ‘সুপারভাইজার’!

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের রাজস্ব সুপারভাইজার মোঃ আব্দুল খালেক। যিনি ‘কর কর্মকর্তাদের’ সাথে যোগসাজশে ও আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে লুটপাট চালিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্ধ শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার রাজধানী ঢাকার বুকে ৬ তলা ও ৫ তলা বিশিষ্ট তিনটি বাড়ি আছে। সেই সঙ্গে তার আছে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ২টি গাড়িসহ প্রচুর টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স।

উত্তর সিটি করপোরেশনের মিরপুর জোন-২ কার্যালয়ের রাজস্ব সুপারভাইজার হচ্ছেন এই আব্দুল খালেক। এর আগে তিনি অ-বিভক্ত ডিসিসির  (নগর ভবণ যেটা বর্তমান দক্ষিণ সিটি করপোরেশন) গুলশান জোনের কর্মচারী ছিলেন। অল্প কিছু দিন আগেও তিনি স্বল্প বেতনভুক্ত কর্মচারী ছিলেন, একজন ক্ষুদ্র কর্মচারী থেকে তৃতীয় শ্রেণীর মর্যাদায় ১৪তম গ্রেডে রাজস্ব সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন তা-ও বেশি দিন হয়নি। কিন্তু এই স্বল্প বেতনের চাকুরী করেই এখন নামে-বেনামে নগদ সহ আনুমানিক ৫০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক তিনি। তিনি ঢাকায় তিনটি বাড়ি, গাড়িসহ গড়ে তুলছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। এছাড়াও রয়েছে প্রচুর টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স ও ব্যবসা। আব্দুল খালেক ঢাকার উত্তর বাড্ডার মিস্ত্রিটোলা এলাকায় নজরমাহমুদ রোডে ২ ইউনিট বিশিষ্ট ৬ তলার দুইটি বাড়ি (বাড়ি নং- শ-৯৩/১ এবং শ-১১০ ) গড়ে তুলেছেন। এছাড়া উত্তর বাড্ডা সাতারকূল রোডে আলীর মোড়ে ২ ইউনিট বিশিষ্ট ৫ তলা বাড়িটিও (বাড়ি নং-২৮৭) তার। সেই সঙ্গে আছে ব্যক্তিগত ও পারিববারিক দুইটি গাড়ি (গাড়ি গুলোর রজিঃ নম্বর হচ্ছে- ঢাকা- মেট্রো-গ-২৭-৯৩১৯ এবং ঢাকা- মেট্রো-গ-৩১-০২৪৬)। যা তার পদ/পদবী বিবেচনায় আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সুতরাং অবৈধ সম্পদই বলা চলে।

আরও জানাযায়, আব্দুল খালেক ঢাকার কর অঞ্চল-৪ এর সার্কেল-৭১ এ টিআইএন-১৬৭৭৪১৮১৫০৪০ এর অনুকূলে আয়কর দিয়ে থাকেন। কিন্তু আয়কর প্রদানের ক্ষেত্রেও তিনি তার আয়কর ফাইলে বাড়ি, গাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স ঐসব সম্পদের কথা গোপন করে আয়কর ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছেন। তার গড়ে তোলা এ অবৈধ সম্পদের খোঁজে যথাযথ ভাবে অনুসন্ধান চালালে তার নামে-বেনামে থাকা জানা-অজানা আরও অনেক সম্পদের খোঁজ পাওয়া যেতে পারে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যার/যাদের যোগসাজশে ও আশ্রয়-প্রশ্রয়ে লুটপাট চালিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন এই আব্দুল খালেক। সেই আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতাদের খুঁজে বের করে তাদের সম্পদেরও অনুসন্ধানের ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া আবশ্যক।

আর আব্দুল খালেকের অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার পিছনে সহযোগী হচ্ছেন তার বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্তা ব্যক্তি/ব্যক্তিরা। তার(খালেকের) বিভাগীয় কর্তা ব্যক্তির পদবী হচ্ছে ‘কর কর্মকর্তা’। এটা সবাই জানে কোন কর্মচারীর পক্ষে তার বস্ এর সাথে লাইন-ঘাট ভাগ বাটোয়ারার সম্পর্ক না থাকলে দুর্নীতি করে টাকা উপার্জন সম্ভব নয়। আর এটাও জানে ঊর্ধ্বতন কর্তা সৎ হলে অধীনস্থ কর্মচারী অন্যায় ও অবৈধ সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করতে পারে না। সেই বিবেচনায় সুপারভাইজার খালেকের চাকুরী জীবনের বর্তমান বস্ “কর কর্মকর্তা মিঃ আলিম” সহ পূর্বতন সকল বস্ এর সম্পদের খোঁজ খবরের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান চালালে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসার সম্ভাবনা আছে। স্বাভাবিক ভাবেই এখানে সন্দেহের দানা বাঁধতেই পারে অধীনস্থ অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী অর্ধ শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলে তার ঊর্ধ্বতন বস্ কতদূর কি করেছেন- কিংবা করেন নি?  সেটা খতিয়ে দেখা জরুরী। যদিও খালেকের বস্ “কর কর্মকর্তা মিঃ আলিম” এর বিরুদ্বে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, দুদক থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন তিনি, আমরা তার বিরদ্বেও অনুসন্ধান চালাচ্ছি আশারাখি অতি শীঘ্রই খালেকের মতো মিঃ আলিম এর ইতিহাস করপোরেশন ও জনগণ জানতে পারবেন।

এ ব্যপারে কথা বলার জন্য মিরপুর জোন-২ অফিসে যোগাযোগ করে সুপারভাইজার খালেক কে পাওয়া যায়নি। খালেকের বস্ “কর কর্মকর্তা মিঃ আলিম” কে মুঠোফোনে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি শীর্ষ মিডিয়াকে বলেন, ওনি( খালেক) ডিউটিতে বাহিরে আছেন। আনুমানিক ২ বছর হয় মিরপুর জোনে এসেছেন খালেক। তার আগে গুলশান জোনে ছিলেন। তার চাকুরীর বয়স প্রায় ১৮-২০ বছর হবে। খালেক রেভিনিউ সুপারভাইজার পদে ১৪ তম গ্রেডের একজন কর্মচারী। খালেক এর মোবাইল নম্বর তিনি জানেন না বলেও জানান।

মোবাইল নম্বর না জানাটা আমাদের কাছে মনে হয়েছে রহস্যজনক, যা পরোক্ষ ভাবে খালেকের দুর্নীতিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় ও সমর্থনের ইঙ্গিত বহন করে তথা তাকে রক্ষার অপ-প্রয়াসের অংশও বটে। যদিও কৌশলগত ভাবে খালেকের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা গেলেও একাধিকবার কল করে তার বক্তব্য গ্রহণের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এমতাবস্থায়, সিটি করপোরেশনের উচিত হবে বিভাগীয় তদন্ত করা। সুতরাং, তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্ট রাজস্ব বিভাগের কর্মচারীদের  প্রত্যাহার করে প্রধান কার্যালয়ে ন্যস্ত করন পূর্বক কি পন্থায় এবং কি কি অবৈধ সুযোগ দিয়ে অবৈধ অর্থ উপার্জন করে করপোরেশনকে রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত করল সেটার তদন্ত করা। যেহেতু, স্বপদে ও বর্তমান কর্মস্থলে বহাল থাকা অবস্থায় তদন্ত কাজে প্রভাবিত করার সমূহ সম্ভাবনা থেকেই যায়। কারন অবৈধ সুযোগ গ্রহণকারীরাই অবৈধ সুযোগ গ্রহণের বিনিময়ে অভিযুক্ত /অভিযুক্তদেরকে দুর্নীতিতে সহায়তা করে আসছে বলেই অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। সেই অবৈধ সুযোগ থেকে বঞ্চিত তথা- ঘটনা ফাঁস হওয়ার আশংকায় অবৈধ সুযোগ গ্রহণকারীরা অভিযুক্ত/অভিযুক্তদের রক্ষার্থে তাদের পক্ষে অবস্থান গ্রহণটাই স্বাভাবিক। ফলে সুষ্ঠু সঠিক নিরপেক্ষ তদন্তে ব্যঘাত সৃষ্টির আশঙ্কা থেকেই যায়। সেহেতু,  সংশ্লিষ্ট রাজস্ব বিভাগের কর্মচারীদের অনতি বিলম্বে প্রত্যাহার পূর্বক প্রধান কার্যালয়ে ন্যস্ত করে তদন্ত করাটাই হবে যুক্তিযুক্ত।